ঢাকা শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬

ভিন্ন পরিচয়ে মতিহারে আবারও ছাত্র শিবিরের আধিপত্য


শাহিনুর রহমান সোনা, রাজশাহী ব্যুরো প্রধান  photo শাহিনুর রহমান সোনা, রাজশাহী ব্যুরো প্রধান
প্রকাশিত: ১১-৮-২০২৩ দুপুর ৩:৭
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এক সময় ছিল ছাত্র শিবিরের আস্থানা, ক্যাম্পাস ও আশপাশের প্রতিটি জায়গায় তাদের ছিল ঘাটি। তবে মাঝখানে দীর্ঘসময় সরকারি দলের চাপে পড়ে তারা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। পরে ছাত্র শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হলে প্রশাসনিক চাপে এলাকা ছাড়া হয় ছাত্র শিবিরের কর্মী সমর্থকরা। সম্প্রতি আবারও সংঘবদ্ধ হতে গোপনে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে তারা। প্রকাশ্যে সাংগঠনিক কাজ বন্ধ রাখলেও গোপনে তারা শক্তিশালী হয়ে উঠছে। মতিহার থানা এলাকায় তাদের সেই পূরনো দূর্গ নতুন করে গড়তে মরিয়া হয়ে উঠেছে তারা।
 
ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে কয়েকজন দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডারের নাম। যার মধ্যে মতিহার এলাকার সাদ্দাম, সাব্বির ও আলম অন্যতম। সূত্র জানায়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ছদ্মবেশ ধারণ করে এরা এখন রীতিমতো আওয়ামী লীগের কর্মী। কিন্তু গোপনে তারা এখনও ইসলামী ছাত্র শিবিরের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে । স্থানীয়দের নেতৃত্বে ও ছত্রছায়ায় ক্যাম্পাসের শিবির কর্মীরা এখনো সক্রিয়ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এদের মধ্যে সাদ্দাম স্থানীয়ভাবে তাদের সহায়তা প্রদান করছেন।
 
২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে ইমনের নেতৃত্বে রাবির ৪টি হলে নৃশংস হামলা চালায় শিবির ক্যাডাররা। ওই সময় নিহত ছাত্রলীগ নেতা ফারুক হত্যা মামলার এজাহার ভুক্ত আসামী করা হয় ছাত্র শিবিরের শীর্ষ নেতা কর্মীদের, কিন্তু ওই হামলায় অংশ নেওয়া অনেক সক্রিয় নেতা কর্মীরা অজ্ঞাত থেকে যায়। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল মতিহার ডাঁসমারি এলাকার মৃত ওবাইদুর রহমানের ছেলে মনিরুল ইসলাম আলম ও শাহজাহান আলীর ছেলে সাদ্দাম আলী। এরা দুইজন সম্পর্কে আপন চাচাতো ভাই। বর্তমানে মনিরুল ইসলাম আলম পলাতক থাকলেও চতুর সাদ্দাম ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কর্মী পরিচয় দিয়ে বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে এলাকায়। এই সাদ্দামের আপন ছোট ভাই সাব্বির ছাত্র শিবিরের চিহ্নিত কর্মী ও ক্যাডার।
 
ইসলামী ছাত্র শিবিরের কমিটিতে শিবির ক্যাডার সাদ্দামের চাচাতো ভাই মনিরুল ইসলাম আলম ছাত্র শিবিরের রাজশাহী মহানগরীর ২৯ নং ওয়ার্ড সভাপতির দায়িত্ব পালন করে ২ বছর (২০১৩-২০১৫) এবং ঐ কমিটির অন্যতম সদস্য ছিল সাদ্দাম ও তার ছোট ভাই সাব্বির। আর ২০১৩ সালের গোড়ার দিকে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের যুদ্ধাপরাধ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রমাণ হওয়ার পর থেকেই সহিংস রূপ দেখাতে শুরু করে শিবিরের এই ক্যাডাররা। ২০১৪ সালের জুন মাসে রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানার ডাসমারি এলাকায় ওয়ার্কার্স পার্টির মতিহার থানা শাখা ও রাজশাহী জেলা শাখা জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সদস্য মোহাম্মদ আলীকে হাত পায়ের রগ কেটে হত্যা করে ড্রেনে ফেলে যায় শিবির কর্মীরা। মোহাম্মদ আলী মার্ডারের এজাহার ভুক্ত আসামী সাদ্দামের চাচাতো ভাই আলম এবং এই মামলায় সাদ্দাম ও তার আপন ছোট ভাই সাব্বির সন্ধিগ্ধ আসামি থাকায় দীর্ঘদিন এলাকা থেকে পলাতক ছিল। উক্ত ঘটনার মাস্টার মাইন্ড সাদ্দাম থাকলেও অন্যান্য আসামীরা সাদ্দামের নাম এড়িয়ে যায়। পরবর্তীতে জেলখানার সিসি ফুটেজে দেখা যায় সাদ্দাম আসামিদের সাথে গোপনে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন জেলখানায়, পরবর্তীতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন তৎকালীন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার ইসমাইল হোসেন। ২০২৩ সালের ২৫ জানুয়ারি শিবির ক্যাডার সাদ্দামের বাসা থেকে  বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করে মতিহার থানা পুলিশ, পরবর্তীতে টাকা পয়সা দিয়ে আসামি থেকে সাক্ষী হয় এই সাদ্দাম।
 
সংশ্লিষ্টরা জানান, হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন নাশকতার মামলা থেকে নিজেদের বাঁচাতে এ সরকারের ৩ মেয়াদে অন্তত রাজশাহীতে ২ হাজার নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান করেছে। যারা হাইব্রিড আওয়ামী লীগ নামে পরিচিত। বড় নেতা থেকে শুরু করে স্থানীয় নেতাদের হাত ধরেই তারা আওয়ামী লীগে যোগ দেন। আবার নেতা-কর্মীদের একটি বড় অংশ হয় কারাগারে, না হয় পলাতক অবস্থায় রয়েছেন।
জঙ্গিবাদ বা উগ্রপন্থায় জড়াচ্ছে একটি অংশ। একইভাবে আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনে বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটিতেও জায়গা করে নিয়েছে এদেরই ক্ষুদ্র একটি অংশ। ঝুঁকি এড়াতে একটি অংশ চলে গেছে দেশের বাইরে। আরেকটি অংশ আওয়ামী লীগ-বিএনপির সঙ্গে গোপনে আঁতাত করে ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। আর এভাবেই রাজশাহী মতিহার এলাকা  দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সাদ্দামরা।
 
রাজশাহী মহানগরীর প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নান বলেন, শিবির ক্যাডার সাদ্দাম এখন হাইব্রিড আওয়ামী লীগার। কিভাবে আওয়ামী লীগের লেবাস পরে কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে তা দেখে আমরা বিস্মিত। রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের জেলা, মহানগর ও উপজেলাসহ বিভিন্ন ইউনিটে প্রবেশ করেছে হাইব্রিডরা। মূলত ওইসব অনুপ্রবেশকারী নব্য আ.লীগারদের কারণে রাজশাহীর বিভিন্ন স্থানে দলের ভেতরে দ্বন্দ্ব, সংঘর্ষ, হামলা-মামলার ঘটনা ঘটে। যা সরকারের প্রায় এক দশকের অর্জন ম্লান করছে। তাই এখুনিই এসকল হাইব্রিড আওয়ামী লীগারদের প্রতিহত না করতে পারলে এক সাদ্দাম নয় বরং শত শত সাদ্দামের জন্ম হবে।
 
কথা বললে মতিহার থানার ওসি রুহুল আমিন বলেন, আমি এ থানায় যোগদানের পর থেকে এলাকায় প্রকাশ্যে ছাত্র শিবিরের কোনো প্রোগ্রাম হয়নি। গোপনে প্রোগ্রাম বা সুসংগঠিত হওয়ার কোন সুযোগ নাই। থানা পুলিশ এ বিষয়ে তৎপর আছে। কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ পেলে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

এমএসএম / এমএসএম

রৌমারীতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী মাদক মামলায় গ্রেফতার

পঞ্চগড়ে শিল্প ব্যক্তিদের সাথে স্থানীয় পণ্য ব্র্যান্ডিং এবং বিপণন বিষয়ক কর্মশালা

গোপালগঞ্জকে এগিয়ে নিতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে হবে - সাংসদ কে.এম বাবর

ফুলদী নদীর ওপর সেতু নির্মাণে সরকারের আন্তরিকতার কমতি নেই: প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ

ইমুতে প্রেম, মোবাইলে বিয়ে, ভিসা ছাড়াই ভারতে স্বামীর কাছে যেতে গিয়ে শিশুসহ নারী আটক

হোমনায় মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ করায় সাংবাদিকের উপর হামলা

ঈদ সামনে রেখে চান্দাইকোনা পশুর হাটে কঠোর নজরদারি, মাঠে পুলিশ ও র‌্যাব

মনোহরদীর রামপুরে বালু উত্তোলনের দায়ে দুইজনকে কারাদণ্ড

ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজারহাটে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট, অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ

যশোর-খুলনা মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে মা-ছেলেসহ নিহত-৪

জুড়ীর সীমান্তে ৫২ বিজিবির ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালীতে প্রধান শিক্ষকের অবসর প্রস্তুতির কাগজ নিয়ে হাজির হলেন ডিপিইও বিদায় অনুষ্ঠানে

কোটি টাকার বেচাকেনায় সরগরম উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ পশুর হাট