লালবাগে মৃত্যুর মুখে শত শত মানুষ: হেলে পড়া ভবনেও 'নিস্পৃহ' রাজউক!
রাজধানীর লালবাগের শহীদ নগরে একটি বহুতল ভবন ভয়াবহভাবে হেলে পড়লেও রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ভবনটি দৃশ্যমানভাবে হেলে পড়ায় শত শত বাসিন্দার জীবন এখন চরম ঝুঁকিতে। অথচ রাজউকের জোন-৫ (ধানমন্ডি-লালবাগ এলাকা) এর কর্মকর্তারা দায়সারা পরিদর্শন শেষ করে কার্যত কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনমনে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সরেজমিনে পাওয়া তথ্য ও এলাকাবাসীর স্বাক্ষরিত অভিযোগ পত্র থেকে জানা যায়, শহীদ নগর ৫ নম্বর রোডের ৩০৬ নম্বর হোল্ডিংয়ের বহুতল ভবনটি গত ভূমিকম্পের পর থেকে একদিকে হেলে পড়েছে। ভবনটির কাঠামোতে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং বিম-কলামগুলো বেঁকে গিয়ে চরম কাঠামোগত ত্রুটি সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তারা এখন প্রতি মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। ভবনটি ধসে পড়লে আশেপাশের কয়েক ডজন মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা থাকলেও টনক নড়ছে না প্রশাসনের।
ইমারত নির্মাণ আইন ১৯৫২ (সংশোধনী ২০০৬) অনুযায়ী রাজউক অনুমোদিত নকশা ছাড়া ভবন নির্মাণ দণ্ডনীয় অপরাধ। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই ভবনটি নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার আইনি কাগজপত্র বা রাজউকের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। সম্পূর্ণ অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এই ভবনটি নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পরও রাজউক কর্মকর্তাদের কোনো শক্ত আইনি ব্যবস্থা (যেমন: ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা বা সিলগালা করা) নিতে দেখা যায়নি।
অভিযোগ উঠেছে, ভবন মালিক আতিকুর রহমান, মো. হানিফ ভূঁইয়া এবং মাসুদ আলম স্বপন রাজউকের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে পুরো বিষয়টি 'মৌখিক আশ্বাসে' সীমাবদ্ধ রেখেছেন। তারা বুয়েটের মাধ্যমে ডিইএ (DEA) রিপোর্ট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সময়ক্ষেপণ করছেন, যা আসলে দুর্ঘটনার ঝুঁকিকে আরও দীর্ঘায়িত করছে।
রাজউকের মতো একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা কীভাবে একটি সম্পূর্ণ অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ক্ষেত্রে 'মৌখিক প্রতিশ্রুতি'র ওপর ভিত্তি করে হাত গুটিয়ে বসে আছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নগর বিশেষজ্ঞরা। অত্র এলাকার জনসাধারণের প্রশ্ন—
অনুমোদনহীন ভবনের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক উচ্ছেদ বা সিলগালা করার ক্ষমতা থাকলেও কেন তা করা হচ্ছে না?
কোনো বড় ধরনের প্রাণহানির পর কি রাজউকের ঘুম ভাঙবে?
ভবন মালিকদের সাথে রাজউকের কর্মকর্তাদের কোনো 'গোপন সমঝোতা' রয়েছে কি না?
ভবনটির সংলগ্ন বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাজউক কর্মকর্তাদের গড়িমসির কারণে তারা এখন ভিটেমাটি ছেড়ে পালানোর উপক্রম। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজউক জোন-৫ এর কর্মকর্তারা পরিদর্শন করে গেলেও ভবনটিকে 'ঝুঁকিপূর্ণ' হিসেবে চিহ্নিত করে লাল নোটিশ ঝোলাননি, যা সরাসরি অবহেলা ও জননিরাপত্তার প্রতি চরম অমর্যাদা।
জনসাধারণের দাবি, কোনো বিশেষ তদন্ত বা 'মৌখিক প্রতিশ্রুতির' অপেক্ষা না করে অবিলম্বে এই মরণফাঁদ সদৃশ ভবনটি সিলগালা করা হোক এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় রানা প্লাজা বা নিমতলীর মতো কোনো ট্র্যাজেডির দায় রাজউককেই নিতে হবে।
এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত অভিযোগের বিষয়ে রাজউকের জোন-৫ এর কর্মকর্তা মোঃ রাকিবুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করা করা হলে তিনি জানান তারা (ভবন মালিক) বুয়েটের মাধ্যমে ডিইএ (DEA) রিপোর্ট দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তাই অপেক্ষায় আছি।
এমএসএম / এমএসএম
উত্তরায় চালু হলো আধুনিক ‘কাজী ড্রাইভিং ট্রেনিং স্কুল
লালবাগে মৃত্যুর মুখে শত শত মানুষ: হেলে পড়া ভবনেও 'নিস্পৃহ' রাজউক!
গেন্ডারিয়ায় রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান: নকশাবহির্ভূত অংশ ভাঙা, জরিমানা ও মিটার জব্দ
তুরাগে অবৈধ সড়ক নির্মাণের অভিযোগ, ন্যায়বিচারের দাবিতে আদালতে মামলা
বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের দৃশ্যমান নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আতাউর রহমান
৮০০ কোটি টাকার জমি ৪০০ কোটিতে বিক্রির ছক : স্বার্থান্বেষী চক্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
ইভ্যালির রাসেল-শামীমা গ্রেপ্তার
গুলশান ও তেজগাঁও শিল্প এলাকায় রাজউকের মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযান
নীল অর্থনীতির স্বপ্নভঙ্গ: বিশ্বব্যাংকের হাজার কোটি টাকা ফেরত, উপকূলবাসী বঞ্চিত—ব্যর্থতার দায় কার?
রাজধানীতে বাসে চড়তে হলে কাটতে হবে ই-টিকেট
চাঁদার দাবিতে ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকি ডিএমপিতে অভিযোগ
নিটোরে বেগম খালেদা জিয়ার ভিত্তিপ্রস্তর পুনঃস্থাপন