সিংগাইরে হযরত ইব্রাহিম শাহ (রহ:) এর মাজারের ৪ একর জমির হদিস নেই
সুফি সাধক হজরত ইকরামুল হক ইব্রাহিম শাহ বাগদাদী (রহঃ) এর মাজার। প্রায় ৮৭০ বছর আগে হযরত শাহ জালাল (রহঃ ) এর সঙ্গে ৩৬০ জন আউলিয়া ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য বাংলাদেশে এসেছিলেন আরব নগরী থেকে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন হযরত ইকরামুল হক ইব্রাহীম শাহ বাগদাদী (রহঃ)।
ইসলাম ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে পাথরে ভেসে সমুদ্র পথে এদেশে আসেন তিনি। তখন গোটা মানিকগঞ্জ এলাকাই ছিলো গভীর পানিতে নিমজ্জিত। হযরত ইব্রাহিম শাহ (রহঃ ) সিংগাইর উপজেলার পারিল নোয়াদ্দা গ্রামে এসেই তার প্রধান কাপ্তানকে নোঙর ফেলার নির্দেশ দেন। পারির নোয়াদ্দা নামও তিনিই দেন। যার বাংলা অর্থ পারাপার।
কাপ্তান তখন অবাক ও বিস্ময় হয়ে বললেন, হুজুর এখানে অথৈ পানি। এখানে নোঙর ফেললে মাটি পাওয়া যাবেনা।
হুজুর বললেন আমি যাহা বুঝি তোমরা তাহা বুঝনা। এই বলে তিনি নোঙর ফেলার সঙ্গে সঙ্গেই মাটির সন্ধান পেয়ে যান। এখানে জেগে উঠে চর। এই চরাভূমিতেই ইব্রাহিম শাহ (রহঃ) আস্তানা স্থাপন করে ইসলাম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন।
ইব্রাহিম শাহ (রহঃ) ছিলেন আধ্যাত্বিক সাধক। তাঁর নসিহতে মুগ্ধ হয়ে বহু লোক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। আনুমানিক ৬৩৯ বঙ্গাব্দের ১৩ ফাল্গুন তিনি পরলোক গমন করেন।
তার স্মৃতি রক্ষার্থেই পারিল গ্রামে তার মাজার নির্মিত হয়। একগম্বুজ বিশিষ্ট ঐতিহাসিক এ মাজারটির তিন দিকেই টিনের ছাউনি দেয়া বারান্দা। সংস্কারের অভাবে টিনগুলো মরিচা ধরে অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে। পূর্বদিকে মাজারটির প্রধান দরজা। মাজার চত্বরে কালো রংগের ৯ টি বড় পাথর সহ বেশ কিছু ছোট পাথরের খন্ড রয়েছে। পাথরগুলি ইব্রাহিম শাহ (রহঃ) বাগদাদ থেকে নিয়ে এসেছিলেন।
দর্শনার্থী এবং মানতকারীরা তাদের সন্তানদেরকে ঐ সকল পাথরের উপর দাঁড় করিয়ে দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে মানতের কাজ সমাধা করে থাকে। মাজারের উত্তর পাশে একটি বড় মসজিদ এবং পূর্বদিকে একটি পুকুর রয়েছে।
জনশ্রুতি আছে ততকালিন সময়ে এলাকায় কারো বাড়িতে অনুষ্ঠানের জন্য বিভিন্ন জিনিসের যেমন , ড্যাগ ,থালা,বাটি ,জগ, চামুচ,পাতিল ইত্যাদির দরকার হলে পুকুরঘাটে যেয়ে বাবার নাম ধরে চাইলে অলৌকিক ভাবে পুকুর থেকে তা পাওয়া যেত। কাজ শেষে তা ভালোকরে পুনরায় পুকুরে দিয়ে আসতে হতো।
প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের ১৩,১৪ তারিখ মাজারে ওরস অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার নারী পুরুষ এই মাজার জিয়ারত করতে আসেন। এই মহান আউলিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে বহুলোক দান খয়রাত করে থাকে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাজার কমিটির কয়েকজন সদস্য ও স্থানীয়রা বলেন, আগে মাজারের নামে ৪৪০ শতাংশ জমি ছিলো। এ জমি থেকে বিভিন্ন ভাবে যে আয় হতো তা দিয়ে মাজারের উন্নয়নের কাজ হতো। কিন্তু এলাকার স্বার্থবাদী মহল সব জমি বিভিন্নভাবে দখল করে নিয়েছে। ৬০ শতাংশ জমির ওপর মাজারটি রয়েছে। এখানে সরকারী কোন অনুদান আসেনা । হয়নি অবকাঠামোগত কোন উন্নয়ন। মাজার কমিটির সভাপতি সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মাজেদ খাঁন বলেন, মাজারের জমি ছিল অনেক। যে যার মত করে দখল করে কাগজপত্র করে নিয়েছে। দখলমুক্ত হলে এ মাজারও হযরত শাহ আলী (রহ:) এর মাজারের মত বড় হবে এবং অনেক লোকজন এখানে আসতে পারবে। সিংগাইর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সায়েদুল ইসলাম বলেন, আমি সবে মাত্র নির্বাচিত হয়েছি। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে দেখব। মাজারের জমি যদি কেউ আত্মসাত করে থাকে তবে উপজেলা প্রশাসন নিয়ে আমরা সেটা দখলমুক্ত করতে চেষ্টা করব ইনশাহ্ আল্লাহ। সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পলাশ কুমার বসু বলেন, মাজার কমিটির লোকজন কাগজপত্র নিয়ে এসে আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করলে অবশ্যই আমরা তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব।
এমএসএম / এমএসএম
সম্পদ বিলিয়ে আজ অনুতপ্ত ৮৫ বছরের শামসুল, বললেন ‘ভুল করেছি’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাগেরহাটে আগমনকে ঘিরে বিএনপি ও সাধারণ কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা
পটুয়াখালীতে আনসারের উচ্চতর প্রশিক্ষণের সমাপনী : গণপ্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান মহাপরিচালকের
তরিকুল ইসলামের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শালিখায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
শিবগঞ্জে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বিরোধপূর্ণ জমিতে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ
কালাইয়ে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ
বাউফলে ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রি কলেজের এডহক কমিটির সভাপতিকে সংবর্ধনা
রৌমারীতে স্বামীর স্বীকৃতির দাবিতে ৫ দিন ধরে অনশন স্ত্রীর, বিচার প্রতারণায় পরিবার
নবীগঞ্জে মাদ্রাসাবিরোধী অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে সমাবেশ
গুরুদাসপুরে কৃষকের বাড়িতে দফায় দফায় অগ্নিকাণ্ড, আতঙ্কে পরিবার
রায়পুরে চরবংশিতে ছুরিকাঘাত, বিএনপি নেতাসহ আহত ৪
বড়লেখায় ১৮ চা বাগানে শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনে প্রশাসনের প্রস্তুতি শুরু, ভোটার ৪ হাজার