গণপূর্তের পিপিআর আইন সংশোধনের পরও এটিএম-এলটিএম টেন্ডারে দুর্নীতি
বাংলাদেশ সরকার পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন (পিপিআর) ২০২৫ সংশোধনের মাধ্যমে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিপুল অর্থ ও প্রযুক্তি বিনিয়োগ করলেও দুর্নীতিবাজ ও স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের দোসদের কারণে বাস্তবে এর সুফল পুরোপুরি মিলছে না বলে ভুক্তভোগিরা এমন অভিযোগ করেছেন। সূত্র জানায়, রাজধানীর আজিমপুর এলাকায় বাস্তবায়নাধীন সরকারি প্রকল্পের এলটিএম (লিমিটেড টেন্ডারিং মেথর্ড) ও অটিএম বা (অপেন টেন্ডার মেথর্ড) টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ মোতাবেক, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের একজন নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় পক্ষপাত, নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা প্রদান, কোটেশন কারসাজি ও প্রতিযোগিতা সীমিত করার মতো কার্যক্রম সংঘটিত হচ্ছে। আর এই কাজে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইলিয়াস আহমেদের সহযোগিতায় দায়িত্বরত নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল হালিম ৭৭৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকায় ১১টি ভবন এ ৮৬৩টি ফ্ল্যাট নির্মাণেও দুর্নীতির ছককসা হচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। সূত্রটি আরো জানায়, এল টি এম টেন্ডারে নিয়মবহির্ভূতভাবে নির্বাহী প্রকৌশলীর আস্তাভাজন নির্দিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বারবার আমন্ত্রণ জানানো হয়। আবার ও টি এম টেন্ডারে প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানকে প্রযুক্তিগত বা প্রশাসনিক অজুহাতে বাতিল করার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। টেন্ডার ডকুমেন্টে শর্ত পরিবর্তন করে পছন্দের ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়া পিপিআর ২০২৫ এর সংশোধিত ধারা উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়ে থাকে। এ বিষয়ে অভিযোগকারীদের দাবি, তাদের কাছে নথিপত্র, টেন্ডার কাগজ, যোগাযোগের রেকর্ড ও সাক্ষ্যসহ একাধিক প্রমাণ রয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাচাই করলে তার সত্যতা পাওয়া সম্ভব। আর এ বিষয় জনস্বার্থে তদন্তের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগি ঠিদারগণ। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞজনেরা বলছেন, পিপিআর ২০২৫-এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ই-জিপি ও আধুনিক ক্রয় ব্যবস্থার মাধ্যমে দুর্নীতি কমানো। কিন্তু যদি মাঠপর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাই আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে অনিয়মে জড়ান, তবে সরকারের এই সংস্কার উদ্যোগ প্রশ্নের মুখে পড়বে। সুশীল সমাজ ও স্থানীয় ঠিকাদাররা দুদক, সিপিটিইউ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানীর আজিমপুর কলোনির দক্ষিণাঞ্চলের ভবনগুলো ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণের প্রকল্প নিয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। সেখানে ১১টি ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে প্রাথমিক কাজ শুরু করা হয়েছে। কলোনির দক্ষিণাঞ্চলের ভবনগুলো ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণের প্রকল্প নিয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। সেখানে ১১টি ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এর আগেও আজিমপুরে বহুতল ভবন নির্মাণ করতে গিয়ে অনেক গাছ ও মাঠগুলো বিলীন করা হয়েছে। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে দুই অসংখ্য গাছ কাটা পড়বে। এছাড়া দুটি মাঠও সংকুচিত হবে বলে তারা জানিয়েছেন। সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ১১-২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা দিতে এবার ৭৭৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকার ফ্ল্যাট বরাদ্দের প্রকল্প নিয়েছে সরকার। প্রকল্পটি সম্প্রতি একনেকে পাসও করা হয়েছে। রাজধানীতে কর্মরত সরকারি বিভিন্ন বিভাগের কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা বাড়াতে প্রকল্পটি নিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। প্রায় ৮০০ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে। প্রকল্পটি ঢাকা আজিমপুরের সরকারি কোয়ার্টারের জোন-সি-তে ৯ দশমিক ২৬ একর জমির ওপর ৩২টি পুরনো ভবন ভেঙে করা হবে। ১১টি ভবনে থাকবে মোট ৮৩৬টি ফ্ল্যাট। জানা গেছে, ৩১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০তলাবিশিষ্ট ছয়টি ভবন করা হবে। এই ভবনের প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন হবে এক হাজার বর্গফুট। এছাড়া ২০ তলাবিশিষ্ট আরো পাঁচটি নির্মাণ হবে ২১০ কোটি টাকায়, যার প্রতি ফ্ল্যাট হবে ৮০০ বর্গফুটের। প্রকল্পের আওতায় থাকছে ছয়তলা বিশিষ্ট সার্ভিস ভবন, ১৫ হাজার বর্গফুটের একটি ছয়তলাবিশিষ্ট মাল্টিপারপাস ভবন ও ছয়তলাবিশিষ্ট একটি মসজিদ। এছাড়া অভ্যন্তরীণ রাস্তা, পার্কিং, মাস্টার ড্রেন, অগ্নিনির্বাপক, স্বতন্ত্র সাবস্টেশন, ৩৭টি লিফট, ১৪টি জরুরি জেনারেটর, ফায়ার প্রটেকশনসহ প্রায় সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে। সরেজমিনে আজিমপুর কলোনি এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বড় মাঠে মধ্যেই সয়েল টেস্টের কাজ শুরু করেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। পুরো কলোনি ঘুরে বিভিন্ন রকম দেশী গাছ রয়েছে। যার অনেক গাছই ঢাকায় বিপন্নপ্রায়। গাছগুলো হলো চাম্বল, ডেউয়া, তাল, কদম, রেইনট্রি, মেহগনি, জাম, কৃষ্ণচূড়া, আকাশমণি, আম, ডাব, কাঠবাদামসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এসব বৃক্ষ কাটা পড়বে। কেননা এ গাছগুলোর বেশির ভাগই দাঁড়িয়ে আছে ভবন ঘেঁষে। যে কারণে এসব গাছ না কেটে নতুন ভবন নির্মাণ করা সম্ভব নয় বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। এর আগে গণপূর্ত অধিদপ্তর আজিমপুরের কলোনিতে ১৭টি ২০তলা ভবন নির্মাণ করেছে। যেগুলোর প্রভাব পড়েছে আজিমপুরসহ আশপাশের সব এলাকায়। আজিমপুরের ফুটপাতগুলো বাজারে পরিণত হয়েছে। এছাড়া তীব্র যানজট আজিমপুরের ভেতরের রাস্তাগুলো ছাড়িয়ে নীলক্ষেত ও নিউমার্কেট পর্যন্ত পৌঁছে যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। নিউমার্কে গণপূর্ত কার্যালয়ের নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশী ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের অন্যতম দোসর ইলিয়াস আহম্মদ এর সময় ২০ তলা করে ১৭টি ভবন র্নিমাণ করেছেন। আজিমপুর এলাকার ত্রাস আওয়ামী নেতা আব্দুল আজিম, হাজী সেলিমের ক্যাডার ও স্থানীয় কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিক এর সাথে আতাত করে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে ভবন নির্মাণ করেছেন। যা এখন বাইন্দারা নানা অনিয়মের অভিযোগ করছেন। এই দুর্নীতি অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি হাতিয়ে নিয়েছেন। শুধু কি তাই? ইলিয়াস আহমেদ ফ্যাসিস্ট সরকারের অন্যতম আস্তাভাজন পরিচয়ে সাবেক মন্ত্রী স ম রেজাউল করিমের আপন চাচাত ভাই পরিচয়ে দুর্নীতি করেছেন। স ম রেজাউলের বাবা মারা যাওয়ার পর তার লাশ কাঁদে নিয়ে তার সহযোগিদের দিয়ে ভিডিও করেছেন। এরসময় স ম রেজাউলের চেয়ে বেশী বেশী কান্না করে ও চোখে পানি ফেলেছেন। যা গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী জানে। এই ফ্যাসিস্ট প্রকৌশলী এখনো মাঝে মধ্যেই আজিমপুর নিউমার্কেট কার্যালয়ে যাতায়াত করছেন। তিনি এখন সিলেট গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত এবং বোল পাল্টিয়ে বিএনপি সাজার চেষ্টা করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন নগর পরিকল্পনাবিদ বলছেন, নির্ধারিত জনঘনত্ব অনেক আগেই পার হয়েছে আজিমপুরে। তার পরও গণপূর্ত বিশাল বিশাল অট্টালিকা বানিয়ে আজিমপুরের ওপর চাপ তৈরি করছে। তিনি আরো বলেন, এর আগে আজিমপুরের ছোট্ট একটা জায়গায় ১৭টি ২০ তলা ভবন নির্মাণের ফলে যে চাপ তৈরি হয়েছে গণপূর্ত কি সে অনুযায়ী বাজার, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক নির্মাণ করেছে? তাহলে এখন আজিমপুরের ছোট্ট এ ফুসফুসটুকু তারা কেন ধ্বংস করতে চায়? তাদের উচিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসনের নামে যে অতিরিক্ত লোকের চাপ তৈরি করেছে, সেজন্য পর্যাপ্ত পার্ক, মাঠ, জলাশয় নির্মাণ করা। যাতে ঢাকায় সবুজ এলাকা বাড়ে, তাপ দুর্যোগের কষ্ট কমে। সেটা না করে তারা বিদ্যমান সবুজ, মাঠ এগুলো নষ্ট করছে। এটা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তাদের অবশ্যই এ এলাকার পরিবেশগত ও পরিকল্পনাগত ভারসাম্য রক্ষা করতে গাছপালা আচ্ছাদিত ও খোলা জায়গা সমৃদ্ধ এলাকা ধ্বংস করে কংক্রিটময় বহুতল ভবন নির্মাণের এ প্রকল্প বাতিল করতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ এক ব্যক্তি জানান, গণপূর্ত শুধু বিল্ডিং বানায়, তার প্রভাবে নগরবাসীর ওপর কী যন্ত্রণা নেমে আসবে তা নিয়ে কোনো সমীক্ষা করে না। এলাকা এরই মধ্যে জনভারে নুয়ে পড়েছে। সেখানে সরকারি উদ্যোগে বিশাল অট্টালিকা নির্মাণ হয়েছে কিন্তু নতুন করে পর্যাপ্ত বাজার, মাঠ, পার্ক, সড়ক, মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান, শ্মশানঘাট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। বড় বড় আয়তনের বিল্ডিং নির্মাণের ফলে ওই এলাকার পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ সব ধরনের নাগরিক সেবায় যে অতিরিক্ত চাপ পড়বে সেটা নিয়ে প্রাকসমীক্ষা প্রয়োজন। কিন্তু গণপূর্ত শুধু বিল্ডিং বানায়, তার প্রভাবে নগরবাসীর ওপর কী যন্ত্রণা নেমে আসবে তা নিয়ে কোনো সমীক্ষা করে না। আমরা মনে করি এ ধরনের কার্যক্রম নগরবাসীর সঙ্গে সরাসরি সংঘাত। সরকারকে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে ফিরে আসতে হবে। কিছু যদি করতেই হয়, তবে ভবন নির্মাণ থেকে ফিরে এসে সেখানে মাঠ ও পার্ক করে দেয়ায় জোর দেয়া হোক। আজিমপুরবাসীর জন্য এটাই হতে পারে চমৎকার উদাহরণ। তবে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে গাছ কাটা পড়বে না বলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (পরিকল্পনা কোষ) গণমাধ্যমে বলেছেন, ‘গাছ কাটার কোনো পরিকল্পনা নেই। যেখানে ভবন আছে সেখানে নতুন ভবন তোলা হবে। এ বিষয়ে জানতে ঢাকা ডিবিশন ৪ এর আব্দুল গণি রোডস্থ গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলীর দপ্তরের কয়েকদিন গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তার দপ্তর থেকে প্রতিদিনই বলা হতো- তিনি মন্ত্রণালয়ে আছেন। পরে আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগের নিউ মার্কেট কার্যালয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল হালিমকে পাওয়া যায়নি। পরে বার বার ফোন করে না পেয়ে তার হোয়াসটঅ্যাপ নম্বরে ক্ষুদে বার্তা দেওয়া হলেও তিনি তার প্রতিউত্তর দেননি।
এমএসএম / Aminur
বিটিসিএল’র ডিজিএম মালেক ও ম্যানেজার রাব্বির দুর্নীতি চরমে
গণপূর্তের পিপিআর আইন সংশোধনের পরও এটিএম-এলটিএম টেন্ডারে দুর্নীতি
বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার রতন লাল মাহুতের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ
ডিবি’র হারুনকে দিয়ে ২ নারী ব্যবসায়ীদের প্রতারণার জালে ফেলতো
নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করছে বন বিভাগের কিছু লোক
কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণ: খুরুশকুল আশ্রয়ণ ও শুঁটকি পল্লী প্রকল্প নিয়ে জনমনে সংশয়
অবৈধপথে ৫ শত কোটি টাকার মালিক দুদকের ডিডি মাহবুবুল আলমকে বাঁচাতে তদন্ত তদন্ত খেলা!
দু’জন উপদেষ্টার পদত্যাগ, ভোগাবে উপদেষ্টা পরিষদকে নতুন নিয়োগ অপরিহার্য
বিটিসিএল এর হিন্দু কর্মচারীকে চাঁদার দাবিতে বিশেষ অঙ্গ কেটে ভারতে পাঠানোর হুমকি
এনা পরিবহনের মালিক এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে ১০৭ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা সিআইডি’র
অধরায় গৃহায়ণের প্রশাসক
অনিশ্চয়তায় নির্বাচন