উপবালা হত্যা মামলা: সত্য ঘটনার মিথ্যা বিচার
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার টংগুয়া কুমারপাড়ার এক বিভীষিকাময় ঘটনার নাম এখন ‘উপবালা হত্যা মামলা’। ২০২২ সালের ২৯ জুলাই সন্ধ্যায় বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়ির পথে রওনা হয়েছিলেন উপবালা রায় (২৭)। সঙ্গে ছিলেন তাঁর কন্যা বিপাশা (১১)। কিন্তু তাঁদের সেই যাত্রা গন্তব্যে পৌঁছায়নি। মাঝপথে মা মেয়ে দুজনের ওপরই হামলা চালানো হয়। ধানক্ষেতে উপবালার মরদেহ পড়ে থাকে, আর তার পাশেই মেয়ে বিপাশা আহত অবস্থায় পড়ে থাকে।
ঘটনার পর পুরো উপজেলায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও এমনকি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা বর্জন এই বিচারপ্রক্রিয়ার দাবিতে পরিণত হয়। একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী বিপাশা তখন মণ্ডপে বসে অবস্থান কর্মসূচিও পালন করে। তার কণ্ঠে একটাই দাবি ছিল—“মায়ের হত্যার বিচার চাই”।
ঘটনার পরদিন উপবালার স্বামী নিশান চন্দ্র রায় খানসামা থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। শুরুতে থানা পুলিশ, পরে তদন্তের দায়িত্ব নেয় পিবিআই দিনাজপুর। দীর্ঘ ২ বছর ৯ মাস পর পিবিআই আদালতে ‘ফাইনাল রিপোর্ট’ জমা দেয়। অথচ অভিযোগ রয়েছে, বাদীকে কিছুই জানানো হয়নি।
নিহতের স্বামী বলেন, “পিবিআই বলে আমাকে জানানো হয়েছে, কিন্তু আমি কিছুই জানি না। বিচার কবে পাব?গরিব মানুষ বলে কি আমাদের কোনো বিচার নাই?”
তাঁর কথায় ঝরে পড়ে হতাশা—“বিচার কি শুধু টাকার জন্য হয়?”নিহতের কাকা দ্বিজেন্দ্রনাথ ও বাবা মথুরা রায় স্পষ্ট অভিযোগ করেন, প্রাথমিক তদন্তেই থানা পুলিশ বিশেষ করে তৎকালীন ওসি চিত্তরঞ্জন ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তারা বলেন, “তিনি তখন বলেন, এটি বজ্রপাতের ঘটনা। অথচ শরীরে ছিল আঘাতের চিহ্ন, ধর্ষণের আলামত।” পিবিআই বলছে, “ঘটনাটি মিথ্যা নয়। কিন্তু শিশুকন্যা বিপাশার বক্তব্য একেক সময় একেক রকম হওয়ায় নির্দিষ্ট করে কিছু প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি।”
এই বক্তব্য নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। সমাজকর্মীরা বলছেন—“১১ বছরের এক শিশু ভয়াবহ এক ঘটনা দেখে এসেছে, তাকে শতাধিকবারবজেরা করা হলে তার মানসিক ভারসাম্য থাকবে কীভাবে? বক্তব্যে অস্থিরতা থাকাই স্বাভাবিক।
এটা পিবিআইয়ের তদন্ত দক্ষতার ব্যর্থতা, শিশুর দোষ নয়।”এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার আরও একটি বড় অভিযোগ তুলেছে—তদন্ত প্রক্রিয়া থমকে যাওয়ার পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে।
তারা বলেন, তৎকালীন অর্থমন্ত্রীর আত্মীয় এবং স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতারা এই মামলায় ‘ডিল’ করেছেন। উপবালার বাবা মথুরা রায় বলেন, “আমার মেয়ের বিচার যারা আটকে দিয়েছে, তারা বড় লোক, প্রভাবশালী। আমরা তো শুধু চোখের পানি ফেলি।”
তিন বছরের কাছাকাছি সময় পেরিয়ে গেলেও আজও কেউ গ্রেফতার হয়নি, হয়নি চার্জশিট। পিবিআই তাদের কাজ শেষ করেছে বলে দাবি করলেও, বাদী ও পরিবারের কারও কাছে নেই সেই স্পষ্ট ব্যাখ্যা। একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী বিপাশা আজও মানসিক ট্রমায় ভুগছে, মাঝরাতে জেগে ওঠে মায়ের চিৎকার শুনে।
স্থানীয় একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বলেন—“এই ঘটনার বিচার না হওয়া আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ ও প্রশাসনের দায়। সংখ্যালঘু, গরিব, নারী—এই তিন পরিচয়ের কোনো মূল্য নেই আমাদের চোখে, সেটা আরও একবার প্রমাণ হলো।”
আজও কুমারপাড়া এলাকায় একটিই প্রশ্ন ঘুরে বেড়ায়—এই দেশে গরিব আর সংখ্যালঘু নারীর জীবনের কি কোনো দাম নেই? উপবালা হত্যা মামলা যেন কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং আমাদের রাষ্ট্রের ন্যায়বিচারের ব্যর্থতার নগ্ন দলিল হয়ে থাকল।
এমএসএম / এমএসএম
কক্সবাজারের চকরিয়ায় মৃত হাতিকে মাটিতে পুতে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা!
জাতীয় সুন্নী ওলামা মাশায়েখ পরিষদের ঈদ পুনর্মিলনী ও বিশ্ব শান্তি কামনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন
আদমদীঘিতে হামীম পেট্রল পাম্পের ৩০ হাজার টাকা জরিমানা
হাটহাজারীতে অকটেন মজুদ থাকা সত্ত্বেও বিক্রয় বন্ধ রাখার অপরাধে জরিমানা।
নরসিংদীতে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত যুবক নিহত
আদমদীঘিতে ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল শিশু হাবিবার
গোমতী নদীর তীর রক্ষায় সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযান
বগুড়ার গাবতলীতে শ্যালো মেশিন ঘর থেকে বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার
অভয়নগরে আইনশৃঙ্খলা সভা: দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাস দমনে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান
হত্যা মামলার আসামির ‘ক্ষোভ’: ৫০ নিরীহ চরবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা
শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কমিটির মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
মনপুরায় তরমুজে ভরা মাঠ, ঝড়ের আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত চাষিদের