স্বপ্নের ফসল পচে নষ্ট দুশ্চিন্তায় কৃষক
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া আর শ্রমিক সংকটে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন ফুলছড়ি উপজেলার বোরো চাষিরা। একদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, অন্যদিকে দেখা দিয়েছে ধান কাটা-মাড়াইয়ে শ্রমিক সংকট।এ অবস্থায় পাকা ধান ঘরে তুলতে না পারায় চোখের সামনেই পচে নষ্ট হচ্ছে কৃষকের স্বপ্নের ফসল।
সরেজমিনে ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালি,উড়িয়া, গজারিয়া এবং কঞ্চিপাড়াসহ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয় গিয়ে দেখা যায়, চারিদিকে থৈ থৈ পানি। কোথাও আবার হাঁটু পানি। এরইমধ্যে ধান কাটছেন কৃষকরা। মাঠভরা পাকা ধান পড়ে আছে পানির নিচে। গেল কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি, মেঘলা আকাশ, আর শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো ধান ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষকরা। ঝড়ো বাতাসে পাকা, আধাপাকা ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে, অধিকাংশ এলাকার সব ধান ডুবে গেছে। রোদ না থাকার ফলে চিটা ধরে ধান নষ্ট হচ্ছে।
কৃষক শরিফ উদ্দিন বলেন, চিন্তা করচ্যি, আগামীবার থাকি আর দিয়ে বাড়িতে আনতে ৫শ টাকা খরচ হয়েছে। এরপর মাড়াই বাবদ খরচ হয়েছে ৭শ' টাকা। তিনি আরো বলেন, এই ২৮ শতক জমি তৈরি করতে প্রথমে হাল ও পানি বাবদ খরচ হয় ৫শ' টাকা। এরপর ৩ কেজি ধানের বীজ বাবদ ৭৫০ টাকা, রোপণ বাবদ ২ হাজার ২শ' টাকা, পানি সেচ বাবদ ২১শ' টাকা, ফসল নিড়ানি বাবদ ১ হাজার টাকা এবং সার ও কীটনাশক বাবদ খরচ হয়েছে ১৫শ' টাকা। মোট খরচ বিঘায় ১২ হাজার ৭৫০ টাকা। ধান আসবে আনুমানিক ১৫ মণ। ২৮ জাতের এই ধানের বর্তমান মূলা মণপ্রতি ৭শ' টাকা হলে ১৫ মণ ধানের দাম হয় ১০৫০০টাকা
ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালি ইউপির দক্ষিণ বুড়াইল গ্রামের বাসিন্দা ও কৃষক আব্দুল মিয়া বলেন, আকাশত মেঘ দেখলেই, খালি আল্লাহ আল্লাহ করি। কয়েকদিনের ঝরিতে (বৃষ্টি) ক্ষ্যাতত পানি জমি গেছে। এক মণ ধান ব্যাচি একটা কামলা (শ্রমিক) পাওয়া যায় না। মুই আর ধানই আবাদ করবেনম বাবা।
হরিপুর গ্রামের বাবর আলীর ১০ বছরের শিশু সন্তান রিয়াজ কাঁধে তুলে নিয়েছে ধান কাটা মাড়াইয়ের কাজ। এ প্রতিবেদককে রিয়াজ জানায়, বাবা অসুস্থ। অনেক কষ্টে দুইজন শ্রমিক পেয়েছি। তাই বাধ্য হয়ে তাদের সঙ্গে আমিও ধান কাটার কাজ করছি।
পুর্ব ছালুয়া গ্রামের বৃদ্ধ আমিনুল ও তার মেয়ে নাসিমা আক্তার ধান কেটে পানিতে ভাসিয়ে নিয়ে আসছেন। অনেকটা অসহায়ত্ব প্রকাশ করে তারা বলেন, দুই দিন ধরে কামলা (শ্রমিক) খুঁজেছি। পাইনি। যদিও পাওয়া যায়, তাও আবার মজুরি ৭০০ টাকা চায়। বৃষ্টির পানিতে পাকা ধান ডুবে গেছে। নিরুপায় হয়ে মা-মেয়ে মিলে ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছি। পেট তো বাঁচাতে হবে তাই না? সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের কুমারপাড়া গ্রামের কৃষক এনামুল হক বলেন, ২৮ শতক জমির ধান ৩৫শ' টাকা দিয়ে কেটে নিয়েছি। সেই ধান ট্রাক্টর হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেন কয়েকজন কৃষক।
চলতি বোরো মৌসুমে ফুলছড়ি উপজেলায় ৬০০ হাজার ৭০০হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ হয়েছে। এতে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪১ হাজার ৪৫১ টন। তবে ফসল তলিয়ে যাওয়ার কারণে কিছু ফসল নষ্ট হলেও সার্বিক ফলন ভালো হয়েছে। বলে জানিয়েছে কৃষি অফিস।
ফুলছড়ি উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ মিন্টু মিয়া বলেন, মাঠের ৭৫ শতাংশ ধান পেকে গেছে। ৭০ শতাংশ জমির ধান কাটা প্রায় শেষ। প্রাকৃতিক দুর্যোগে অনেক জায়গায় পাকা ধান ডুবে গেছে। আমরা সেগুলো হারভেস্টার মেশিন দিয়ে দ্রুত কেটে ফেলার পরামর্শ দিয়েছি।
এমএসএম / এমএসএম
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি বেঁচা-কেনার রমরমা বাণিজ্য, একেক জনের দখলে একাধিক
বড়লেখায় নবাগত ইউএনও’র সাথে নিসচা’র মতবিনিময়
নন্দীগ্রামে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন এমপি মোশারফ
মান্দায় উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা
গোপালগঞ্জে শ্রেষ্ঠ কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্মাননা পেল টুঙ্গিপাড়া সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ
মুকসুদপুরে নাট্যজন কল্যাণ দাসের স্মরণ সভা
টাঙ্গাইলে আধুনিক মৌমাছি পালন ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
জনগণের আস্থা ও তৃণমূলের মতামতেই উন্নয়নের পথ—কাউনিয়ায় এমপি আখতার হোসেন
ধুনটে মাদ্রাসা শিক্ষক ও মডেল মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে ছাত্রকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, এলাকায় তোলপাড়
শালিখায় নবাগত ইউএনও ও ওসি'র সঙ্গে বিএনপি নেতাদের সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়
পিরোজপুরে শিশু শ্রম ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অবহিতকরণ সভা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান
মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে চার’শ পিছ ইয়াবা সহ আটক -২
কুষ্টিয়া সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে ভারতীয় মাদক ও অবৈধ কারেন্ট জাল উদ্ধার, আটক ১
Link Copied