কুড়িগ্রামের মেয়েরা আত্মরক্ষায় শিখছে কারাতে
উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রামের মেয়েরা যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় আর পিছিয়ে থাকতে চায় না । নিজেদের আত্মরক্ষায় কারাতে প্রশিক্ষণ নিতে বদ্ধপরিকর । দেশের সর্বত্রই কারাতে প্রশিক্ষণের প্রচলন থাকলেও কুড়িগ্রামেও কারাতে প্রশিক্ষণ কর্মশালার এগিয়ে এসেছে স্থানীয় একটি সংস্থা মহিদেব যুব সমাজ কল্যাণ সমিতি (এমকেজেএসকে) । তারা পৌর এলাকাসহ জেলা সদরের বিভিন্ন ইউনিয়নে কারাতে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ।
সামাজিক বুলিং, হেয় আর তাচ্ছিল্যতাকে উপেক্ষা করে মেয়েদের আত্মরক্ষার্থে কারাতের উপর নির্ভরশীলতার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে । অভিভাবকদের আগ্রহ আর মেয়েদের ইচ্ছাশক্তি থেকেই গড়ে উঠেছে কারাতে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ।
কুড়িগ্রাম জেলা শহরের কলেজ মোড়স্থ সাধারণ পাঠাগার চত্বর ও জেলা সদরের যাত্রাপুর ও পাঁচগাছি ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে মহিদেব যুব সমাজ কল্যাণ সমিতি । প্রতিদিন সকালে ও বিকালে শিক্ষার্থীরা এ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে । এ কারাতে প্রশিক্ষণে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরাই বেশি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে । অভিভাবকরা বাইরে বসে নিজ সন্তানদের নানা কৌশল উপভোগ করেন ।
শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেন খাঁজা ইউনুস ইসলাম ইদুলসহ কারাতে তিন প্রশিক্ষক । কমিউনিটি ভিত্তিক জলবায়ু ও নারীর ক্ষমতায়ন কর্মসূচি-ক্রিয়া, মহিদেব যুব সমাজ কল্যাণ সমিতির আয়োজনে, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও সুইডেন সরকারের অর্থায়নে এ প্রশিক্ষণ করা হয় । বর্তমানে এ সংস্থার তথ্যাবধানে ছেলে মেয়ে মিলে ৪২ জন কারাতে প্রশিক্ষণ মধ্যেই মেয়েই রয়েছেন ৩৫ জন ।
প্রশিক্ষণে নেওয়া অনেক শিক্ষার্থীরা জানায়, এ প্রশিক্ষণ রপ্ত করে তারা আত্মবিশ্বাসী ও মনোবল সুদৃঢ় হয়েছে । মানসিকভাবে জোড় বৃদ্ধি পেয়েছে । যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে । রাস্তায় চলাফেরা করতে বখাটেদের উৎপাতের জবাব দিতে কিংবা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া করেও আত্মতৃপ্তি লাভ করছে । এ ছাড়াও এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের শারীরিক সক্ষমতা ও আত্মরক্ষায় বিভিন্ন কৌশল রপ্ত করছে।
কারাতে প্রশিক্ষণে অংশ নিতে আসা শিক্ষার্থী জেসমিন, রূপালী বলেন, আমরা এখানে ৪০ দিন ধরে কারাতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছি । প্রথম দিকে গ্রামের মানুষের নানা ধরনের মন্তব্য শুনতে হতো । মেয়েরা নষ্ট হয়ে গেছে । মেয়েরা এসব কি করছে । এখন আমরা শারীরিক ও মানসিকভাবে উন্নতি হয়েছি । বর্তমানে আমাদেরকে চলতে ফিরতে নানাভাবে হয়রানির স্বীকার হয় । যে প্রশিক্ষণ নিয়েছি তাতে করে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিজেকে সক্ষম করেছি । নিজেদের আত্মরক্ষায় এ প্রশিক্ষণকে কাজে লাগাতে পারবো ।
সাত বছরের শিশু মালিহা বলেন, বাবার সাথে আমি প্রতিদিন এখানে কারাতে প্রশিক্ষণ নিতে আসি । নিজেকে রক্ষায় এ প্রশিক্ষণ আমার খুব প্রয়োজন । এ ছাড়াও এ প্রশিক্ষণ নিতে আমার খুব ভালো লাগে ।
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী জিনাত আরা বলেন, এখানে আমি দুই মাস থেকে প্রশিক্ষণ নিচ্ছি । শুরুর দিকে ছেলেদের সাথে প্রশিক্ষণ নিতে হতো । এখন মেয়ে প্রশিক্ষণার্থী বেশি । ভীষণ ভাল লাগে এখন । আমার আত্মরক্ষার জন্য এ প্রশিক্ষণ জরুরি ছিল । কারাতে প্রশিক্ষণ মনোবল ও আত্মবিশ্বাস দু'টোই সুদৃঢ় করে । আমি মনে করি এ দেশের প্রতিটি নারী কিংবা পুরুষ নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য এ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা উচিৎ । এতে করে শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে । নারীরা ইভটিজিং এর হাত থেকে রক্ষা পাবে ।
সময়ের প্রয়োজনে কুড়িগ্রামের মেয়েরা শিখছে কারাতে । জীবন যুদ্ধে তাঁরা এখন পিছিয়ে নেই । জীবনের প্রয়োজনে নানা ধরনের কর্মমূখী কাজে জড়িয়ে পড়ছেন তাঁরা । দরীদ্রপিড়িত এ জেলার মেয়েরা সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কর্মব্যস্ত থাকে ঘরের ভীতরে এবং বাইরে । চলতে হয় একা একা । এ সময় বখাটে ছেলেদের যৌন হয়রানির স্বীকার হতে হয় । এ হয়রানির মাত্রা দিনের পর দিন বেড়েই চলছে । দেখার কেউ নেই, বলার কেউ নেই । এ সমস্যা শুধু শহরেই সীমাবদ্ধ নেই, গ্রামেও ঘটছে প্রতিনিয়ত । বর্তমানে কিশোর অপরাধ প্রকট আকার ধারণ করায় মেয়েরা এখন কোথাও নিরাপদ নয়। ফলে বখাটে ছেলেদের উৎপাত থেকে রেহাই পেতে স্কুল পড়ুয়া মেয়েরা নিজেদের প্রয়োজনে শিখছে কারাতে
অভিভাবকরা বলেন, আমি একজন সচেতন মা হিসেবেই আমার মেয়েকে কারাতে প্রশিক্ষণে নিয়ে এসেছি । এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সে কারাতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে । এখন মেয়ের সঙ্গে নিয়ে যে কোন জায়গায় যেতে পারি, নিজের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার ভয়টা আর কাজ না। প্রত্যেকেরই উচিৎ নিজেদের ছেলে- মেয়েদের কারাতে প্রশিক্ষণ দেয়া ।
মহিদেব যুব সমাজ কল্যাণ সমিতির (এমকেজেএসকে) জেলা প্রকল্প সমন্বয়কারী মোঃ লুৎফর রহমান বলেন, শিক্ষার্থী ছেলে-মেয়েদের আত্মরক্ষার্থে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু শিক্ষার্থীকে কারাতে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে । তবে বরাদ্দ সাপেক্ষে পরবর্তীতে আরও ব্যাপকভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে ।
কুড়িগ্রাম কারাতে ফেডারেশনের প্রধান সমন্বয়ক ও প্রশিক্ষক খাঁজা ইউনুস ইসলাম ইদুল জানান, আমি তিন যুগ ধরে কারাতে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করে আসছি । মেয়েদের তেমন আগ্রহ ছিল না । এখন এ প্রশিক্ষণে মেয়েরাই বেশি । বর্তমানে আমরা ৩ জন প্রশিক্ষক রয়েছি । আমাদের কোন বেতন-ভাতা নেই । বিভিন্ন এনজিও কিংবা কোন বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ হলে কিছু সম্মানি পাই । তা দিয়ে কতক্ষন । জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে স্থায়ীভাবে আমাদের বেতন কিংবা সম্মানিভাতা চালু করলে আমরা এ কার্যক্রমকে আরো সচল করতে পারবো বলে আমার বিশ্বাস ।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি নুশরাত পারভিন জানান, কারাতে প্রশিক্ষণে মেয়েদের সংখ্যা বৃদ্ধি, এটি নি:সন্দেহে ইতিবাচক । মেয়েদের প্রশিক্ষণ নিতে কারাতে ম্যাটসহ যেসব সংকট রয়েছে তা দ্রুততম সময়ে সমাধান করা হবে।
এমএসএম / এমএসএম
বারহাট্টার বাজারে শীতকালীন সবজি এলেও চড়া দামে হতাশ ক্রেতারা
দোহাজারী রেলস্টেশনে প্রান্তিক কৃষকদের কৃষিপণ্য পরিবহনে লাগেজ কোচ চলাচলের উদ্বোধন
কেশবপুরে কালিয়ারই এস.বি.এল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নতুন বই বিতরণ
জনজীবন চরম দুর্ভোগ: তাপমাত্রা নেমেছে ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে
তাড়াশে বেগম জিয়ার আত্মার শান্তি কামনা করে প্রার্থনা
তারাগঞ্জে আলহাজ্ব আতিয়ার রহমানের জানাজা অনুষ্ঠিত
কুতুবদিয়ায় গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা, ঘাতক আটক
বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিলেন বিএনপি ও জিয়া পরিষদ নেতা অধ্যাপক বি.এম নাগিব হোসেন
ভূরুঙ্গামারীতে বিএনপির উদ্যোগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি
তানোর ও গোদাগাড়ীতে টমেটোর ফলন বিপর্যয়, কৃষকের মাথায় হাত
ধোপাছড়িতে বেগম খালেদা জিয়ার শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
বড়লেখা সীমান্তে বিজিবির টহলে ২টি ভারতীয় গরু আটক