ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬

উলিপুরে নজির হোসেন ও নুর আলম দুই ভাইয়ের র‌শি তৈরির কারখানা


কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি photo কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৪-৫-২০২৫ দুপুর ২:৪

নজির হোসেন ও নুর আলম দুই ভাই। ছোটবেলা থেকে একসাথে বড় হয়েছেন। এস এস সি পাশের পর শিক্ষক বাবার সংসারে অভাবের কারণে নজির হোসেন পরিবারের হাল ধরতে পড়ালেখা না করে ২০০৩ সালে মুন্সিগঞ্জের মুক্তাপুরে একটি দড়ির কারখানায় ৬ হাজার টাকা বেতনে শ্রমিকের কাজ নেন। ছোট ভাই নুর আলম কিছুদিন পর সেখানে মেকানিক্সের কাজ নেন। তারা দুই ভাই প্রায় দুই দশক চাকরি করে তেমন কোন উন্নতি না পেয়ে চাকরি ছেড়ে দিয়ে  বাবার সহায়তায়   ধার দেনা করে ২ লাখ ৫০হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করেন দড়ি তৈরির কারখানা। বর্তমানে তাদের কারখানায় চারজন শ্রমিক কাজ করছে।

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের রাজবল্লভ গ্রামে নিজ বাড়িতেই 'নজির হোসেন দড়ি ঘর' নামে দড়ি তৈরির কারখানা গড়ে তুলেছেন।

সরেজমিনে  গিয়ে দেখা গেছে, মেশিনে সুতা দিয়ে দড়ি তৈরি হচ্ছে। আধাপাকা টিনশেড ঘরের মেঝেতে ১৫টি মেশিন বসানো হয়েছে। সেখানে নারী শ্রমিকরা কাজে ব্যস্ত তদারকি করছে নজির হোসেন নিজেই। সেখানে বিভিন্ন রঙের পাতলা, চিকন, মাঝারি ও মোটা সাইজের দড়ি তৈরি হচ্ছে। চাকরি ছেড়ে আসা দুই ভাইয়ের চোখে মুখে হতাশার ছাপ এখনো কাটেনি। প্রতি মাসে আয়ের বিপরীতে লোকসান গুণতে হচ্ছে তাদের। পুঁজির অপর্যাপ্ততা ও বৈদ্যুতিক লোডশেডিং এর কারণে এখনো তারা স্বনির্ভর ও স্বচ্ছল হতে পারে নাই। হাল ছাড়ছে না। তারা স্বপ্ন দেখে একদিন তাদের কারখানা অনেক বড় হবে। দিন রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করছে।

উদ্যোক্তার বাবা মাদরাসা শিক্ষক নুর মুহাম্মদ জানান, 'বড় ছেলে নজির হোসেন এসএসসি পাশ করে ২০০৩ সালে ঢাকায় একটি দড়ির কারখানায় চাকরি নেন। কিছুদিন পর ছোট ছেলে নুর আলম সেখানে কাজে যায়। দুইভাই সেখানে দীর্ঘদিন কাজ করলেও সন্তুষ্ট ছিল না। পরে তারা চাকরি ছেড়ে দিয়ে নিজেরাই বাড়িতে কারখানা গড়ে তোলেন।'
তাদের কারখানার তৈরি ফিতা রশি গ্রমাঞ্চলে গরু, ছাগল, ভেড়া বাঁধতে বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে ভ্যান, ট্রলি ও ট্রাকে মালামাল বাঁধার কাজে ব্যবহৃত হয়।

কারখানার শ্রমিক লাকী বেগম ও রওশন আরা জানান, আমাদের গ্রামে দড়ি তৈরির কারখানা গড়ে উঠবে কখনো ভাবতে পারি নাই। এটি তৈরি হওয়াতে বাড়িতে থেকে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ টাকা করে হাজিরায় মজুরি পাচ্ছি। তাই দিয়ে দুই বছর থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে ভালই চালাচ্ছি।

উদ্যোক্তা নুর আলম জানান, প্রথম দিকে চারটি মেশিন দিয়ে শুরু করি। পর্যায়ক্রমে তা বৃদ্ধি পেয়ে এখন ১৫টি মেশিন  কারখানা স্থাপন হয়েছে। বর্তমানে দৈনিক গড়ে ৬০ কেজি দড়ি উৎপাদন হচ্ছে যা তুলনামূলক অনেক কম। এর প্রধান কারণ হচ্ছে মেশিনগুলো বিদ্যুৎ চালিত আমাদের এলাকায় নিয়মিত বিদ্যুৎ থাকে না দিনে কমপক্ষে সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সময়ে দুই থেকে তিন ঘন্টা লোডশেডিং থাকে  তাই উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে না। ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে।

নজির হোসেন জানান, প্রথমে আড়াই লাখ টাকা বিনিয়োগ করি। ৬ হাজার টাকা বেতনে চাকরি ছেড়ে দিয়ে বাড়িতে আসি এত টাকা ছিল না। বাবা ও আাত্মীয় স্বজনদের কাছে ধারদেনা করে কারখানা শুরু করি। তিনি আরো বলেন, দুই ভায়ের স্বপ্ন কারখানা বড় করা। এতে এলাকার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। তবে এর জন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন। সরকারিভাবে সহযোগিতা করলে উৎপাদন বাড়িয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।

কুড়িগ্রাম বিসিকের উপ-ব্যবস্থাপক শাহ মোহাম্মদ জোনায়েদ বলেন, তারা যোগাযোগ করলে তাদের সমস্যা  সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

এমএসএম / এমএসএম

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় ৩ হাজার ১৮৫ আখচাষিকে ৯৫ লাখ টাকা প্রণোদনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

চুয়াডাঙ্গায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির মৃত্যু

হবিগঞ্জের মাধবপুরে শারদীয় দুর্গোৎসব: পূজার আলোয় সম্প্রীতি ও মানবতার বন্ধন

কক্সবাজারে সৈকতে ভেসে এলো আরও এক মরদেহ, নিহত বেড়ে ৪

চাঁদপুরে মা ইলিশ রক্ষায় দুই অভিযানে আটক ৭, জাল ও নৌকা জব্দ

মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

বাগেরহাটে ইঁদুর মারার বৈদ্যুতিক ফাঁদে প্রাণ গেল কৃষকের

​দৌলতখানে সুপারি বাগানে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু: এলাকায় গুঞ্জন

নেত্রকোণায় শান্তিপূর্ণভাবে শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জন ৫৪৯ মণ্ডপে

মনপুরায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে ওজোপাডিকো কার্যালয়ে হাজীরহাট বাজারের ব্যবসায়ীদের অবস্থান

রুপগঞ্জে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় চালকসহ দুইজন নিহত

সাজেক সড়কে ফের অবরোধ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলি

লাকসামে শারদীয় দূর্গোৎসবের মধ্য দিয়ে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন