অসহায় রোগীদের সেবা দিতে হাসপাতালে হাসপাতালে ঘোরেন মানবিক মাঈনুদ্দিন চৌধুরী
মাঈনুদ্দিন চৌধুরী নামের এক যুবক চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল, আগ্রাবাদ মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ইউএসটিসি, ম্যাক্স হাসপাতাল, ন্যাশনাল হাসাপাতাল, পার্কভিউ হাসপাতালসহ নগরীর যে প্রান্ত যেখানে হোক কোন, গরিব-অসহায়, বেওয়ারিশ, স্বজনহারা রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়ামাত্র একনজর দেখতে যান রোগীদের। রোগীর দেখাশোনা করার মতো কেউ না থাকলে রোগীর সাথে কথা বলে নিজেই শুরু করেন রোগীর প্রয়োজনীয় সেবা। রোগী ভালো না হওয়া পর্যন্ত স্বেচ্ছায় যাবতীয় সেবাদান এবং করোনা প্রতিরোধক সামগ্রী দিয়ে যাচ্ছেন ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে।
গরিব-অসহায় রোগীদের পাশে থেকে স্বশরীরে সেবা দেয়া ছাড়াও করোনায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য বিনামূল্যে অক্সিজেন, অ্যাম্বুলেন্স, মাস্ক, স্যানিটাইজার, ওষুধপাতিও যতটুকু সম্ভব দিয়ে যাচ্ছেন। এমন মানবিক কর্মকাণ্ডে মাঈনুদ্দিন চৌধুরীর আত্মীয়স্বজন এবং রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের অনেকে এগিয়ে এসেছেন।
করোনা ভাইরাসের শুরুতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে কোনো রোগী ভর্তি হলে স্বজনরা যেখানে প্রিয় মা-বাবা ও আত্মীয়স্বজনকে হাসপাতালের বেডে পেলে চলে গেছে, সে সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের সেবা ও সহায়তা দিয়ে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মানবিক মাঈনুদ্দিন চৌধুরী। তার এমন মানবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে দেশের জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে মানবিক মাঈনুদ্দিন চৌধুরী প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ১০০ রোগীকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত ১২ থেকে ১৫ হাজার রোগীকে সেবা দিয়েছেন। রোগীকে সেবা দেয়া তার এখন নিয়মিত নেশায় পরিণত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ঠ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। যখন করোনা আক্রান্ত রোগী এবং মৃতদেহ হাসপাতালের বিছনায় পড়ে থাকত, ভয়ে কেউ এগিয়ে আসত না, তখনই এগিয়ে আসেন মাঈনুদ্দিন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আগ্রহ দেখে কাজ করার জন্য অনুমতি এবং শুরুতে রোগীদের জন্য মাস্ক ও পিপি সরবরাহ করে উৎসাহ দেয়। এতে সার্বিক সহযোগিতা করেন হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল হুমায়ুন কবির, ভাইস প্রিন্সিপাল প্রফেসর ডা. নাছির উদ্দীন মাহমুদ, অধ্যাপক ডা. অনিরুদ্ধ ঘোষ জয়, অধ্যাপক ডা. এমএ ছত্তার, অধ্যাপক ডা. রবিউল আলম, সহকারী পরিচালক ডা. রাজিব পালিত, উপ-পরিচালক ডা. আফতাবুল ইসলামসহ অনেকে।
মাঈনুদ্দিন চৌধুরী আওয়ামী রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকলেও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী ছিলেন। বয়সের কারণে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হতে না পেরে তার জীবনটি গরিব-অসহায় মানুষের জন্য উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নেন। জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত অসহায় রোগীদের সেবা করে যাবেন বলে জানান। মাইনুদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নের চাপড়ী গ্রামের হাজী মৌলভী অলি উল্লাহর ছেলে। তার দাদা হাজী মুফতি মরহুম নুরুজ্জামান শাহ (রা.) ৬০ দশকে মহামারী যোদ্ধা ছিলেন।
মানবিক মাঈনুদ্দিন চৌধুরী প্রসঙ্গে সত্যজিত চৌধুরী নামে একজন লিখেছেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক প্রেমী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দায়িত্ব পালন করে আসছিল কিন্তু নিজেকে আর্তমানবতার সেবায় উজাড় করে দিয়ে যাচ্ছে বিগত এক যুগ ধরে। করোনা মহামারীতে মাঈনুদ্দিন চৌধুরী যেভাবে বিনামূল্যে স্বেচ্ছায় সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, সরকারিভাবে তাকে পুরস্কৃত করা দরকার বলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সদ্য বিদায়ী ভাইস প্রিন্সিপাল ডা. নাসির উদ্দীন মাহমুদ তার ব্যক্তিগত এফবিতে লিখেছেন, করোনাকালে সন্তানরা যখন পিতার লাশ সম্পর্শ করেনি, বিত্তশালীদের চোখ বন্ধ, হাসপাতালগুলো ভয়ে রোগী ফিরে দিচ্ছে; তখন চমেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে প্রতিদিন নিয়মিত স্বেচ্ছায় সেবা দিয়েছেন মাঈনুদ্দিন চৌধুরী।
এমএসএম / জামান
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে রণক্ষেত্র গাজীপুর
লিখিত আদেশ ছাড়া জেলা কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন ও উপজেলা কার্যালয়ে হাজিরা
সিংড়ায় গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে যুবকের মৃত্যু
শামা ওবায়েদের হাতকে শক্তিশালী করতে তালমায় ঐক্যবদ্ধ নেতাকর্মীরা
রৌমারীতে মাদক মামলার আসামী হয়েও সরকারি চাকুরিতে বহাল
আত্রাইয়ে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন ও ১৪ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ
রায়পুরায় ১৬ শিক্ষকের কলেজে এইচএসসিতে পাস মাত্র একজন: পাসের হার ১১.১১ শতাংশ
বিজয়নগরে সাতগাঁও মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক সংকট
জুলাই সনদ ও কওমি সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবিতে কুড়িগ্রামে খেলাফত মজলিসের গণসমাবেশ
রায়গঞ্জে সড়ক সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন, স্থানীদের এক সপ্তাহের আলটিমেটাম ঘোষণা
ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকার দাবিতে গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ
যশোরে সুন্দর সাহা’র অপসাংবাদিকতার স্বীকার গণমাধ্যম কর্মীরাও