চর আষাড়িয়াদহে পদ্মার ভাঙনে ৩০০ পরিবার ছাড়ছে প্রিয় জন্মভূমি
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নে আবারও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে পদ্মার ভাঙন। গত এক সপ্তাহে ইউনিয়নের অন্তত চারটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে প্রায় তিন শতাধিক পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য হয়েছে।
চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নটির আয়তন প্রায় ৩৬ বর্গকিলোমিটার। পদ্মার বিশাল জলরাশির ওপারে অবস্থিত এই চরাঞ্চলটি। চরাঞ্চলটি ঘেঁষে ভারতীয় সীমান্ত। প্রতিবছরই নদীভাঙনের শিকার হয়ে চরের জমির পরিমাণ কমছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে ভাঙন চলতে থাকলে একসময় পুরো ইউনিয়নই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।সোমবার সরেজমিনে হঠাৎপাড়া, চর বয়ারমারি, কামারপাড়া, জামাইপাড়া ও আমতলা খাসমহল গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, অনেকেই ঘরবাড়ি ভেঙে নৌকায় মালামাল তুলছেন। কারও বাড়ির অর্ধেক ভাঙনের কবলে পড়েছে, কেউ আবার সবকিছু সরিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমনকি নদী ভাঙ্গনে নদীতে তলিয়ে গেছে ১নং ওয়ার্ড।
জামাইপাড়া গ্রামের সাইদুর রহমান বলেন, “পদ্মার ভাঙনে দুইবার বাড়ি সরাইছি। এবার আর চরে থাকার জায়গা নাই। ভাইয়ের বাড়িতে ওপারে চলে যাইতেছি।”হঠাৎপাড়া গ্রামের মোঃ আশরাফুল হক জানান, ১৫ বছর আগে একবার ভাঙনে বাড়ি সরাইছিলাম। এবার আর থাকার জায়গা নাই। বাইপাস মোড়ে দুই কাঠা জমি কিনছি, সেখানেই যাচ্ছি। নৌকায় মালামাল নিয়ে পার হচ্ছিলেন বয়ারমারি গ্রামের গৃহবধূ রোজিনা বেগম। তিনি বলেন, ছয় বছর আগে একবার বাড়ি ভাইঙছিল। জন্মের পর থেকে চরে থাকতেছি, কিন্তু এবার আর থাকা হলো না। ভাসুরের বাড়িতে উঠমু, পরে জমি কিনে আবার ঘর করমু।
চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বলেন, নদীর পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন বেড়েছে। অন্তত ৩০০ পরিবার চরের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। আমরা শুধু ১০ কেজি করে চাল দিতে পেরেছি। যাদের সবকিছু নদীতে গেছে, তাদের কাছে এটা কিছুই না। সরকারকে দ্রুত পাশে দাঁড়াতে হবে। গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ বলেন, “আমাদের তথ্যমতে এখন পর্যন্ত ১১০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত। তালিকা প্রক্রিয়া চলছে। পুনর্বাসনের জন্য ঢেউটিন দেওয়া হবে।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, রাজশাহী শহরসংলগ্ন পদ্মার বিপৎসীমা ১৮.০৫ মিটার। গত সপ্তাহে পানির সর্বোচ্চ উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৭.৪৯ মিটার। সোমবার পানি নেমে ১৬.৮৫ মিটারে দাঁড়ালেও চরের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও তলিয়ে আছে। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন আরও তীব্র হচ্ছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে গোটা চর আষাড়িয়াদহ একসময় পদ্মায় বিলীন হয়ে যাবে। এতে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ভেতরে প্রবাহিত হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে, যা বড় ধরনের ভৌগোলিক সমস্যার কারণ হবে।
এমএসএম / এমএসএম
“রোজ একই টিফিনে শিশুদের অনীহা: বিকল্প খাবারের দাবি বরুড়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে”
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা আমাদের সমাজের মূল্যবান সম্পদ -ডিসি, নরসিংদী
শিবচরে জমি বিরোধে চাচাতো ভাই নিহত, ঘুষির অভিযোগ
বিজয়নগরে কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত
খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর অভিযানে নিহত ১, বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার
নারায়ণগঞ্জে সওজের দখলকৃত জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা দ্রুত উচ্ছেদ করা হবে: নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম
কুমিল্লায় মেঘনা এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত, ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রেন চলাচল বন্ধ
হালদা নদীর প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র রক্ষায় হাটহাজারী মৎস্য অধিদপ্তরের অভিযান
চৌগাছায় লেপ তোশকের গোডাউনে আগুন প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতি
বাগেরহাটে বিপুল পরিমান ইয়াবাসহ বিত্রেুতা গেফতার
আদমদীঘি প্রেসক্লাবে বিএনপি নেতার মতবিনিময়
বাজেটকে কেন্দ্র করে পাবনায় আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত