চট্টগ্রাম- কক্সবাজার রুটের স্পেশাল ট্রেন বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়নি: ডিজি

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) সরদার শাহাদাত আলী বলেছেন, ঈদ উপলক্ষে চালু হওয়া চট্টগ্রাম -কক্সবাজার রুটের স্পেশাল ট্রেন বন্ধ করার কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। ঈদ উপলক্ষে ২৪ জুন পর্যন্ত চলাচলের কথা ছিল। এরপর আমরা যাত্রী চাহিদার কথা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিব সময় বাড়বে কিনা, চলাচল অব্যাহত থাকবে কি-না। যেহেতু বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি সহ চট্টগ্রামের বিভন্ন মহল থেকে ট্রেনগুলো নিয়মিত চালানোর দাবি তুলেছে, তাই বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। আশা করছি এটি আপাতত আর বন্ধ করা হবেনা।
রোববার (২৩ জুন) বাংলাদেশ বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে দেয়া একটি স্মারকলিপি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এসব কথা বলেন।
এবিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের স্পেশাল ট্রেন চলাচল আরও ২০ দিন বাড়িয়ে আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত করতে চায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। যাত্রীদের ব্যাপক চাহিদার কারনে এ ২০ দিন ট্রেন চলাচল বৃদ্ধির এ উদ্যাগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, চট্টগ্রাম- কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটে চলাচল করা স্পেশাল ট্রেনটি স্থায়ীভাবে চলাচলের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে কক্সবাজার আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনীন সরওয়ার কাবেরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি সালাউদ্দীন মো. রেজাসহ বিশিষ্টজনরা বক্তব্য রাখেন।
এতে বক্তারা বলেন, '২৫ জুন কক্সবাজার স্পেশাল ট্রেন বন্ধ হলে এ রুটের বাকী দুই আন্তনগর ট্রেন কক্সবাজার স্পেশাল এবং পর্যটন এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে। কক্সবাজার স্পেশাল ট্রেন স্থায়ীভাবে চালুর দাবিতে সোমবার (২৪ জুন) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জিএমসহ সংশ্লিষ্টদের স্মারকলিপি প্রদান করার কথা রয়েছে।
রেলওয়ের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, 'ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত ১২ জুন এ রুটে পুনরায় স্পেশাল ট্রেন চলাচল শুরু করে। আগামী ২৪ জুন পর্যন্ত এ ট্রেন চলাচল করার কথা রয়েছে। তবে আমরা আরও ২০ দিন এ স্পেশাল ট্রেন চলাচলের জন্য রেলওয়ে সদর দফতরে চিঠি পাঠিয়েছি। যাত্রীদের ব্যাপক চাহিদার কথা চিন্তা করে আমরা স্পেশাল ট্রেনের সময় বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত তা মঞ্জুর হয়নি।'
এদিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী কক্সবাজার ঈদ স্পেশাল ট্রেনটি স্থায়ী ট্রেনে রূপান্তরিত করে নিয়মিত চালু রাখার দাবীতে ২৩ জুন রেল ভবনে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক সরদার শাহাদাত আলী ও চট্টগ্রামের সিআরবিতে পূর্বাঞ্চলের মহা ব্যবস্থাপক নাজমুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে দেয়া স্মারকলিপিতে বলা হয়, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার রেলসেবা জনগনের দোরগোড়ায় পৌঁেছ দিতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ১৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে নতুন রেলপথ নির্মাণের পরে রেল কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র রাজধানীবাসীকে সুবিধা দেওয়ার মানসে ঢাকা থেকে কক্সবাজার ২টি ট্রেন সার্ভিস চালু করা হলেও চট্টগ্রাম, দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের জনগন রেলসেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। এতে করে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবির মুখে বিগত ঈদুল ফিতরের সময়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে কক্সবাজার স্পেশাল নামে একটি ট্রেন সার্ভিস চালু করা হয়েছে। সড়ক পথে নৈরাজ্য, সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের হাত থেকে মুক্তি পেতে এই অঞ্চলের মানুষ যখন সীমিত সুবিধা এই ট্রেনটির প্রতি ঝুঁকছিলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই ট্রেনটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে যাত্রী বান্ধাব বাহনে পরিনত হয়েছে। এই জন্য ঈদের পর নির্ধারিত সময়ে ট্রেনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও স্থানীয় রেল প্রশাসনের মাঠ জরিপ প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ট্রেনটি চলাচলের সময়সীমা দুই দফা বাড়ানো হয়েছে। এমন সুযোগ লুফে নিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে যাত্রীরা যখন এই ট্রেনে নিয়মিত যাতায়াত করছিলেন।
স্মারকলিপি প্রদানকালে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক সরদার শাহাদাত আলী ঈদ স্পেশাল হিসেবে চালু করা এই ট্রেনটি বন্ধ হবে না বলে আশ্বাস দেন। এবং ট্রেনটিকে নিয়মিত চলাচলের ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষনা দেন। এই সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার নাজমুল ইসলাম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক এস.এম সালাহ উদ্দিন, যাত্রী কল্যাণ সমিতির ভাইস চেয়ারম্যান তাওহিদুল হক লিটন, প্রচার সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেল, মোঃ আওলাদ হোসেন, মনজুর হোসেন।
চট্টগ্রামের সিআরবিতে স্মারকলিপি প্রদানকালে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার নাজমুল ইসলাম, যাত্রী কল্যাণ সমিতির ভাইস চেয়ারম্যান তাওহিদুল হক লিটন, প্রচার সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেল, মোঃ আওলাদ হোসেন, মনজুর হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য গত পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে বিশেষ স্পেশাল ট্রেন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। গত ৮ এপ্রিল এই ট্রেন চলাচল শুরু হয়। চালুর পর থেকে ট্রেনটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। যাত্রীদের চাপে এরপর দুই দফায় বিশেষ ট্রেনের সময় বাড়িয়ে ১০ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের ১১ দিন আগেই গত ৩১ মে ইঞ্জিন ও জনবল সংকট দেখিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে ট্রেনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত ১২ জুন এ রুটে পুনরায় স্পেশাল ট্রেন চলাচল শুরু করে। আগামী ২৪ জুন পর্যন্ত এ ট্রেন চলাচল করার কথা রয়েছে। ট্রেনটি বন্ধের সিদ্ধান্তে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ যাত্রীদের মাঝে।
ট্রেনটি স্থায়ী করার দাবিতে স্থানীয় লোকজন রেলমন্ত্রী, রেলওয়ের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছিলেন। স্থানীয়রা ট্রেনটি চালু রাখার আশ্বাস পেয়েছিলেন। হঠাৎ রহস্যজনকভাবে ট্রেনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হয়। গত বছরের ১১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত নির্মিত ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন রেললাইনের উদ্বোধন করেন। ওই বছরের ১ ডিসেম্বর একটি এবং চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি থেকে আরও একটিসহ ঢাকা থেকে দুটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা হয়। এই দুটি ট্রেনে চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে যাতায়াতের জন্য মাত্র ১১৫টি করে আসন বরাদ্দ রাখা হয়। তবে চট্টগ্রাম থেকে একটি ট্রেনও চালু করা হয়নি।
এমএসএম / এমএসএম

কোটালীপাড়ায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ ছাত্রদলের নবগঠিত হল কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ

কুতুবদিয়ায় বিশেষ অভিযানে আওয়ামী লীগ সদস্য গ্রেফতার

রায়গঞ্জে বিপিএলের ধাঁচে ফুটবলার নিলাম, গ্রামে উৎসবের আমেজ

মানিকগঞ্জে শিশুকে গণধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ৩

শেরপুরে গোয়ালঘরে কয়েলের আগুন ৮টি গরু ও ৪টি ছাগল পুড়ে ছাই

শ্রেণিকক্ষে হাঁটুপানি, ভাড়া করা ঘরে চলছে পাঠদান

সুন্দরগঞ্জে ইন্টারনেটের ক্যাবল কেটে সংযোগ বিচ্ছিন্ন, প্রাননাশের হুমকি

ছুটি ছাড়াই ২৩ মাস অনুপস্থিতির পর চসিকে ইঞ্জিনিয়ার তৈয়ব

বেনাপোলে ২ মণ গাঁজা সহ কিশোর আটক

নবীনগরে ফেসবুকে অপপ্রচার, গ্রামে মানববন্ধন ও থানায় অভিযোগ

নেত্রকোনায় জেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি পদে লড়ছেন ডাঃ মোঃ আনোয়ারুল হক”
