কুবিতে ছাত্রলীগের কর্মীসভা, ১১ বছরের যাত্রায় ৩য় কমিটির প্রস্তুতি
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ১৮ বছরের ইতিহাসে খাতা-কলমে শাখা ছাত্রলীগ সাংগঠনিকভাবে কাজ করছে ১১ বছর ধরে। প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই ছাত্র-শিক্ষকদের রাজনৈতিক দল নির্ভর রাজনীতির বিপক্ষে ছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু ছাত্রলীগ মতাদর্শের লোকজন ঠিকই অন্য নামে চালিয়ে গেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতি।
২০০৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে ছাত্রলীগের একক প্রভাব শুরু হয়। ফলে অন্য রাজনৈতিক মতাদর্শের কোনো ছাত্রসংগঠন ডালপালা মেলতে পারেনি।
আজ ৯ অক্টোবর বিকাল তিনটায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তৃতীয় কমিটি ঘোষণা উপলক্ষ্যে কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর কাগজে-কলমে ছাত্রলীগের রাজনীতি ডালপালা মেলার ১১ বছরে কেবল দুইটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি তাদের কার্যক্রম চালিয়েছে। এর পেছনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাথে যুক্ত প্রাক্তন ও বর্তমান নেতারা মনে করেন স্থানীয় রাজনীতির প্রভাব ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নেতাদের দীর্ঘদিন নেতৃত্বে থাকার মনোভাব নেতৃত্বে বৈচিত্র্য আনতে পারেনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৭ সালের ২৮ মে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন নাম দিয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগের তৎকালীন শিক্ষার্থী মাহমুদুর রহমান ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আল আমিন ছাত্রলীগের রাজনীতি শুরু করেন। একই সঙ্গে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্ট ফোরাম নাম দিয়ে মার্কেটিং বিভাগের তৎকালীন শিক্ষার্থী মইনউদ্দিন সফিকুর রহমান চিশতী ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এমদাদুল বারী ছাত্রলীগের রাজনীতি শুরু করেন। তবে পরবর্তীতে মাহমুদুর রহমান ও আল-আমিন গ্রুপের প্রভাবে চিশতী-বারী পক্ষ ক্যাম্পাসে দাঁড়াতে পারেনি।
এরপর ২০১২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর মো. মাহমুদুর রহমানকে আহ্বায়ক করে এবং মো. আল-আমীন ও সৈয়দ শাহরিয়ার মাহমুদকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি দেয় তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এরপর ২০১৫ সালের ২৪ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অষ্টম ব্যাচের মার্কেটিং বিভাগের নাজমুল হাসান আলিফকে সভাপতি ও পঞ্চম ব্যাচের লোকপ্রশাসন বিভাগের রেজা-ই-এলাহীকে সাধারণ সম্পাদক করে দশ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। আহ্বায়ক ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি দুটোই অনুমোদন করেন তৎকালীন ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম।
কিন্তু এই কমিটি ক্ষমতায় থাকাকালীনই আধিপত্য বিস্তার ও হল দখলকে কেন্দ্র করে ২০১৬ সালে আগস্ট মাসের প্রথম প্রহরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ৭ম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও কাজী নজরুল ইসলাম হল শাখা ছাত্রলীগের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ।
এরপর থেকে ক্যাম্পাসের হলগুলোর দখল নিতে শুরু করেন শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের নেতা ইলিয়াস হোসেন সবুজ। নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী ও ক্যাম্পাসের পাশের এলাকার সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। ক্যাম্পাসে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে আলিফ-রেজা কমিটি। পরে ২০১৭ সালের ১৩ মে সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে আলিফ-রেজা কমিটি বিলুপ্ত করেন তৎকালীন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।
পরবর্তীতে ২৬ মে লোক প্রশাসন বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইলিয়াস মিয়াকে (ইলিয়াস হোসেন সবুজ) সভাপতি ও গণিত বিভাগের ষষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী রেজাউল ইসলাম মাজেদকে সাধারণ সম্পাদক করে এক বছর মেয়াদী ১১ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।
তবে ২০১৭ সালে ইলিয়াস শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়ার পর, তিনবার কেন্দ্রের কমিটি পাল্টালেও ইলিয়াস-মাজেদ কমিটি বহাল ছিলেন কুবি শাখা ছাত্রলীগে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ৩০ তারিখ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ইলিয়াস-মাজেদ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে এসে আল নাহিয়ান খান জয় ইলিয়াস-মাজেদ কমিটি বহাল আছে বলে মন্তব্য করেন।
পরবর্তীতে চলতি বছরের ৬ মার্চ বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের এক জরুরি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া, সাংগঠনিক নিষ্ক্রিয়তা, শৃংঙ্খলাহীনতা, গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কার্যকলাপে সম্পৃক্ত থাকার কারণে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি (ইলিয়াস-মাজেদ) বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছিল।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের আগামী কমিটির পদপ্রত্যাশীদের সাথে কথা বলার সময় তারা জানান, তারা আগামীতে সুষ্ঠুধারার রাজনীতি করতে চান। যাতে সকল স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে পারেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় থাকে তার জন্য কাজ করবেন।
এমএসএম / এমএসএম
পবিপ্রবির নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক হেমায়েত জাহানকে ইউট্যাবের শুভেচ্ছা
ইবি'র শিক্ষক মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হলেন
নিষিদ্ধ ছাএলীগের হামলায় আহত ডিআইইউ ছাত্র নেতা
কাউনিয়ায় পুকুর নিয়ে বিরোধ: মাছ লুট ও হামলার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
ডিআইইউ ও পাকিস্তানের ফাস্ট-এনইউসিইএসের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
ঈদ-গ্রীষ্মের ছুটি শেষে আজ খুলেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
সুইডেনের 'ইউনিভার্সিটি অব গাভলে' সফরে ইবি প্রতিনিধি দল
শেকৃবিতে সরকারি গাড়ির ব্যক্তিগত ব্যবহারের অভিযোগ প্রক্টর ও ট্রেজারারের বিরুদ্ধে
পাবলিক বনাম প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়: শিক্ষা ও গবেষণার মান নিয়ে বিতর্ক কতটুকু যৌক্তিক?
টানা ১৬ দিনের ছুটি শেষে ৭ জুন খুলছে স্কুল-কলেজ
ন্যাচার ইনডেক্স র্যাঙ্কিংয়ে জায়গা পায়নি পাবিপ্রবি
ঈদের ছুটিতে ঘরমুখো পবিপ্রবি: শিক্ষার্থীদের আনন্দ-অনুভূতির গল্প