ঢাকা বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

পাবনায় গ্রাহকদের প্রায় ৮ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা শিক্ষক, তুলছেন বেতনও


পাবনা প্রতিনিধি  photo পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২-৬-২০২২ দুপুর ৪:৫৩

পাবনার সুজানগরের মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে সহস্রাধিক গ্রাহকের প্রায় ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে এলাকা থেকে উধাও হয়ে গেছেন অবৈধ এমএলএম কোম্পানি জেকা বাজার লিমিটেডের ফাইন্যান্স ডিরেক্টর সাইদুল বাশার এবং এজেন্ট আনিসুর রহমান।

কোম্পানিতে বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত পেতে ওই প্রতারক চক্রের হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে রোববার (১২ জুন) মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন প্রতারণার শিকার ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা। উপজেলার সাগরকান্দি ইউনিয়নের খলিলপুর জেকা বাজার লিমিটেড স্থানীয় শাখার সামনে সুজানগর-কাজিরহাট রাস্তায় দাঁড়িয়ে ঘন্টাব্যাপি এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা। 

প্রতারণার শিকার গ্রাহকরা জানান, উচ্চ মুনাফার লোভে অনেকেই নিজেদের পেনশনের টাকা, জমি বিক্রির টাকা, ব্যাংকে জমানো টাকা উত্তোলন করে, বিভিন্ন এনজিও থেকে লোন করে, বিদেশ থেকে কষ্ট করে অর্জিত টাকা ওই প্রতিষ্ঠানে বিনোয়োগ করেন।

খলিলপুর গ্রামের মঞ্জিল হাসান নামে এক ব্যক্তি বলেন, আমি অনেক কষ্ট করে ৩২ লাখ টাকা রেখেছিলাম। কিন্তু সব শেষ হয়ে গেল মনে হয়। আমার মতো স্থানীয় এক হাজারের অধিক গ্রাহকের মাথায় হাত, দিশাহারা প্রায় সবাই।

মো. মোজ্জামেল হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী জানান, প্রতি মাসে এক লাখ টাকায় ৩০ হাজার টাকা লাভ দেয়ার শর্তে ৪১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলাম। এখন কী হবে জানি না।

মনসুর রহমান নামে ক্ষতিগ্রস্ত অপর এক গ্রাহক বলেন, বেশি লাভের আশায় স্থানীয় গ্রামের বাশার ও আনিস মাস্টারের মাধ্যমে আমি ৭১ লাখ টাকা এমএলএম কোম্পানি জেকা বাজারে বিনিয়োগ করেছি। যে কোনো মূল্যে টাকা ফেরত পেতে চাই।

জাহাঙ্গীর আলম ও নূর আলী নামে খলিলুপর উচ্চ বিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষক জানান, এক লাখ টাকায় প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা করে লাভ হবে- এই প্রলোভনে পড়ে শিক্ষক আনিসের মাধ্যমে আমরা এমএলএম কোম্পানি জেকা বাজারে কয়েক লাখ টাকা বিনিয়োগ করি। কিন্তু অবৈধ এই কোম্পানিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে স্থানীয় গ্রাহকদের চাপে শিক্ষক আনিস মাস্টার ও বাশার কয়েক মাস আগে এলাকা থেকে উধাও হয়ে গেছেন। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে জেকা বাজার লিমিটেড নামে অবৈধ একটি এমএলএম কোম্পানির পাবনা  জেলার ফাইন্যান্স ডিরেক্টর হিসেবে সাইদুল বাশার ও এজেন্ট হিসেবে খলিলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষক আনিসুর রহমান যুক্ত হন এবং সুজানগর উপজেলা সাগরকান্দি ইউনিয়নের খলিলপুরে কোম্পানিটির পাবনা জেলা শাখার প্রধান কার্যালয় করা হয়। ওই শাখার মাধ্যমে তারা দু’জন স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের কাছ থেকে গত দেড় বছরে উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে প্রায় ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। পরবর্তীতে ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে ওই কোম্পানির প্রতারণার বিষয়টি ধরা পরার পর গ্রাহকেরা টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য চাপ দিলে কোম্পানির স্থানীয় খলিলপুর শাখাটি বন্ধ করে কোম্পানির ফাইন্যান্স ডিরেক্টর সাইদুল বাশার ও এজেন্ট আনিস মাস্টার এলাকা থেকে উধাও হন।

এদিকে গত প্রায় ৬ মাসেও গ্রাহকরা তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত না পাওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। এছাড়াও প্রায় ৪ মাস ধরে বিদ্যালয়ে না গিয়েও নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্ত খলিলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষক আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে।

বিদ্যালয়ে না গিয়েও নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলনের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে খলিলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মতিনুজ্জামান জানান, গত মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে ৩ দিনের ছুটির দরখাস্ত দিয়ে প্রায় ৪ মাস ধরে বিদ্যালয়ে না এসেও নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন শিক্ষক আনিসুর রহমান। একাধিকবার ওই শিক্ষককে মোবাইলে বিদ্যালয়ে নিয়মিত আসার জন্য বলা হলেও এখন পর্যন্ত তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হচ্ছেন না। 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ওই কোম্পানির এজেন্ট আনিসুর রহমান মোবাইল ফোনকলে জানান, আমি নিজেসহ আমার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের প্রায় ২ কোটি টাকা অবৈধ জেকা বাজারে বিনিয়োগ করে এখন দিশাহারা। গ্রাহকদের চাপে আমি গত কয়েক মাস ধরে খলিলপুর নিজ এলাকায় যেতে পারছি না। এজন্য কোম্পানি থেকে টাকা ফেরত  পেতে ফেব্রুয়ারি মাসের ২০ তারিখে পাবনা আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে কোম্পানির ফাইন্যান্স ডিরেক্টর খলিলপুর গ্রামের সাইদুল বাশারের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। 

আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রওশন আলী জানান, বিষয়টি তিনি স্থানীয় এলাকাবাসীর মাধ্যমে মৌখিকভাবে অবগত হয়েছেন। কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্তের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা  নেয়া হবে। 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি আমি অবগত হওয়ার পরপরই অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিস (শোকজ) প্রদানের নির্দেশনা প্রদান করেছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রওশন আলী জানান, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানলাম। খোঁজ নিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এমএসএম / জামান

নোয়াখালীর কবিরহাটে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ

ঘোড়াঘাটে দাদী হত্যায় জড়িত নাতীসহ গ্রেফতার-৩

উল্লাপাড়ায় ১২’শ লিটার ডিজেল জব্দ

পটুয়াখালীতে কালেক্টেরেট স্কুল এন্ড কলেজের গেট ভেঙে পড়ে শিক্ষার্থী আহত

মাদারীপুরে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উদযাপন

মধুখালীতে ছায়া সংসদে বিতর্ক উৎসবে বিজয়ী দল সরকারি আইনউদ্দীন কলেজ

ভূরুঙ্গামারীতে চিকিৎসকের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও রাহাজানি:সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবাদ, থানায় অভিযোগ

কুমিল্লায় ভারী বৃষ্টিতে সড়কে হাঁটুপানি, ভোগান্তিতে নগরবাসী

গ্লোবাল অ্যাকশন সপ্তাহ উপলক্ষে আমঝুপিতে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ

নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে মেহেরপুরে ফ্যামিলি সমাবেশ অনুষ্ঠিত

বাঁশখালীতে লোকালয়ে ইটভাটা, আইন লংঘনের দায়ে ২ লাখ টাকা জরিমানা

টাঙ্গাইলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উদযাপন

বগুড়ার শেরপুরের ভবানীপুর বাজার বণিক সমিতির আংশিক কমিটি গঠন