ঢাকা শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ে সুখ-সমৃদ্ধি কামনায় ঠাকুরগাঁওয়ে ওরাঁও সম্প্রদায়ের কারাম উৎসব


কামরুল হাসান, ঠাকুরগাঁও photo কামরুল হাসান, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশিত: ১৮-৯-২০২৫ দুপুর ৩:৪৬

হাজারো বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখে বর্ণাঢ্য উৎসবমুখর পরিবেশে ঠাকুরগাঁওয়ে পালিত হলো ওরাঁও সম্প্রদায়ের কারাম উৎসব। আদিবাসী ওরাঁওদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব এটি। ফসলের ভালো ফলন, পরিবার-পরিজনের সুস্বাস্থ্য এবং সমাজের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় প্রতি বছর ভাদ্র মাসে এই উৎসব পালন করা হয়।
বুধবার সন্ধ্যা থেকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের পাঁচপীরডাঙ্গা, রুহিয়া, বালিয়াডাঙ্গীসহ বিভিন্ন স্থানে এবারও ভিন্ন ভিন্ন আয়োজন হয়। স্থানীয় জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, সামাজিক সংগঠন ও যুবসমাজের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা, ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও লোকসঙ্গীত পরিবেশনা। নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ সবাই অংশ নেন আনন্দ-উৎসবে।
কারাম উৎসবকে ঘিরে দিনকয়েক আগেই ওরাঁও পল্লিগুলোতে প্রস্তুতি শুরু হয়। কিশোর-কিশোরীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে দলে দলে গান ও নাচের মহড়া দেয়। ঘরে ঘরে চলে খাবার তৈরির আয়োজন। বিশেষত চালভিত্তিক খাবার এবং নানা রকমের লোকজ খাদ্য উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ।
উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু হলো কারাম গাছের ডাল। বিশ্বাস করা হয়, কারাম গাছ শক্তি, ঐক্য ও সমৃদ্ধির প্রতীক। উৎসবের দিন যুবকরা বন থেকে কারাম গাছের শাখা নিয়ে আসে। গ্রামের প্রবীণ ও পুরোহিতরা বিশেষ মন্ত্রপাঠ ও আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শাখাটি পূজা করেন। এরপর সেটি গ্রামের মাঝখানে পুঁতে দেওয়া হয় এবং ঘিরে শুরু হয় সারারাত নাচগান।
মেয়েরা কণ্ঠে তুলেন ঐতিহ্যবাহী কারাম গান—যার মূল সুরে থাকে দুঃখ-কষ্ট ভুলে সুখ-শান্তির প্রার্থনা। ছেলেরা ঢোল, মাদল, করতাল, শিঙ্গা বাজিয়ে সঙ্গত দেন। রাতভর চলে তাল-লয়ের মেলবন্ধন। এতে শুধু ওরাঁও নয়, পার্শ্ববর্তী সাঁওতাল, মুন্ডা, মাহাতোসহ অন্যান্য নৃ-গোষ্ঠীর মানুষও যোগ দেন।
উৎসবের চূড়ান্ত পর্যায়ে ভোররাতে বা পরদিন সকালে পূজিত কারাম গাছের ডাল দল বেঁধে গিয়ে নদী বা পুকুরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। এই আচারকে বলা হয় কারাম বিসর্জন। বিশ্বাস করা হয়, গাছের সঙ্গে গ্রামের দুঃখ-দুর্দশা দূরে চলে যায় এবং নতুন বছরে ঘরে ঘরে আসে সুখ-সমৃদ্ধি।
কারাম উৎসবকে ঘিরে একদিকে যেমন ধর্মীয় বিশ্বাস জড়িত, অন্যদিকে তেমনি এটি সামাজিক ঐক্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের বহিঃপ্রকাশ। পরিবার থেকে শুরু করে পুরো গ্রামজুড়ে সবাই মিলে অংশ নেয়য়া সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ ও মিলনমেলার আবহ সৃষ্টি করে।
স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা প্রতিবছরই উৎসবে যোগ দেন। তারা মনে করেন, এ ধরনের অনুষ্ঠান ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি রক্ষার পাশাপাশি বহুসংস্কৃতির বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করে। পর্যটন উন্নয়ন ও স্থানীয় অর্থনীতির জন্যও কারাম উৎসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত দেন অনেকে।

এমএসএম / এমএসএম

রায়গঞ্জে ‘সেচের নামে ধান আদায় বন্ধে’ পাম্প মালিক-অপারেটরদের নিয়ে সভা

ধুনটে খাসজমি ও সরকারি খাল দখলের অভিযোগ, ঝুঁকিতে ৩০০ একর ফসলি জমি

মিরসরাইয়ের এমপি নুরুল আমিন এলাকার অবহেলিত রাস্তা পরিদর্শন করছেন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৪২ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি

জয়পুরহাট সার্কিট হাউস মাঠে নবনির্মিত মুক্তমঞ্চের উদ্বোধন

দুর্গাপূজার ক্লান্তিকে দূরে ঠেলে এবার শ্যামাপূজার ব্যস্ততা ও উৎসবের আমেজ

চাঁদপুরে ৩৬ জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ

বিএনপি সবসময় জনগণের পাশে থেকে দেশের উন্নয়নে কাজ করেছেঃ গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী

টাঙ্গাইলে দরপত্র ছাড়াই ইউএনও'র সহযোগিতায় বালু বিক্রির অভিযোগ প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে

মজুরি বোর্ড গঠন ও শ্রমিকরা কাজে ফেরায় ধন্যবাদ জানিয়ে যুবদলের পথসভা

কুড়িগ্রাম শিল্পী কল্যাণ সোসাইটির জেলা কমিটির যাত্রা শুরু

বিকল্প পথে রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের আরও এক চালান

ঘিওর হাট বাজারে ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে দোকানপাট জনগনের দুর্ভোগ চরমে