যমুনায় হু হু করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পাবনায় শত শত বিঘা বাদাম ক্ষেত প্লাবিত
যমুনায় হু হু করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পাবনার বেড়া উপজেলার চরাঞ্চলের শত শত বিঘা বাদাম ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষিরা।
কৃষি কার্যালয় ও কৃষকরা জানান, বেড়া ও সুজানগর উপজেলার যমুনা ও পদ্মা নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে প্রতিবছর প্রচুর বাদামের আবাদ হয়ে থাকে। চলতি মৌসুমে শুধু বেড়া উপজেলার আটটি ইউনিয়নের এক হাজার ৩শ’৬০ হেক্টর জমিতে বাদামের আবাদ করা হয়েছে।
আর দুই-এক সপ্তাহের মধ্যেই এসব বাদাম কৃষকদের ঘরে উঠার কথা। আবাদ করা বেশিরভাগ জমির বাদাম আধাপাকা অবস্থায় রয়েছে।
কৃষকরা জানান, জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে তারা চরের বালুমিশ্রিত জমিতে বাদাম আবাদ করে থাকেন। আর সেই বাদাম জমি থেকে তোলা শুরু হয় মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে জুনের শেষ সপ্তাহের মধ্যে। ভেজা বাদাম মণপ্রতি ১,৮০০ টাকা থেকে দুই হাজার টাকা আর শুকনা বাদাম তিন হাজার থেকে ৩,২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়।
সম্প্রতি যমুনা নদীর পানি বেড়ে চরাঞ্চলের বাদামের ক্ষেত তলিয়ে যাচ্ছে। এতে কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। এ সময়েই আবার শ্রমিক সংকটও দেখা দিয়েছে।
ফলে বাধ্য হয়ে অনেক চাষি পরিবারের নারী-শিশুসহ সদস্যদের নিয়ে ডুবে যাওয়া বাদাম তোলার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এভাবে অর্ধেক ফলনও পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা।
সরজমিনে দেখা যায়, বেড়া উপজেলার মাসুমদিয়া, রূপপুর, হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি চরাঞ্চলে প্রচুর বাদামের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। সেসব জমি থেকে কৃষকরা বাদাম তুলে নৌকায় করে পাড়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আবার কোথাও কোথাও তারা জমির পাড়ে শুকনা স্থানে গাছ থেকে বাদাম ছাড়াচ্ছেন।
রূপপুর ইউনিয়নের দড়িশরীফপুর গ্রামের চাষি আকমল হোসেন নয় বিঘা জমিতে বাদামের আবাদ করেছিলেন। আর দুই সপ্তাহ জমিতে থাকলেই সব বাদাম পুরোপুরি পুষ্ট হয়ে যেত। কিন্তু যমুনার পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় তার চার বিঘা জমির বাদাম তলিয়ে গেছে। বাকি জমিও তলিয়ে যাওয়ার মুখে রয়েছে।
আকমল হোসেন বলেন, “তলিয়ে যাওয়া কিছু জমি থেকে বাদাম তুললেও তাতে এক-চতুর্থাংশ ফলনও মিলবে না। আমার জমির আশপাশে ৬০ থেকে ৭০ বিঘা বাদাম ক্ষেত তলিয়ে গেছে।”
কাজিরহাট লঞ্চ ঘাট এলাকার শরিফুল ইসলাম বলেন, “এই ঘাটের আশপাশে প্রচুর বাদামের খেত। এসব খেত তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের দুরাবস্থা দেখে আমরা গত দুদিনে প্রচুর বাদাম তুলেছি।”
রূপপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ঠান্টু শেখ জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর বাদামের ভালো ফলন হয়েছিল। কিন্তু তিন-চার দিন নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় শত শত বিঘা বাদাম ক্ষেত তলিয়ে গেছে।
উপজেলার অন্যান্য চরের চেয়ে কাজিরহাট এলাকা নিচু হওয়ায় এখানকার চাষিদের ক্ষতি বেশি হয়েছে বলে জানান ইউপি সদস্য।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশকর আলী বলেন, “যমুনায় পানি বাড়ায় বেশকিছু বাদামের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। আমি গিয়ে তা দেখে এসেছি। তবে তলিয়ে যাওয়া জমির পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। শিগগিরই তলিয়ে যাওয়া জমির পরিমাণ ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকার ঘোষিত আর্থিক প্রণোদনা দেয়া হবে।”
এমএসএম / এমএসএম
তারাগঞ্জে শিশু সানজিদা হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন
কুমিল্লায় ১০ লাখের বেশি শিশুকে খাওয়ানো হবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল
মগনামা উচ্চ বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি দেয়াল থেকে লোহার গ্রিল চুরি
কালকিনিতে বাস চাঁপায় প্রান গেল প্রবাসীর
আদমদীঘিতে নারীসহ তিনজন গ্রেপ্তার মাদক উদ্ধার
চাঁদপুর জেলায় ৩লাখ ৬৬ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো হবে
পটুয়াখালীতে ভূমিকম্প-অগ্নিকাণ্ডে করণীয় শেখাতে পিস স্কুলের ব্যতিক্রমী মহড়া
সুবর্ণচরে ফলজ, বনজ, ঔষধি গাছ বিতরণ উদ্বোধন
নাগরপুরে স্কুলের টিউবওয়েলে পানি পান করে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ
অভিযোগের ১১ দিনেও মামলা নথিভূক্ত করেনি সাভার মডেল থানা পুলিশ
দাউদকান্দিতে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল
সুবর্ণচরে জব ফেয়ার ২০২৬ অনুষ্ঠিত