জগন্নাথপুরে ১৬ পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন : মানবেতর জীবনযাপন
‘আসমানীদের দেখতে যদি তোমরা সবে চাও,রহিম উদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসূলপুরে যাও।’
না এটা কবি জসিম উদদীনের কবিতার রসূলপুরের বাড়ি নয়। এটা সুনামগঞ্জের ‘জগন্নাথপুর উপজেলা সদরের উপকণ্ঠে অবহেলিত একটি গ্রাম’ রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের ঘোষগাঁও বলাইনগর। এখানকার স্থানীয় বাসিন্দা মো. ছফু মিয়া প্রতিদিন নদীর পাড়ে বসে চেয়ে থাকেন আপন মনে। মাঝেমধ্যে দুঃখের গান ধরেন ‘নদীরে ও নদীরে তুই একটু দয়া কর, ভাঙ্গিস না আর বাপের ভিটা বসতবাড়ি ঘর’। একসময় নদীর পাড়ে তার বাড়ি-ঘর সবই ছিল। রাক্ষুসে নদী গিলে খেয়েছে তার বসতভিটা! ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে তার সাজানো স্বপ্ন। একই ভাবে আরো ১৫টি পরিবার হারিয়েছে তাদের বসতভিটা।
সরেজমিন দেখা যায়, এলাকার প্রধান রাস্তার দুই পাশে দুটি পাড়া নিয়ে একটি গ্রাম ছিল। তন্মধ্যে একটি পাড়ার ১৬টি পরিবারের বসতভিটা সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে মারাত্মক হুমকির মধ্যে পড়েছেন ভিটেহারা আলাই মিয়া, ছফু মিয়া, হুসন মিয়া, দরছ মিয়া, সজ্জাদ মিয়া, সুফিয়া বেগম, সিরাজ মিয়া, মুক্তার মিয়া, আফতাব, রমজান মিয়া, মানিক মিয়া, ইমান আলী, আফরোজ মিয়া, সবুজ মিয়া, রেহেনা বেগম, মন্নানের পরিবারের সদস্যগণ। কেউ রাস্তার পাশে আবার কেউ অন্যের উঠানে খড়কুটোর বাসা বেঁধে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আবার কেউ আত্মীয় হওয়ার সুবাদে একই ঘরে গাদাগাদি করে স্ত্রী-সন্তান, ভাই-বোন নিয়ে বসবাস করছেন।
বর্ষাকালে গ্রামের প্রধান রাস্তা ডুবে যায়, ফলে বিড়ম্বনার অন্ত নেই এলাকাবাসীর। এ অবস্থায় গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তারা সরকারের দিকে চেয়ে আছেন কোনদিন সুসংবাদ আসে এই আশায়। অন্যদিকে গত তিন বছরের মধ্যে একবারের জন্যও স্থানীয় মেম্বার-চেয়ারম্যানের পা পড়েনি এই এলাকায়। এমন অভিযোগ করেছেন এলাকার প্রবীণ মুরব্বি বলাই মিয়া, গৌছ মিয়া, নূর মিয়া, চমক মিয়া। আরো যে বিষয়টি সবাইকে অবাক করবে তা হলো, এই এলাকার শতভাগ মানুষ হতদরিদ্র, দিনমজুর। হাতে গোনার মতো একজনও স্বাবলম্বী লোক নেই।
জানা যায়, ‘একটি পরিবারও গৃহহীন থাকবে না‘ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন ঘোষণার পর এলাকার বেশিরভাগ লোক গুচ্ছগ্রামে ঘর পাওয়ার আশায় স্থানীয় ইউএনও বরাবর ক্রমান্বয়ে একের পর এক আবেদন করেই গেছেন। প্রায় ৩০টি হতদরিদ্র পরিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে আবেদন করেছেন। কিন্তু কেউই এ পর্যন্ত ঘর পাননি। তবে চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সরকারি ত্রাণ সহায়তা পেয়েছেন বলে অনেকে নিশ্চিত করেন।
অনেকেই অভিযোগের সুরে বলেছেন, যাদের বাড়ি-ঘর আছে তারাই গুচ্ছগ্রামে প্রকল্পে ঘর পায়। এমনকি একই পরিবারের দুজন সদস্যও ঘর পায়। তবে আমরা কী দোষ করলাম?
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ বলেন, নতুন ঘর আছে, আবেদন পেলে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
অন্যদিকে গত তিন দিন ধরে কয়েকবার রাণীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কেউ ফোন রিসিভ করেননি।
একই ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. মুকিত মিয়া বলেন, ঘর বরাদ্দের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। এটা ইউএনও স্যার জানেন। তবে আমাদের কাছে সরকারি খাদ্য সহায়তার যে বরাদ্দ আসে আমরা তা বলাইনগর এলাকায়ও বণ্টন করেছি।
এমএসএম / জামান
শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে কুমিল্লায় বিক্ষোভ ও সমাবেশ
গ্লোবাল স্কলার্স অলিম্পিয়াডে স্বর্ণ ও রৌপ্য পদক পেলেন জুড়ীর ওয়ারিশা রাহমান
আওয়ামিলীগের সাথে কোন আপোষ নয় - মনিরুল হক চৌধুরী
প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে বিএনপির গফুর ভূঁইয়ার রিট
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের মাধ্যমে নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে: পিআইবি মহাপরিচালক
সাভারে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের হ্যাঁ ভোটের প্রচারণা
আত্রাইয়ে ট্রেন-ট্রাক সংঘর্ষে অল্পের জন্য শত শত যাত্রী প্রাণে রক্ষা
আমার উপজেলা আমার দায়িত্ব—শিশুর জীবন হোক বাল্যবিবাহ মুক্ত
রূপগঞ্জে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া
নেত্রকোনার মদনে লাহুত হত্যা মামলার আট মাসেও মিলেনি চার্জশীট
দেয়াল পত্রিকা ইভেন্টে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজের লাবিবা
তানোরে ভাতের সাথে বিষ মিশিয়ে নির্বিচারে হাঁস মুরগী মেরে ফেলার অভিযোগ
বাংলাদেশ একটা আধুনিক রাষ্ট্র হতে হবে, সুপ্রদীপ চাকমা
Link Copied