ঢাকা শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬

খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভলান্টিয়ার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ


জসিম উদ্দিন, খানসামা photo জসিম উদ্দিন, খানসামা
প্রকাশিত: ২৭-৬-২০২৫ রাত ৮:১৩

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউ এইচ ও ) এর সহযোগিতায় পরিচালিত স্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতায় দুইজন অস্থায়ী ভলান্টিয়ার নিয়োগকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হতেই তা নিয়ে স্থানীয়ভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। দীর্ঘদিন ধরে বিনা পারিশ্রমিকে এই প্রকল্পে কাজ করে আসা অনেক স্বেচ্ছাসেবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাদের শ্রমের কোনো স্বীকৃতি না দিয়ে হঠাৎ করেই বাহির থেকে “নির্ধারিত” দুইজনকে নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এই দুইজন হলেন জুয়েল ও রাশেদ—যাদের নাম আগে থেকেই ভলান্টিয়ার তালিকায় রাখার অভিযোগ উঠেছে পরিবার পরিকল্পনা (প.প.) কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

বিশেষ অভিযোগ রয়েছে— তিনি (ডা. শফিকুল ইসলাম) খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই পাকেরহাটে অবস্থিত মমতাজ ক্লিনিকের পরিচালক সবুজের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং সেই পরিচয়ের সূত্রেই ঐ ক্লিনিকেই নিজের ব্যক্তিগত চেম্বার স্থাপন করেন। কেবল এখানেই শেষ নয়—এই সম্পর্কের সুযোগে, মমতাজ ক্লিনিকের পরিচালক সবুজের ভাগ্নে ও ক্লিনিকে অননুমোদিত (নন-সার্টিফাইড) টেকনিশিয়ান রাশেদ-কে সরাসরি (ডব্লিউ এইচ ও ) প্রকল্পের আওতায় ভলান্টিয়ার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অথচ দীর্ঘদিন ধরে যারা নামমাত্র সম্মানী বা সম্পূর্ণ বিনা পারিশ্রমিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন, তাদের বাদ দিয়েই এই নিযুক্তি হয়েছে।

অন্যদিকে, আরেকজন নবনিযুক্ত জুয়েলের ব্যাপারে জানা যায়—তার প্রয়াত বাবা জিকরুল হক এক সময় এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন কর্মচারী ছিলেন। সেই পারিবারিক সূত্রে জুয়েল নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে এবং সেই পরিচিতির জোরেই নিয়োগ লাভ করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভলান্টিয়ার প্রকল্পে নিয়োগের নীতিমালায় সুস্পষ্টভাবে বলা রয়েছে—প্রকল্প সংশ্লিষ্ট পদগুলোতে সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা, আগের কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা এবং স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় স্বচ্ছ ও   নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে। অথচ এখানে উল্টো পথে হেঁটে প্রকৃত স্বেচ্ছাসেবীদের বাদ দিয়ে অযোগ্য বা অপরিচিতদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, শুধু আর্থিক প্রভাব ও প্রভাবশালীদের সুপারিশের কারণে। স্থানীয়ভাবে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

অনেকেই বলছেন, “যদি সরকারি প্রতিষ্ঠানে এতদিন কাজ করা স্বেচ্ছাসেবীদের সঠিক মূল্যায়ন না হয়, বরং তাদের অপমান করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আর কেউ মানবিক কাজ করতে আগ্রহী হবে না। যেসব তরুণ মন থেকে সেবামূলক কাজে যুক্ত হন, তারা এই ধরনের অপমানজনক অভিজ্ঞতায় নিরুৎসাহিত হবেন। এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ রোগী এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা।” এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী স্বেচ্ছাসেবীরাও। 

রশিদুল নামের এক স্বেচ্ছাসেবী বলেন, “আমি প্রতিদিন নিয়ম করে হাসপাতালে কাজ করেছি। কোনো কাগজপত্রে চুক্তি না থাকলেও মানুষের সেবা দিয়েছি—এই বিশ্বাস থেকে। অথচ এখন দেখছি, আমাদের বাদ দিয়ে দুইজন নতুনকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তাহলে আমাদের এতদিনের শ্রম আর সময়ের কোনো মূল্য নেই?” এই বক্তব্য শুধু একজনের নয়—সেইসব তরুণদের হৃদয়ের ভাষা, যারা দিনরাত হাসপাতালে সেবামূলক কাজে যুক্ত ছিলেন।

মতিন নামে অপর আরেকজন স্বেচ্ছাসেবী বলেন, “আমরা তো শুধুই কাজ করেছি, কারো কাছে কিছু চাইনি। কিন্তু যখন দেখলাম (ডব্লিউ এইচ ও )-এর প্রকল্পে ভলান্টিয়ার নিয়োগ হচ্ছে, তখন মনে হয়েছিল আমাদের কথা অন্তত ভাবা হবে। কিন্ত এখন দেখছি, এখানে আমাদের রাখা হয়নি। রাশেদ আর জুয়েল কে রাখা হয়েছে।

হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারীও এই অনিয়মের কথা স্বীকার করে নিচ্ছেন, তবে প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন। এক কর্মচারী বলেন, “ভাই, সত্যি বলতে গেলে এখানে সব কিছুই উপরের লোকজনের কথা মতো হয়। আমরা কেবল আদেশ পালন করি। এই নিয়োগের বিষয়ে আমাদের তেমন কিছুই জানানো হয়নি। টিএসও স্যারের সাথে কথা বললেই বিস্তারিত পাওয়া যাবে, কারণ তিনিই সব যোগাযোগ করছেন।”

অপর আরেকজন কর্মচারী বলেন, “আমরা প্রতিবাদ করলেও পরে উল্টো বিপদে পড়তে হয়। সিভিল সার্জনের কাছে নালিশ দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাই এসব দেখে চুপ থাকি।”

এদিকে খানসামা উপজেলার একজন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মোর্শেদ হোসেন চৌধুরী বলেন, “এই নিয়োগ সম্পর্কে আমাকে কেউ কিছু জানায়নি। তবে একজন স্বেচ্ছাসেবী এসে অভিযোগ করেছে। আমি মনে করি, দীর্ঘদিন যারা কাজ করেছে, তারাই অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা। নতুনদের বসানোটা যথাযথ হয়নি। বিষয়টি অফিসে ফিরে খতিয়ে দেখবো।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প.প. কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম অভিযোগগুলো সরাসরি অস্বীকার করে বলেন,  “এই নিয়োগ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হচ্ছে। এটি সিভিল সার্জনের অনুমোদন হয়েছে। যারা অভিযোগ করছেন, তারা হয়তো পুরো তথ্য না জেনেই কথা বলছেন। এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন।” আর তাছাড়া যারা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে অভিযোগ করছে তাদেরকে তো আমি চিনিও না। 

তাহলে তারা কিভাবে এই নিয়োগের যোগ্য হয়"।

এমএসএম / এমএসএম

চট্টগ্রামে শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাস লিকেজে নিহত ৩

চট্টগ্রামে গ্যাস না পেয়ে সড়ক অবরোধ বিক্ষুব্ধ চালকদের

নেত্রকোণার মদনে শিক্ষিকাকে মারধরের ঘটনায় তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় প্রধান শিক্ষক  বরখাস্ত

তাহিরপুরে জেডসি বান্ধব গ্রিন স্কুলের সফলতা ও অগ্রগতি উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।

সাগরে ধরা পড়লো বিরল প্রজাতির ধাতিনা ভোল মাছ

‎কুতুবদিয়ার ফতেহ আলী সিকদার পাড়া সিসিতে নানা অনিয়মের অভিযোগ

​রাণীনগরে জনতা ব্যাংক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে চারা বিতরণ

নরসিংদীতে অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান, জরিমানা ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা

দাউদকান্দিতে মেধার বিকাশের বৃত্তি প্রদান ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত

নেত্রকোণার মদনে ব্রিজের এপ্রোচ ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন-দুই পারের মানুষের দুর্ভোগ

লালমনিরহাটে মাদক মামলায় ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত, আসামি পলাতক

আরাফাত রহমান কোকোর জন্মদিন উপলক্ষে নন্দীগ্রামে ফলজ বৃক্ষ বিতরণ

চাঁদপুরে স্বর্ণব্যবাসয়ী হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদন্ড, অপরজনের যাবজ্জীবন