ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬

সাবেক এমপি গাজী জুয়েলকে পেয়ে চাঙ্গা তৃণমূল


চট্টগ্রাম ব্যুরো photo চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত: ৫-৪-২০২৩ দুপুর ২:৪৯

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া আসনের সাবেক এমপি গাজী মোহাম্মদ শাহজাহান জুয়েল নিজ এলাকায় আসার খবরে দীর্ঘদিন ঝিমিয়ে থাকা নেতা কর্মীদের মধ্যে চাঙ্গাভাব সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দলের শতশত নেতা কর্মী সাবেক এমপি গাজী শাহজাহান জুয়েলকে ঘিরে উচ্ছসিত। 
দলীয় কর্মকান্ডে এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে হাজির হওয়ায় পটিয়াসহ পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামে দলীয় নেতা কর্মীদের মধ্যে চাঙ্গাভাব দেখা দিয়েছে। গাজী মোহাম্মদ শাহজাহান জুয়েল দলীয় নেতা কর্মীদের কাছে একজন মেধাবি রাজনীতিবিদ ও ম্যাজিকম্যান হিসেবে খ্যাত। তার যাদুকরী বক্তব্যে দলীয় নেতাকর্মীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মন কয়েক মিনিটের মধ্যে জয় করতে সক্ষম হন বলে তার অনুসারীরা এবং দলীয় নেতাকর্মীরা জানায়। 
জানা গেছে, পটিয়া আসনের সাবেক এমপি গাজী মো. শাহজাহান জুয়েল গত সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার পর রাগে ক্ষোভে দেশ ত্যাগ করলেও বিদেশ থেকে বিএনপির বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন। তারা গাজী মোহাম্মদ শাহজাহান জুয়েলের পক্ষ থেকে দলীয় প্রতিটি কর্মসূচি সফলভাবে পালন করেছে। প্রতিটি কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। দীর্ঘ ৪ বছর পর হঠাৎ করে কানাডা থেকে এসে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক এই নেতা। দেশে আসার পর থেকে নিয়মিত প্রতিদিন দলীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে হাজির হলে শতশত নেতা কর্মী তাকে বরণ করে নিচ্ছেন। গত মাসব্যাপী চট্টগ্রাম শহরের বাসভবনে পটিয়া উপজেলা বিএনপি নেতাদের নিয়ে মতবিনিময় করেছেন তিনি। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বদরুল খায়ের চৌধুরী,  জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মোজাম্মেল হক, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল জলিল চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোনাফ, জেলা বিএনপির সাবেক শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন মাষ্টার, দক্ষিণ জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক জাহেদুল হক, চেয়ারম্যান ইউনুস মিয়া, জেলা কৃষক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম মহিউদ্দিন, বিএনপি নেতা সাহাবু উদ্দীন খোকন, মনছপ আলী, মুজিবুর রহমান, আমিনুর রহমান, ইদ্রিস পানু, মোহাম্মদ আকতার, বশিরুল আলম, পৌরসভা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম, জেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহবায়ক হাজী নজরুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ফজলুল কাদের, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, জেলা যুবদলের সহ সভাপতি আনোয়ার হোসেন মিয়া, হাসমত আলী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী মোহাম্মদ মনির, যুবদল নেতা মিসকাত আহমেদ  আবদুল বারেক, বাহাদুর খাদেমী, রিজুওনাল হক, দিদার, শাহনুর মিয়া, আবু শহীদ রমজান, আবদুল মোমেন, মোহাম্মদ শাহজাহান, মোজাম্মেল হক সোহেল, জসিম উদ্দিন, মুছা সুমন, জমির উদ্দীন, মান্না দেব, মোহাম্মদ ফোরকান, নাজিম উদ্দীন, সাইফুল ইসলাম,  মোহাম্মদ কাইছার, উপজেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী দিদার, সাবেক ছাত্র নেতা এনামুর রশীদ, ছাত্রদল নেতা তারেক রহমান, নাঈম উদ্দীন, মাহাতাব উদ্দীন সবুজ, জাহেদুল ইসলাম সুজন, আবদুল লতিফ, আজাদ,  ইমতিয়াজ,  রিজুওনাল হক রাজু, মোহাম্মদ মারুফ, শফি, আরফাত প্রমুখ। পটিয়া কলেজ  ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক এনামুর রশীদ বলেন, গাজী শাহজাহান জুয়েল পটিয়াবাসী এবং পটিয়ার নেতা কর্মীদের এখনো সব চেয়ে জনপ্রিয় নেতা। উনার  দিক নির্দেশনামূলক এবং গঠনমূলক বক্তব্য শুনার জন্য হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হবে। পটিয়ারসহ চট্টগ্রামের ইতিহাসে কোন রাজনৈতিক দলে উনার মত মেধাবি এবং জনপ্রিয় নেতা জন্ম হয়নি বলে দাবি করেন।
গাজী শাহজাহান জুয়েল পটিয়ার রাজনীতির মাঠে ফিরে আসাতে পটিয়া উপজেলা বিএনপির রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, রাজনৈতিক পটভূমি পরিবর্তনের আভাস পেয়েই নির্বাচনের আগে রাজনীতির মাঠে নেমেছেন জুয়েল। এ প্রসঙ্গে  দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বদরুল খায়ের চৌধুরী বলেন, গাজী মোহাম্মদ শাহজাহান জুয়েল দলীয় নেতা কর্মী এবং পটিয়াবাসীর কাছে জনপ্রিয় একজন নেতা। উনি যেখানে যাবে যেখানে যাচ্ছে সেখানে শতশত নেতা কর্মী স্বেচ্ছায় উপস্থিত হচ্ছে। পটিয়াসহ সারা দেশের মানুষ কোন না কোনভাবে মামলা, হামলা, জেল, জুলুম নির্যাতনের শিকার। সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্ঠি হয়েছে বিএনপির পক্ষ থেকে যে কেউ মাঠে ময়দানে উপস্থিত হলে সাধারণ মানুষের অংশ গ্রহণ থাকে। গাজী জুয়েলের নিজস্ব কিছু ব্যাক্তিত্ব ও জনপ্রিয়তা রযেছে সেগুলো অন্যকোন নেতার কাছে নেই বলে তিনি জানান।
চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া আসনে সাবেক এমপি গাজী মোহাম্মদ শাহজাহান জুয়েল ছাড়াও দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক এনাম, পটিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইদ্রিস মিয়া, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য সৈয়দ শাদাত আহমেদ, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ, দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আলমগীর তালুকদার টিপুসহ কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। 

 উল্লেখ্য ২০০৯ সালে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে সাবেক প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত জাফরুল ইসলাম চৌধুরীকে সভাপতি ও শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল। এরপর থেকেই দক্ষিণ জেলার কমিটিতে না রাখা ও দলের বর্ষপূর্তিসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ করা নিয়ে গাজী শাহজাহান জুয়েলের সমর্থকেরা দফায় দফায় বেশ কয়েকবার দক্ষিণ জেলা বিএনপির বিভিন্ন সভা সমাবেশে হামলা ভাঙচুর চালায়। এরপর ২০১১ সালের দিকে আবার জেলা কমিটি পুনর্গঠন করে গাজী শাহজাহান জুয়েলকে সাধারণ সম্পাদক পদে অন্তর্ভুক্ত করা হলে সেসময়কার রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
২০১৭ সালের ৩ মে পটিয়ার দক্ষিণ জেলা বিএনপির কর্মী সমাবেশে জুয়েল ও এনামুল হক এনামের অনুসারী দুই গ্রুপের রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষে সভা পণ্ড হয়ে যায়। সভাস্থলের মাঝপথ থেকে ফিরে আসেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এরপর সে বছরের ১৭ মে দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় না থেকে কোন্দল সৃষ্টি, ত্যাগী নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক সাংসদ গাজী শাহজাহান জুয়েলকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়।  সাংগঠনিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে না পারায় বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীমকেও সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক গাজী শাহজাহান জুয়েলকে অব্যাহতির পর বিস্মিত হয়েছিলেন দলের লক্ষাধিক নেতাকর্মী। সেসময় দলের এমন কঠোর অবস্থানকে কেউ স্বাগত জানালেও, আবার কেউ দেখিয়েছেন মিশ্র প্রতিক্রিয়া। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির কোন্দল নতুন কোনো ঘটনা না হলেও জেলার অন্যতম শীর্ষ এ নেতাকে দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে এভাবে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম ছিল। দক্ষিণ জেলা বিএনপিতে গাজী শাহজাহান জুয়েলের আধিপত্য অনেকদিন ধরেই। ২০১১ সালে জেলা কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক করা হয় তাকে। পটিয়া থেকে সাংসদও নির্বাচিত হন দুইবার। এ কারণে দক্ষিণ জেলার কমিটিতে নিজের একটি শক্তিশালী বলয় তৈরি করতে সক্ষম হন জুয়েল। ২০১৯ সালের ২ অক্টোবর ৬৫ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় কমিটি। এতে নগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ানকে আহ্বায়ক এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তাক আহমদ খানকে সদস্য সচিব করা হয়।

এমএসএম / এমএসএম

ভূরুঙ্গামারীতে বিদেশে পাঠিয়ে উপকার করার পর হুমকি ও মারধরের অভিযোগ

নালিতাবাড়ীতে স্বপ্নময় মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কম্বল বিতরণ

গলাচিপায় গণভোট জনসচেতনতায় ওপেন এয়ার কনসার্ট

সরিষাবাড়িতে আইন-শৃংখলা ও মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

কোটালীপাড়ায় গণভোট সচেতনতা সৃষ্টিতে শিক্ষক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অবহিতকরণ সভা

ঠাকুরগাঁওয়ে তিন লাখ টাকার ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথবাহিনী যথা যথ ভূমিকা পালন করবে: নৌবাহিনী প্রধান এম নাজমুল হাসান

মাদারীপুর জেলা শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত হওয়ায় সংবর্ধনা

নোয়াখালীতে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভূমি দখল, হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ

সংস্কার ইস্যুতে গণভোট নিয়ে অজ্ঞতা: মনপুরায় নেই তেমন প্রচার-সচেতনতা

জয়পুরহাটে ০১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার শিখা

ঘোড়াঘাটে জুয়া ও মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের ওপর হামলা,গুলিবর্ষণ;গ্রেপ্তার-৫

চাঁদপুরে বাসি খাবার সংরক্ষণ করায় হোটেল মালিকের জরিমানা