ফুলছড়ির পকরিয়ার বিলে লাল শাপলা ফুলের হাতছানি
ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে বাংলার প্রকৃতিও সাজে নতুন নতুন রূপে। এর মধ্যে বর্ষাকালে প্রকৃতি যেন নবযৌবন ফিরে পায়। সবুজ পাতায় ছেয়ে যায় বৃক্ষরাজি। বিশেষ করে বর্ষাকালে জলজ উদ্ভিদ প্রাণ ফিরে পায়। শাপলা,শালুক, কচুরিপানা আর পদ্মফুলে সজ্জিত হয় খাল-বিল আর নদী। ফুলছড়ি উপজেলা সদরে অবস্থিত পকরিয়াবিলটি এমনই লাল শাপলা ফুলে সজ্জিত হয়ে নিজের সৌন্দর্য বিলিয়ে দিচ্ছে প্রকৃতিপ্রেমীদের মধ্যে।
বর্ষা মৌসুমে এই বিলের চারিদিকে চোখে পড়ে শুধু লাল শাপলা আর শাপলা। বিস্তীর্ণ বিলজুড়ে লাল রঙের শাপলা ফুল দেখলে মন ও চোখ জুড়িয়ে যায়। এমন অপরূপ দৃশ্য ভ্রমণপিপাসুদের হাতছানি দিচ্ছে। শরতের ফুল হলেও পকরিয়া বিলে বর্ষাতেই তার সৌন্দর্য ও শুভ্রতার প্রতীক নিয়ে হাজির হয় লাল শাপলা। প্রকৃতিতে নিজের রূপ বৈচিত্র অকাতরে বিলিয়ে দিচ্ছে ফুটে থাকা এ জলজ ফুল শাপলার উপস্থিতিতে যেন প্রাণ ফিরেছে পকরিয়ার বিল।
শিশুদের উচ্ছ্বল মাখা শৈশবে। ভাসমান একেকটি শাপলার রূপশোভা অভিভূত করে যে কোনো বয়সের মানুষ কে। ছবির মতো সাজানো, হৃদয়কাড়া দৃশ্য আটকে রাখতে পারে না দুরন্ত শৈশবকে। শাপলা ফুলের সৌরভ বিমোহিত করে মনকে।
উদাখালী ইউনিয়নের ছালুয়া গ্রামের শাকিল আহম্মেদ। তিনি সকালের সময় এর প্রতিনিধি কে বলেন, আমারা অনেক দিন থেকেই দেখি, এ বিলে বর্ষাকালে লাল শাপলা ফুল ফোটে। আমাদের এলাকার
আসেপাশের শিশুরা শাপলাফুল তুলে নিয়ে যায়।
পশ্চিম ছালুয়া গ্রামের বৃদ্ধ কছিম উদ্দিন বলেন, বর্ষা এলেই শাপলা ফুল ফোটে। আমরা ছোটবেলায় শুকনো মৌসুমে অনেক শাপলা গাছের (শালুক) বীজ কুড়িয়ে খেয়েছি। এখন আর বেশি শালুক দেখা যায় না, তবুও বর্ষায় শাপলা ফুলের গাছ জন্মে। স্থানীয় অনেকেই বলেছেন, এক সময় হাটে এ বিলের পদ্মপাতায় শাপলা, শালুক, মাছ, পাট,খাদ্যসামগ্রী বিক্রি করা হতো।এছাড়া ইরি মৌসুমে এখানে ধানের আবাদ হয়। শীত মৌসুমে ধান, শাক, সবজিরও আবাদ হয়। ওই সময় শাপলাগাছের কোনো চিহ্ন দেখা যায় না।
বর্ষা আসার সঙ্গে সঙ্গে জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে বিলটি। তখনই দেখা যায়, হাজার হাজার লাল শাপলাফুল ফুটে আছে। আষাঢ় থেকে শুরু করে ভাদ্র মাস পর্যন্ত এ শাপলা ফুল ফুটে থাকে। স্থানীয় স্কুলশিক্ষক বিলটি রক্ষণা-বেক্ষণের দাবি জানিয়ে বলেন, বছরের অন্তত চার মাস বিলটিতে লাল শাপলফুল ফুটে এবং সৌন্দর্য ছড়ায়।এ সময়টায় শাপলাফুল গুলো যেন কেউ না তোলে।
নয়নাভিরাম এমন দৃশ্য গ্রামীণ জীবনে ডেকে আনে একটু প্রশান্তি আর কারও কারও জীবনে শাপলা ফুল জড়িয়ে আছে কতই না স্মৃতি। মঙ্গলবার বিলটি ঘুরে দেখা যায়, ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালি ইউনিয়নের ৫-৬ নাম্বার ওয়ার্ডের নিভৃত পল্লীতে মৌজায় অবস্থিত বিস্তৃর্ণ বিলজুড়ে সাদা ও লাল রঙের শাপলাফুল ফুটে আছে। পকরিয়ার বিল নামে পরিচিত এ বিলের পশ্চিমে পশ্চিম ছালুয়া গ্রাম। এ বিলের আবদ্ধ পানিতে শাপলা- শালুক আর পদ্মফুলের ছড়াছড়ি। পদ্মা ফুল না ফুটলেও শাপলা ফুটেছে বিলটিতে। সারি সারি শাপলা ফুলের সৌন্দর্য বিনোদনপ্রেমীদের মুগ্ধ করছে। তবে প্রতিদিন শত শত ফুল ছিঁড়ে নিয়ে বিলটির সৌন্দর্য নষ্ট করছেন অনেকেই।
ভার্চুয়াল সামাজিক সংগঠন 'সূর্য ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এর মডারেটর আতিক আসলাম জানান, জলজ উদ্ভিদ লাল শাপলা ঔষধি গুণসহ বহু বর্ষজীবী। স্কন্দের মাধ্যমে এর বংশবিস্তার হয়। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ গাছটিও বাড়তে থাকে। একটি গাছে একটি ফুল ফোটে। এটি সাদা,ও লাল রঙের হয়। ফুটন্ত ফুলে মিষ্টি সুগন্ধ থাকে। রাত থেকে সকালের মধ্যে ফুল ফোটে। আর রোদের তীব্রতায় সংকুচিত হয়। রৌদ কমে গেলে আবার প্রস্ফুটিত হয় এই ফুল। বর্ষা মৌসুমে খাল-বিলের পানিতে শাপলা ফুল ফুটতে দেখা যায়। শরৎ ও হেমন্তে লাল শাপলা ফুটে থাকে।
এমএসএম / জামান
সংঘর্ষে তেলবাহী জাহাজের ইঞ্জিন রুমে পানি, অক্ষত ৩৩ হাজার টন ডিজেল
ঠাকুরগাঁও চেম্বার অব কমার্সের নতুন সভাপতি শরীফ
বালাগঞ্জে ওপেন হাউজ ডে'র পরের দিন, বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার ৬ আসামী
দেশকে পরনির্ভরশীল হতে দিবো নাঃ ফারজানা শারমিন পুতুল
চাঁদপুরে গ্যাসের তীব্র সংকট, গ্যাস না পেয়ে সড়ক অবরোধ
মোহনগঞ্জ-তেতুলিয়া বেহাল সড়কে দুর্ভোগ চরমে
নিরাপদ খাদ্য সুনিশ্চিতে খোলা ভোজ্যতেল বিক্রি বন্ধ করতে হবে: জয়পুরহাটে প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী
ধুনটে ধান ব্যবসায়ীদের দখলে মথুরাপুর হাট, যানজট চরমে
মুরাদনগরে ডাক্তারকে ‘ম্যাডাম-স্যার’ না বললেই রোগীদের পোহাতে হয় ভোগান্তি
নাচোল সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের মাসিক সভা ও বনভোজন-সাংবাদিকদের মিলনমেলায় মুখর উজিরপুর দরগা
রায়গঞ্জে চালকলের লাইসেন্স-বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ দিয়ে হুমকির মুখে পরিবেশ কর্মী
রাজস্থলীতে দীর্ঘ দিন ভোগান্তি যাত্রী সেবায় চালু হলো পিক-আপ সার্ভিস গাড়ি
নোয়াখালীতে হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়ে সড়ক সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন
Link Copied