বিশ্ব ফার্মেসী দিবস ও ফার্মাসিস্টদের অদেখা দুঃখ
চামড়া শিল্পের দৈন্যদশা, চিনিকল বন্ধের হিড়িক,পাটের সোনালি আশ যখন নিজেকে মেলে ধরার বাহন খোঁজে পাচ্ছেনা,ঠিক তখন ঔষধ শিল্প যেন এক সোনার হরিণ।
যেখানে স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ ওষুধ উৎপাদনে সক্ষম ছিল। বাকি ৮০ শতাংশ ছিল আমদানিনির্ভর। সেখানে বর্তমানে ঔষুধের মোট চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশই স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করে নিজেদের চাহিদা মিটিয়েও পৃথিবীর ১৫৭টি দেশে ঔষুধ রপ্তানি করছে বাংলাদেশ।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ওষুধ রপ্তানি করা হয় ৬৪৬ কোটি ৯৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকার। মাত্র ৭ বছরের ব্যবধানে অর্থাৎ ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই ও আগস্টে ওষুধ রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩১ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন ডলার। । বিষয়টিকে ‘ওষুধ রপ্তানিতে বাংলাদেশের বাজিমাত’ হিসেবে উল্লেখ করছেন খাত-সংশ্লিষ্টরা।
কিন্তু কেমন আছেন দিন রাত পরিশ্রম করে ঔষধ শিল্প কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ফার্মাসিস্ট রা!সব মিলিয়ে দেশের ঔষধ শিল্পের মূল চালিকা শক্তি ফার্মাসিস্টদের যেন দেখার কেউ নেই,অনেকটা অসহায়ভাবেই দিন যাপন করতে হচ্ছে তাদের।
পৃথিবীর অন্যান্য দেশ যখন ফার্মাসিস্টদের কাজের জায়গা সমাদৃত করে নিজেদের স্বাস্থ্য খাত কে সমৃদ্ধ করছে ঠিক তখনো বাংলাদেশে ঔষধ শিল্পের মূল চালিকাশক্তি এ ফার্মাসিস্টদের দৌড়ের দুয়ার যেন সংকোচিতই হয়ে আসছে।
যার ভয়াবহ প্রভাবের একটি চিত্র উঠে এসেছে বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে ,বিবিসির সেই প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ফার্মেসিগুলোতে ৯৩% মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রি ও নকল ঔষধ তৈরীর কারখানার খোঁজ পাওয়া যায়,এই ভয়াবহ তথ্য সামনে আসার পর হাইকোর্ট এক মাসের মধ্যে মেয়াদ উত্তীর্ণ সমস্ত ঔষধ ধ্বংস করার নির্দেশনা দিলেও। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে একের পর এক প্রসিদ্ধ ফার্মেসিতেও মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রি ধরা পড়ায়, হতাশা জন্ম দিয়েছে সমাজ বিশ্লেষকদের মাঝে।
এখনো পর্যন্ত ঔষধ সম্পর্কে মানুষের এই অসচেতনতার পিছনে,সরকারী হাসপাতালগুলোতে ফার্মাসিস্ট নিয়োগের অনুপস্থিতি,মডেল ফার্মেসিগুলোতে সাধারণ মানুষ কে ঔষধ সম্পর্কে সম্মক ধারনা দিতে ফার্মাসিস্ট নিয়োগ বাধ্যতা মূলক না করা,দেশের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে কাজ করা প্রসিদ্ধ এনজিওগুলোর ফার্মাসিস্টদের সাথে সমন্বয় না থাকা কে দায়ী করেন সিনিয়র ফার্মাসিস্টরা।
যার ফলে আমাদের দেশে ঔষধ শিল্প এগিয়ে গেলেও,স্বাস্থ্যখাত বিশ্বায়নের দিকে এগিয়ে যেতে পারছেনা, এখনো পারছেনা এই ভঙ্গুর অবস্থান থেকে বের হতে।বিশ্ব ফার্মেসি দিবসে ফার্মাসিস্টদের জনসম্পৃক্ত দাবী পূরণ হবে,বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ ঔষধ সম্পর্কে সঠিক ধারনা পাবে,জনসাধারণের সচেতনতা ও সকলের যৌথ প্রচেষ্টায় ঔষধের অপব্যবহার এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রির মতো জঘন্য অপরাধ প্রবণতা কে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনবে সেটিই প্রত্যাশা।
লেখকঃ মাহমুদুল হাসান মাহমুদ
সাংগঠনিক সম্পাদক
বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট ফোরাম,নর্দান বিশ্ববিদ্যাল
এমএসএম / এমএসএম
ঢাকা শহরের বর্জ্যজনিত দুর্ভোগ প্রশমনে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন
স্বাগতম অ্যান্ডি বার্নহাম বিদায় কিয়ার স্টার্মার
রথযাত্রা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি
অপরিকল্পিত নগরায়ণে ডুবছে চট্টগ্রাম, জনসচেতনতা ছাড়া উত্তরণ সম্ভব নয়
বাধ্যতামূলক বাংলা কিউআর : স্মার্ট ইকোনমির আড়ালে ‘ডিজিটাল দাসত্ব’ ও নজরদারির এক নীল নকশা
সামাজিক অবক্ষয়রোধে নান্দনিক দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশ অপরিহার্য
কর্মচারী নিয়োগে একাডেমিক সনদের চেয়ে দক্ষতার গুরুত্ব বেশি হওয়া উচিৎ
মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সামাজিক আন্দোলন অপরিহার্য
পবিত্র আশুরার শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ
ব্রেক্সিট পরবর্তি ব্রিটিশ রাজনীতি এবং স্টারমারের বিদায়
পর্নোগ্রাফি আসক্তি: ডিজিটাল যুগের নীরব মহামারি
কাঁঠালভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন