ঢাকা সোমবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬

নতুন নকশার ই-রিকশা বন্ধে উচ্চ আদালতে রিটপিটিশন


আব্দুল লতিফ রানা photo আব্দুল লতিফ রানা
প্রকাশিত: ১৭-১-২০২৬ দুপুর ৪:৩৭

রাজধানীতে চলাচলকারী ই-রিকসার বিরুদ্ধে ব্যাটারি চালিত রিকসা মালিকগণ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন। এসব রিকসা মালিক সমিতির নেতারা   ব্যাটারি চালিত রিকসা উচ্ছেদ না করে ই-রিকসা রাজধানীর সড়কে না নামানোর দাবি জানিয়েছেন। 
রাজধানী ঢাকার সর্বত্র এখন ই-রিকসার তান্ডব চলছে। এসব রিকসা কোন প্রকার নিয়ম নীতি না মেনেই যেখানে সেখানে এমনকি মানুষের উপর দিয়ে দ্রুত চালিয়ে যাচ্ছে। এতে অনেক দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটছেন। শুধু তাই নয়, এই ই-রিকসারর বডি তুলনা মুলক ছোট হওয়ায় কোট রকম ফাঁক পেলেই সেখানে ঢুকিয়ে দিয়ে দ্রুত চলে যাওয়ার চেষ্টা। আবার অনেক সময় মোটর সাইকেল বা দ্রুত গতির বাইক চালিয়ে যাওয়ার সময় তাদের ই-রিকসা বাজিয়ে দিয়ে দূর্ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। তাছাড়া, অনেক সময় এই ই-রিকসার মাধ্যমে ছিনতাইসহ নানা অপরাধের ঘটনাও ঘটনানো হচ্ছে বলে ভুক্তভোগিরা জানিয়েছে। 
জানা গেছে, ঢাকা সিটি অরোরিকসা মালিক সমিতির প্রেসিডেন্ট আক্তার আলী, মো. মোশাররফ হোসেন, পিতা ঢাকা মহানগর অটোরিকসা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ হাওলাদার।ঢাকা জেলা পূর্বাচল অটো টেম্পো মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মকবুল হোসেনসহ তিনজনের পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইন-জীবী মো. মোয়াজ্জেম হোসেন এক নোটিশ প্রদান করেছেন।
যাদেরকে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে, তারা হলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের, সড়ক পরিবন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান, ঢাকা উত্তর সিটির প্রধান নির্বাহী, মহাব্যবস্থাপক (পরিবহন) উপ সচিব, ঢাকা উত্তর সিটি ও পরিচালক বিআরটিএ ঢাকা।
সূত্র জানায়, রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের তিন এলাকায় গত বছরের আগস্ট মাস থেকে পরীক্ষামূলকভাবে চালু নতুন নকশার ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা করা হয়। এসব রিকশাকে আনা হবে নিবন্ধনের আওয়ায়, চালকদেরও থাকবে লাইসেন্স প্রদানের কথা। কিন্তু বর্তমানে সড়কে চলমান ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উচ্ছেদ হচ্ছে এর সিদ্ধান্ত তখন হয়নি, পুরনোগুলোর সঙ্গে নতুন ই-রিকশা চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়। আর পর্যায়ক্রমে অনিবন্ধিত অটোরিকশা সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ই-রিকশার কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেয় কর্তৃপক্ষের। এই ব্যবস্থায় নগরের ট্রাফিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার আশা করা হয়েছিল। 
অপরদিকে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ নতুন নীতিমালা তৈরি করে। ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল প্রবিধান, ২০২৫’ নামে এ নীতিমালায় ই-রিকশা নিবন্ধন ও চালকের লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়। পাশাপাশি চালকদের প্রশিক্ষণ, নিরাপদ ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা, বিমা ও পার্কিং-চার্জিং অবকাঠামোসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু সেই পরিকল্পনায় জগাখিচুরীর অবস্থার মত এই দুটি বাহন নগরীতে চলছে। 
সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, রাজধানীসহ দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার জন্য প্রণয়ন করা নীতিমালা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হলে নগরের ট্রাফিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। চালক ও যাত্রী উভয়ের জন্য নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে দূষণহীন, নবায়নযোগ্য শক্তিনির্ভর পরিবহন ব্যবস্থার প্রসারে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।
এছাড়াও নতুন কাঠামোর মাধ্যমে ই-রিকশা নিবন্ধন, চালকের লাইসেন্স প্রদান, প্রশিক্ষণ, যানবাহনের গতি ও মান নিয়ন্ত্রণ, নির্দিষ্ট রুটে চলাচল, চার্জিং ও পার্কিং অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা, সব মিলিয়ে একটি সুশৃঙ্খল ও পরিবেশবান্ধব নগর পরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হবে। এসব নীতিগত ও প্রযুক্তিগত সহায়তার ফলে ই-রিকশা এখন থেকে আর অনিয়ন্ত্রিত নয়, বরং একটি বৈধ, নিয়মতান্ত্রিক ও কার্যকর যানবাহন হিসেবে নগরজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ওই নোটিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএন) গঠন করা হয়েছে, সুষ্ঠু সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনা, সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা এবং সড়ক নিরাপত্তার জন্য। বিআরটিএ-অথরিটি আইন, ২০১৭ এর অধীনে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে। বিআরটিএ একটি ডিজিটাল, টেকসই, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং পরিবেশবান্ধব আধুনিক সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষে কাজ করছে। 
এদিকে উচ্চ আদালতের আদেশ ও কার্যক্রমে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে অভিযোগ রাজধানীবাসীর দীর্ঘদিনের। গত কয়েকবছর এটি বন্ধের উদ্যোগ নিলেও ব্যর্থ হয় সরকার। এমনকি উচ্চ নির্দেশনাও উপেক্ষা করে সড়কে চলাচল করে এসব রিকশা। কেননা বন্ধের উদ্যোগ নিলেই বাধা ও প্রতিবাদ আসে এসব রিকশার চালকদের কাছ থেকে। গত ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর হাইকোর্ট ঢাকা মহানগরীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলে প্রতিবাদ জানায় ব্যাটারিচালিত রিকশার চালকরা। পরবর্তীতে এসব রিকশার চালক-মালিকের পক্ষ থেকে দায়ের করা এক মামলায় একই আদালত ২৫ নভেম্বর এক মাসের জন্য স্থিতাবস্থা জারি করেন। তারই প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ একই বছরের ২৭ নভেম্বর বুয়েট প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। পরে একাধিক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সিটি করপোরেশনকে নিবন্ধন ও লাইসেন্স প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। সেই লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশের খসড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, মোটরযান অর্থ হচ্ছে, কোন যন্ত্রচালিত যানবাহন বা পরিবহন, যা সড়ক, মহাসড়ক বা জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত,নির্মাণ আয়োজন করা হয়। যা চালিকা শক্তি অন্য কোন বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীন উৎস হতে সরবরাহ হয়ে থাকে। আবার ২০০৭ সালি সরকার সিএনজি সার্ভিস নীতিমালা ২০০৭” নােিম একটি নির্র্দেশিকা প্রবর্তন করে, যেখানে ২২ শে মে, ২০০৭ তারিখে স্বরাকলিপিতে সিএনজি চালিত তিন চাচার ৪ স্ট্রোক অটোরিকসা চালানোর বিধান উল্লেখ করা হয়েছে। আর উক্ত নির্দেশিকা অনুসারে সরকার ঢাকা মহানগরী এলাকায়র জন্য ১৩ হাজার সিএনজি চালিত তিন চাকার ৪ স্ট্রোক অটোরিকসার অনুমতি দেন।
সূত্র জানায়, নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী সব ই-রিকশার রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিটি যানবাহনকে নির্দিষ্ট রুট ও ওয়ার্ডভিত্তিক রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও নম্বর প্লেট দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৩টি রিকশা নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রতিটি রিকশার জন্য ইউনিক রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং দুই বছর পরপর ফিটনেস পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আর এসব রিকশাচালকের জন্য ১৮ বছর বয়স, বাংলা পড়া-লেখা জানার সক্ষমতা,  ট্রাফিক আইন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষায় পাস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এছাড়া চালকের ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বিমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। লাইসেন্স নবায়নে ৫ বছর অন্তর ড্রাইভিং পরীক্ষা দিতে হবে। আর নির্ধারিত গতি ও রুট, ফুটপাতে চলাচল নিষিদ্ধ। আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ই-রিকশা কেবল সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগের নির্ধারিত রুটেই চলবে। হাইওয়ে, এক্সপ্রেসওয়ে, বাস রুট, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা জোন এবং ফুটপাতে চলাচল নিষিদ্ধ। শহরে সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার (কি.মি.), স্কুল বা পদচারী এলাকায় সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ১৫ কি.মি. নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন ই-রিকশার দৈর্ঘ্য ২৫০ সেন্টিমিটার ও প্রস্থ ১১০ সেন্টিমিটার সীমার মধ্যে থাকবে। লিথিয়াম আয়ন বা লেড অ্যাসিড ব্যাটারির ক্ষেত্রে নিরাপদ কেসিং ও ইনসুলেশন আবশ্যিক। প্রতিটি যানবাহনের আয়ুষ্কাল ৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেক ই-রিকশা চালক ব্যতীত সর্বোচ্চ দুইজন যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। এর বেশি নিলে আইনভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে। ই-রিকশায় ব্যবহৃত ব্যাটারির পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রবিধানে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। উন্মুক্ত স্থানে ব্যাটারি ফেলা, পোড়ানো বা নিক্ষেপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ব্যাটারি পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ ও সংগ্রহে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র পাওয়া প্রতিষ্ঠান বা ডিলারদের মাধ্যমেই কাজ করতে হবে।
ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ চালকদের প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘আমরা এই যানবাহনের ডিজাইনে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছি। প্রশিক্ষিত চালকেরাই লাইসেন্স পাবেন এবং এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নগরীতে রোড সেফটির একটি কার্যকর কাঠামো গড়ে উঠবে।
#

 

এমএসএম / এমএসএম

আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সচিবের চাঞ্চল্যকর নিয়োগ জালিয়াতি

নতুন নকশার ই-রিকশা বন্ধে উচ্চ আদালতে রিটপিটিশন

বেশি দামের গাছ কম দামে বিক্রি করায় তার নেশা

মামলা ও বিতর্কের মধ্যেই পদোন্নতি পেতে দৌড়ঝাপ, ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন বঞ্চিতরা

বিটিসিএল’র ডিজিএম মালেক ও ম্যানেজার রাব্বির দুর্নীতি চরমে

গণপূর্তের পিপিআর আইন সংশোধনের পরও এটিএম-এলটিএম টেন্ডারে দুর্নীতি

বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার রতন লাল মাহুতের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

ডিবি’র হারুনকে দিয়ে ২ নারী ব্যবসায়ীদের প্রতারণার জালে ফেলতো

নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করছে বন বিভাগের কিছু লোক

কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণ: খুরুশকুল আশ্রয়ণ ও শুঁটকি পল্লী প্রকল্প নিয়ে জনমনে সংশয়

অবৈধপথে ৫ শত কোটি টাকার মালিক দুদকের ডিডি মাহবুবুল আলমকে বাঁচাতে তদন্ত তদন্ত খেলা!

দু’জন উপদেষ্টার পদত্যাগ, ভোগাবে উপদেষ্টা পরিষদকে নতুন নিয়োগ অপরিহার্য

বিটিসিএল এর হিন্দু কর্মচারীকে চাঁদার দাবিতে বিশেষ অঙ্গ কেটে ভারতে পাঠানোর হুমকি