নদী ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবৈধ মাছ ধরার জালের ব্যবহার বন্ধে সন্দ্বীপে কমিউনিটি সভা
নদী ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবৈধ মাছ ধরার জালের ব্যবহার বন্ধের লক্ষ্যে সন্দ্বীপ উপজেলার হরিশপুর ও পৌরসভার সীমান্তবর্তী বেড়িবাঁধ এলাকায় গতকাল (১৮ আগস্ট) স্থানীয় জেলেদের অংশগ্রহণে এক সচেতনতামূলক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দাতা সংস্থা কোস্ট ফাউন্ডেশন ও এসডিআই’র অংশীদারিত্বে পরিচালিত সিসিআর প্রকল্প এ কমিউনিটি সভার আয়োজন করে।
সভায় আলোচকরা জানান, উপকূলীয় এলাকার অনেক জেলে পরিবার বাড়তি আয়ের আশায় নিষিদ্ধ কারেন্ট, মশারি, প্লাস্টিক, বিন্দি, ঠেলা ও খুটাজাল ব্যবহার করছে। এসব জালে শুধু চিংড়ি রেণুই নয়, বিভিন্ন মাছের পোনা, কাঁকড়া, শামুক, কচ্ছপ, কুচিলা, নুনাচাক, জেলি ফিস, প্লাংকটনসহ নানান জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ আটকা পড়ে মারা যায় সেগুলো তারা যত্রতত্র ফেলে নষ্ট করে। এতে জীববৈচিত্র্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মাছের উৎপাদন ও প্রজনন প্রক্রিয়াও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তবে স্থানীয় জেলে নেতারা বৈঠকে দাবি করেন, তারা নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করেন না। তারা জানান, “আমরা তেশনী জাল ব্যবহার করি যা দেখতে বিন্দি জালের মতো হলেও এর ফাঁক বড় হওয়ায় এতে কোনো মাছের রেণু আটকায় না। কিন্তু কোস্টগার্ড না বুঝে সেটাকেও নিষিদ্ধ জাল ভেবে বাজেয়াপ্ত করে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।”অন্যদিকে আমাদের সেই সব পাতলা জালেও আমাদের প্র্য়োজনীয় মাছের বাইরে
কাকড়া, শামুক, কচ্ছপ, কুচিলা, নুনাচাক, জেলি ফিস, কচুরিপানা, শেওলা, প্লাংকটন, জলজ পোকা-মাকড় যদি উঠে তা আমরা পরিবেশের কথা ও মাছের ডিমের কথা ভেবে তাৎক্ষনিক নদীতে ফেলে দিই। সেগুলো কোনমতে আমরা উপরে বা যত্রতত্র ফেলে নষ্ট করিনা।
জেলেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, মাঝে মধ্যে কোনো কারণ ছাড়াই কোস্টগার্ড তাদের জাল নিয়ে যায়, কিন্তু জালের কোনো খোঁজ আর পাওয়া যায় না। একই সঙ্গে জেলেদের কার্ড ও সরকারি বরাদ্দ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ করেন তারা। স্থানীয় জেলেদের দাবি—“আমাদের ওয়ার্ডে ২৯টি কার্ড থাকলেও তা ৯৬ পরিবারকে ভাগ করে নিতে হয়। ভবিষ্যতে প্রতিটি পরিবারকে আলাদা কার্ড না দিলে আমরা সরকারি চাল নেব না।” তারা আরো অভিযোগ করেন, আমরা জেনেছি জেলেদের আরো অনেকগুলো কার্ড ইস্যু হয়েছে, কিন্তু কার্ড ইস্যু হলেও তার বিপরীতে বরাদ্দকৃত চাল এখনও ইস্যু হয়নি অজুহাত দেখিয়ে সেসব কার্ড এখনো আমাদের দেওয়া হয়নি, যা নিয়ে বড় ধরনের রহস্য রয়েছে। চাল বরাদ্ধ না হলেও আমাদের কার্ড আমাদের হাতে দিয়ে দিতে হবে। চাল না পেলেও তাতে আমরা নিবন্ধিত জেলে পরিচয় দিতে পারবো।
এ ছাড়া জেলেরা অভিযোগ করেন, সরকারি কোনো কর্মকর্তা তাদের প্রকৃত সমস্যার প্রতি গুরুত্ব দেন না। বরং নানা অজুহাতে নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া হয়, অথচ সরকারি কোনো সুবিধা তারা পান না। তারা জানান, “একবার জিপিআরএস মেশিনের নামে আমাদের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা নিয়ে অকেজো ডিভাইস দেওয়া হয়। পরে কেউ আর কোনো খোঁজ নেয়নি।”
জেলেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, মৎস্য দিবস বা মৎস্য সপ্তাহের অনুষ্ঠানে তাদের দাওয়াত দেওয়া হয় না, বরাদ্দকৃত মাছের পোনাও তারা কখনো পাননি। দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কিংবা বিকল্প আয়ের জন্য কোনো আইজিএ উপকরণও তারা পাননি। অথচ সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্ধকৃত বকনা বাছুর এর সুবিধা প্রকৃত জেলেদের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
বৈঠকে উপস্থিত জেলেরা একযোগে বলেন, “আমরা বারবার বঞ্চিত হচ্ছি, অথচ আমাদের কণ্ঠ কেউ শোনে না। এবার আমাদের দাবি-দাওয়া না মানা হলে আমরা মানববন্ধন ও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।”
এমএসএম / এমএসএম
ভূরুঙ্গামারীতে রবার্ট ব্যাডেন পাওয়েল এর জন্ম দিন পালিত
চিলমারীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান কার্যক্রম
চট্টগ্রামে সাংবাদিক ইমতিয়াজ ফারুকীর উপর সন্ত্রাসী হামলা, আটক-২
তথ্য দিচ্ছে না পঞ্চগড় খাদ্য নিয়ন্ত্রক
কোটালীপাড়ায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় মারধর, থানায় অভিযোগ
সাতকানিয়ায়,হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে গাড়ি আটকে টোলের নামে চাঁদা আদায়
নড়াইল সদর হাসপাতাল পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন আতাউর রহমান বাচ্চু এমপি
শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা বিএনপির বিনম্র শ্রদ্ধা
সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে হামলা, কবিরহাটে নারীকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ
লাকসামে ফুলে ফুলে সিক্ত এমপি মোঃ আবুল কালাম
ঝিনাইদহে বিএনপি'র ঘাঁটি পুনরুদ্ধারে শেষ ভরসা আইনজীবী মাহবুবা রহমান শিখা
যৌথ বিদ্যুৎ বিলের ৫ টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন