মোহাম্মদপুরে ছাত্র আন্দোলনে নিহত আরও ২ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সহিংসতার ঘটনায় নিহত আরও দুই জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। চলতি বছরের জুন ও জুলাই মাসে শুরু হওয়া আন্দলোনকে ঘিরে মোহাম্মদপুর এলাকায় আহত ও নিহতের সংখ্যা যে কত তা নিয়ে সঠিক কোন পরিসংখ্যান নেই। তবে এই আন্দলোনের সহিংসতাকে কেন্দ্র করে জীবন দিতে হয়েছে আল শাহরিয়ার হোসেন রোকন নামের ২৩ বছরের এক দিনমজুরকে, এবং ওমর ফারুক নামে এক কিশোর’কে। রোকনের বাবা মনির হোসেন বলেন আমার ছেলে রোকন চকবাজার থেকে কম দামে বিভিন্নরকম পণ্য কিনে দোকানে দোকানে বিক্রি করতো।
নিহত রোকন ১৫৫ পশ্চিম কাটাসুর হেদু চৌধুরীর বাসায় পরিবার-সহ ভাড়া থাকতেন। বাবা মনির হোসেন বলেন কাটাসুর ময়ুর ভিলার দিকে একটি দোকানে বিল কালেকশন করতে গেলে এই দুর্ঘটনার শিকার হন। গুলি লেগেছে এই খবর শুনতে পেয়ে ছুটে গিয়ে দেখি আমার ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে সেখান থেকে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে ডাক্তাররা শহিদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিতে বলেন এখানে নিয়ে আসলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের তথ্য মতে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং পরবর্তী সময়ে সরকার পতনের পর সহিংসতায় সারা দেশে ৩২ শিশুসহ ৬৫০ জন নিহত হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় মানবাধিকার কমিশনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৬ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত ৪০০ জন এবং ৫ থেকে ৬ আগস্টের মধ্যে আরও ২৫০ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বিক্ষোভকারী, শিশু, পথচারী, সাংবাদিক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন।
এদিকে মোহাম্মদপুর বোর্ড গাঁট এলাকায় গত ৪ আগস্ট ওমর ফারুক নামে ১৬ বছরের এক কিশোর নিহত হয়েছে। ১৭ আগস্ট মোহাম্মদপুর বোর্ড গাঁট এলাকায় সরেজমিনে গেলে নিহতের ছোট ভাই বলেন, আমার ভাই ময়ূর ভিলার সামনে গিয়েছিল সেখানে তার বুকে কয়েকটি গুলি লাগে এই খবর শুনে আমরা ঘটনা স্থানে যেতে চাইলে তখন খুব গোলাগুলি চলছিলো যেতে পারিনি। পরবর্তীতে জানতে পারি আমার ভাইকে কয়েকজন মিলে সিকদার মেডিকেলে ভর্তি করেছে আমরা শুনে সিকদার মেডিকেলে ছুটে যাই। সেখানে গেলে ডাক্তার বলেন আমার ভাই আর বেঁচে নাই।
এই অবস্থায় আমার ভাইকে বাসায় নিয়ে এসে শহিদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করতে গেলে সেখানে যখন শুনছে গুলি লেগে নিহত হয়েছে তখন কবরস্থানের দায়িত্বে থাকা তারা দাফন দিতে দেয়নি। কবরস্থানে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা বলেন, গুলিতে নিহত হওয়া লাশ পুলিশের ভ্যারিফাই ছাড়া দাফন হবে না। তখন ছুটে যাই পুলিশের কাছে পুলিশ কোনো সহযোগিতা করে নাই। এরপর ছুটে যাই শহিদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে মৃত সনদ আনতে সেখানেও কেউ সহযোগিতা করে নাই এই অবস্থায় আমরা একটি পিকাপ ট্রাকে করে লাশ ভোলা সদরে নুরাবদ এলাকায় নিয়ে দাফন করি। কথাগুলো বলতে বলতে কেঁদে দেন নিহতের ছোট ভাই।
নিহত ওমর ফারুকের মা এখনো অঝোরে কাঁদছেন আর বলছেন আমার ছেলেটির কি দোষ ছিলো, এতো ছোটো ছেলে কি বুঝে? তাঁকে কেনো গুলি করে হত্যা করা হলো। নিহত হওয়ার এক ঘন্টা আগেও মায়ের হাতে ভাত খেয়ে বাসার বাহিরে বের হয়েছিলো ওমর ফারুক। চলতি মাসের ৪ আগস্ট মোহাম্মদপুর এলাকায় যখন ব্যাপক সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয় তখন কয়েকশো আহত ব্যক্তি’কে হাজারীবাগ বেড়িবাঁধ এলাকায় সিকদার মেডিকেলে ভর্তি করা হয়, ও কয়েকজন নিহত ব্যক্তির লাশ সেখানে রাখা হয়।
ওই হাসপাতালে ভার্তি হওয়ার তথ্য রয়েছে সকালের সময়ের হাতে। সেখালে সন্ধ্যা থেকে রাত ১০ পর্যন্ত সকালের সময়ের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। সিকদার মেডিকেলে মোহাম্মদপুর, হাজারীবাগ, ধানমন্ডি ও ঝিগাতলার বেশির ভাগ আহত ও নিহত লোক এসেছিলো।
জামিল আহমেদ / জামিল আহমেদ
বিমানবন্দরের অগ্নিকাণ্ড নিয়ে পরিদর্শন, গণমাধ্যমকে ব্রিফ করলেন না মন্ত্রী
যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি রেজাউল কবির পল
বসিলা গার্ডেন সিটিতে ছওয়াবের উদ্যোগে ২ হাজার পরিবারের মাঝে কোরবানির গোশত বিতরণ
কেআইবিতে সংস্কার কাজের টাকা নিয়ে বিভ্রান্তি
জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে জিয়া সাইবার ফোর্স যুক্তরাষ্ট্রের শ্রদ্ধাঞ্জলি
গুলশান-বনানী ও হাতিরঝিল লেক উন্নয়নে রাজউক ও সিটি করপোরেশনের সমন্বিত জোরদার নির্দেশ
মোহাম্মদপুরে যুবদলের ঈদ পুনর্মিলনী ও নৈশভোজ অনুষ্ঠিত
বনানী কবরস্থানের পাশে শহীদের স্পা সেন্টারে চলছে দেহব্যবসা ও মাদক বাণিজ্য
আরইবির সদস্য আব্দুর রহিম মল্লিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার
সবুজবাগ থানার এসআই সৈকত কাইয়ুমসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়সহ চার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ
মুগদার মানিকনগরে গভীর রাতে প্রাইভেটকার থেকে ৩২ কেজি গাঁজা পাচারের অভিযোগ, গাড়ি জব্দ
মিরপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে জাল টাকা ও জাল নোট তৈরির সরঞ্জামসহ যুবক গ্রেফতার