ঢাকা শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫

সুন্দরগঞ্জে নারীদের মূর্তিমান আতঙ্ক লম্পট আতারুল


মজিবর রহমান, গাইবান্ধা photo মজিবর রহমান, গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ১১-১০-২০২৪ বিকাল ৫:১৪

একের পর এক বিয়ে, অতঃপর তালাক। জোরপূর্বক ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা, নারীদের যৌন হয়রানিসহ একাধিক নারীর জীবন নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে আতারুল নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের সীচা গ্রামে। আর একটি গ্রামে বারবার এক ব্যক্তির এমন অনৈতিক কার্যকলাপে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে গোটা গ্রামের মানুষ। লম্পট আতারুল ইসলাম সীচা গ্রামের টোনপাড়ার মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে। 

সম্প্রতি ধর্ষণের শিকার এক গৃহবধূ পাঁচ মাসের অন্তঃসত্বা হওয়ার ঘটনা জানাজানি হলে আতারুলের নামটি আলোচনায় আসে। এ ঘটনার পর বাড়ি থেকে পালিয়েছেন লম্পট আতারুল। তবে এ ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিলেও তদন্তের পর থেমে আছে থানার কার্যক্রম। এদিকে বিচার না পেয়ে হতাশ ভুক্তভোগীর পরিবার।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ এবং এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ মে রাতে বাড়িতে বাবা-মা না থাকার সুযোগে ভুক্তভোগীর পিছু নেয় নারীলোভী আতারুল। এ সময় গোয়ালঘরে গরুকে খড় দিতে গেলে আতারুল ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূকে জোরপূর্বক মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে। পরদিন এ ঘটনা যাতে কাউকে না বলে সেজন্য জীবননাশের হুমকিসহ সামাজিক হয়রানির ভয় দেখায় ওই গৃহবধূকে। স্বামী না থাকার সুযোগে আরো কয়েক দিন জোরপূর্বক মেলামেশা করে আতারুল। ঘটনার তিন মাস পর ভুক্তভোগী গৃহবধূ গর্ভধারণ করলে ঘটনা পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ লম্পট আতারুলের বিরুদ্ধে সুন্দরগঞ্জ থানায় ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন। 

সরেজমিন কথা হয় সীচা গ্রামের টোনপাড়ার ষাটোর্ধ্ব ইয়াজল মিয়ার সঙ্গে। সম্পর্কে তিনি ভুক্তভোগীর চাচাশ্বশুর। আতারুল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি অনেকটা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, 'সে এক বাপের এক বেটা (ছেলে)। কিছু জমিজমা আছে। অটো চালায়। বিয়ে করে আর ছাড়ে। তার বিরুদ্ধে নারীঘটিত একাধিক অভিযোগ আছে। ওর চরিত্রের কারণে এলাকার মেয়ে, ভাতিজা, বউ সবাই এখন সন্ধ্যা হলেই বাড়ির ভেতরে চলে যায়। সে আমার ভাতিজার বউকে ধর্ষণ করেছে। পাঁচ মাসের বাচ্চা পেটে। লজ্জায় মুখ দেখাতে পারি না।

ভুক্তভোগীর শ্বশুর লাল মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, 'আমার ছেলে সামিউল এপ্রিল মাসে চট্রগ্রামের রাঙ্গামাটির একটি ইটভাটায় কাজ করতে যায়। ছেলের স্ত্রী দুই মেয়ে নিয়ে আমার বাড়িতেই থাকে। পাশেই বাপের বাড়ি বেড়াতে গেলে আতারুলের কুনজরে পড়ে আমার ছেলের স্ত্রীর দিকে। সেখানেই ধর্ষণের শিকার হয়ে এখন সে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই আতারুল গ্রামের অনেক মেয়ের সর্বনাশ করেছে। অনেক নারীর সংসার নষ্ট করেছে। প্রশাসনের কাছে আমরা তার কঠিন শাস্তি দাবি করছি।'

ভুক্তভোগী গৃহবধূ বলেন, 'গত মে মাসের ২০ তারিখ রাতে গরুর ঘরে খড় দিতে গেলে আতারুল আমাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। আমি কান্নাকাটি শুরু করলে সে মুখ চেপে ধরে এবং এ কথা কাউকে না বলার জন্য নিষেধ করে। ভয় দেখিয়ে আরো কয়েক দিন মেলামেশা করে। আমি লোকলজ্জার ভয়ে এ কথা কাউকে বলতে পারিনি। এক সময় আমি অনুভব করলাম পেটে বাচ্চা এসেছে। ওই ঘটনার প্রায় এক মাস আগে আমার স্বামী সামিউল ইটভাটার কাজ করতে চট্রগ্রামে যায়। লোকমুখে অন্তঃস্বত্ত্বা হওয়ার খবর শুনে আমার স্বামী বাড়ি এসেছিল। সে আমার সাথে একটা কথাও বলেনি। আমার ছোট ছোট দুটি মেয়ে আছে। ওই লম্পটের কঠিন শাস্তি চাই। না হলে আত্মহত্যা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় নেই।'

সীচা গ্রামের টোনপাড়ার আরেক বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব মর্জিনা বেগম এই প্রতিবেদককে আতারুল ইসলাম সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য জানালেন। তিনি বলেন, 'ওই চেংরা (ছেলে) আমার নাবালক মেয়েকে বিয়ে করিয়ে, ছাড়ি (ছেড়ে) দিচে। আরেকটা বিয়ে করি, সেটাও ছাড়ি দিচে (দিয়েছে)। তারপর একজনার সাথে অঘটন করিয়্যে (করে), তাক বিয়ে করে। সেটাও ছাড়ি দিচে। এঙ্কে (এক রকম) করিয়ে তিনটে জীবন শ্যাষ (শেষ) করি দিচে। আরো একটা বাড়িত বউ আছে। যে চেংরীর (ভুক্তভোগীর) এই কাম করচে, তারও খালাতো বনোক (বোনকে) ৫০০ ট্যাকার প্রস্তাব দিছিল। রাতের বেলায় আরো একজনের বউয়ের ঘরের ভেতর ওই চ্যাংরা ঢুকছিল। চিল্লান দেয়ার পর ল্যাম্পো (গ্রামীণ তেলের বাতি) নিয়ে দৌড় দিয়্যে পালাইছিল। ওই চেংরা দুনিয়ার খারাপ। উয়ার (আতারুলের) হামরা ফাঁসি চাই।'

চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুম মিয়া বলেন, আমি মেম্বারের কাছে এ ঘটনার কথা জেনেছি। ভুক্তভোগী পরিবার এবং গ্রামের লোকজন আমার কাছে এসেছিল। ধর্ষণের বিচার করার ক্ষমতা ইউনিয়ন পরিষদের নেই। বিষয়টি এখন আইন-আদালতের ব্যাপার। 

অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা সুন্দরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক আসাদুল ইসলাম বলেন, আমি ভুক্তভোগী এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছি। ওসি স্যারের অনুমতি পেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। এখনো মামলা হয়নি বলেও তিনি জানান। 

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম বলেন, রিপোর্ট অনুযায়ী প্রায় পাঁচ মাসের অন্তঃস্বত্বা ওই গৃহবধূ। তার স্বামী বর্তমান থাকায় পেটে কার বাচ্চা, সেটা ডিএনএ টেস্ট ছাড়া বের করার উপায় নেই। আমি আদালতে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছি।

T.A.S / জামান

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটিতে একদিনে রেকর্ড কনটেইনার হ্যান্ডলিং

দোহাজারীতে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

শিবচরে এক্সপ্রেসওয়ে থেকে গরু ছিনতাই, আন্তঃজেলা ডাকাতদলের ৩ সদস্য গ্রেফতার

প্রধান উপদেষ্টার রোডম্যাপ সুষ্ঠু নির্বাচন ভণ্ডুল করার নীল নকশা: ডা. তাহের

টাঙ্গাইলে স্বর্ণকারের বাড়িতে ডাকাতির মূলহোতা'সহ ৭ ডাকাত গ্রেপ্তার

আনোয়ারায় শ্রমিক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে যুবলীগ নেতা শাহ জালাল

কোটালীপাড়ায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ ছাত্রদলের নবগঠিত হল কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ

‎কুতুবদিয়ায় বিশেষ অভিযানে আওয়ামী লীগ সদস্য গ্রেফতার

রায়গঞ্জে বিপিএলের ধাঁচে ফুটবলার নিলাম, গ্রামে উৎসবের আমেজ

মানিকগঞ্জে শিশুকে গণধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ৩

শেরপুরে গোয়ালঘরে কয়েলের আগুন ৮টি গরু ও ৪টি ছাগল পুড়ে ছাই

শ্রেণিকক্ষে হাঁটুপানি, ভাড়া করা ঘরে চলছে পাঠদান