আসছে শীত, খেজুর রস সংগ্রহে প্রস্তুত গাছিরা
ধীরগতিতে এগিয়ে আসছে শীত। সকাল-সন্ধ্যার প্রকৃতিতে পাওয়া যাচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। শীত এলেই রাজশাহীর গ্রামে গ্রামে শুরু হবে খেজুরের রস নামানোর কর্মযজ্ঞ। আর তাই এখন গাছ প্রস্তুতের কাজ শুরু করে দিয়েছেন গাছিরা। মালিকদের কাছ থেকে ইজারা নেয়া শত শত গাছ কেটে রস নামানোর উপযোগী করে রাখছেন তারা। এজন্য ব্যস্ত সময় কাটছে গাছিদের।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় খেজুর গাছ আছে ৭ লাখ ৮০ হাজার। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি গাছ আছে চারঘাট উপজেলায়। সেখানে গাছের সংখ্যা ৩ লাখ ৯৬ হাজার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২ লাখ ৯৯ হাজার গাছ আছে বাঘা উপজেলায় আর পুঠিয়া উপজেলায় খেজুর গাছের সংখ্যা ৮৫ হাজার। বাকি গাছগুলো অন্য উপজেলায়।
শীতকালে রাজশাহীর বাঘা, চারঘাট, তানোর ও পুঠিয়ার বাড়িতে বাড়িতে চলে খেজুরের গুড় তৈরির কর্মযজ্ঞ। প্রতি শীত মৌসুমে প্রায় ৬০ কোটি টাকার ৮ হাজার মেট্রিক টন গুড় উৎপাদন হয় এসব এলাকায়।
গাছিরা মালিকদের কাছ থেকে গাছ ইজারা নিয়ে রস সংগ্রহ করেন। শীত আসার আগেই তারা গাছ ছেটে রস নামাতে প্রস্তুতি শুরু করেন। এখন তাদের সেই কাজ শুরু হয়েছে।
সোমবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে গাছ প্রস্তুতের কাজ করছিলেন বাঘার মনিগ্রাম এলাকার গাছি আবদুস সোবহান। তিনি বলেন, ‘আমার নিজস্ব কোনো গাছ নেই। আমি গাছ ইজারা নিয়ে রস নামাই। এবারও আশপাশের ১২০টি গাছ চুক্তিতে নিয়েছি। প্রতিটি গাছের জন্য মালিককে দিতে হবে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা। এখন গাছগুলো প্রস্তুত করে রাখছি। কয়দিন পরই রস নামবে।’
তানোর উপজেলার আমশো গ্রামের গাছি ফিরোজ আলীও এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন গাছ প্রস্তুতের কাজে। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক বছরই আমি খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করি। সেই রস বাড়িতে নিয়ে যায়। বাড়ির মেয়েরা তাতে জ্বাল দেন। এরপর তৈরি হয় সুস্বাদু খেজুর গুড়। গতবছর ১২৫টি গাছের রস থেকে প্রতিদিন গড়ে ২৫ কেজি গুড় তৈরি হয়েছে। এবার গাছের সংখ্যা ১৪০টি। রস নামাতে শীত আসার আগেই আমি গাছগুলোকে প্রস্তুত করে রাখছি।’
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, রাজশাহীতে মৌসুমভিত্তিক আড়াই হাজার পরিবার খেজুর গাছের উপর নির্ভরশীল। অনেকের নিজের কিছু গাছ আছে। কিন্তু বেশিরভাগ গাছি টাকার বিনিময়ে রস নামানোর জন্য গাছ ভাড়া নেন। গাছিদের বাড়িতে তৈরি গুড় হাটের দিন তারা বিক্রি করেন।
জেলার পুঠিয়ার বানেশ্বর, ঝলমলিয়া এবং বাঘা উপজেলা সদরে খেজুর গুড়ের হাট বসে। হাটে নিয়ে গাছিরা আড়তে গুড় বেচেন। আর আড়ত থেকে গুড় কিনে নিয়ে যান দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা বেপারিরা। শীতকালে এখানকার গাছিদের সুদিন ফিরে আসে। তাই তারা শীতের অপেক্ষায় থাকেন।
ঝলমলিয়া হাটের গুড়ের আড়ত জয় ট্রেডার্সের মালিক সুমন সরকার বলেন, ‘শীতকালে সপ্তাহের দু’দিন ঝলমলিয়ায় গুড়ের হাট বসে। প্রতি হাটে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের ১৫০ মেট্রিক টন গুড় বেচাকেনা হয়। শীতকালের এই গুড়ের কদর ভালো। তাই এই গুড় দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোজদার হোসেন বলেন, রাজশাহীর বাঘা, পুঠিয়া ও চারঘাটের তানোরসহ বিভিন্ন রাস্তার পাশে, পতিত জমি কিংবা ঝোপ-জঙ্গলে প্রচুর খেজুর গাছ রয়েছে। এগুলো গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখে। গাছিরা এখন গাছ প্রস্তুত করতে ব্যস্ত। শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে রস নামতে শুরু করবেন তারা। তখন গাছিদের পুরো পরিবার গুড় তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়বে।
এমএসএম / জামান
চোখের সামনে ভেসে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন
গুজব-অপপ্রচারের প্রতিবাদে ময়মনসিংহে এলজিইডি ঠিকাদারদের গণস্বাক্ষর কর্মসূচি
কুষ্টিয়ায় রাতের আঁধারে গাছ কর্তন, থানায় লিখিত অভিযোগ
বোদায় প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত
রায়গঞ্জে প্রাণিসম্পদ প্রকল্পে ৪ শতাধিক ছাগী পেলো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনে যুবকের মৃত্যু:স্ত্রী সহ গ্রেফতার ২
চাঁদা দাবি, হয়রানি ও হুমকির প্রতিবাদে রাঙ্গামাটিতে ব্যবসায়ীর সংবাদ সম্মেলন
কাপ্তাই সীতা পাহাড়ে জরাজীর্ণ বিদ্যালয়টি শিশুদের পাঠদানের একমাত্র ভরসা
বরগুনার কৃষক দিশাহারা, ঝড় বৃষ্টিতে রবিশস্যর ক্ষতি
বৃষ্টির ভেতরও থামেনি শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন
মাদকবিরোধী অভিযানে রায়পুরায় দুইজনকে কারাদণ্ড
রূপগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে দেশ রূপান্তরের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন