ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

অপারেটরের কাছে জিম্মি কৃষক, সেচের অভাবে ধানের জমি ফেটে চৌচির


সোহানুল হক পারভেজ, তানোর photo সোহানুল হক পারভেজ, তানোর
প্রকাশিত: ১৬-৪-২০২৬ দুপুর ২:১৬

রাজশাহীর তানোরে অপারেটরের খামখেয়ালিপনা ও সময়মতো সেচ না দেওয়ার কারণে শেষ মুহূর্তে বোরো ধানের জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের চকসাজুড়িয়া মৌজায় এমন ঘটনা ঘটেছে। সেচের পানি না পাওয়ার কারণে হুমকির মুখে পড়েছে বোরো ধান। সবুজ পাতা শুকিয়ে গেছে, জমির মাটি ফেটে গেছে। তারপরও অপারেটর নানা অজুহাতে পানি দিচ্ছেন না।ফলে সময়মতো সেচ না পাওয়ায় আবাদ হলেও কাঙ্ক্ষিত ফলন আসবে না বলে মনে করছেন কৃষকরা। তাদের মতে, আর দু-একবার সেচ পেলেই ফসল ঘরে উঠত। কিন্তু এ মুহূর্তে অপারেটরের এমন আচরণে হতাশ হয়ে পড়েছেন তারা।

জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে উপজেলাজুড়ে প্রচণ্ড তাপদাহ বিরাজ করছে। দিনে তাপপ্রবাহ থাকলেও রাতে কিছুটা শীতল হাওয়া থাকছে। সেচ দেওয়ার পরও জমিতে পানি ধরে রাখা যাচ্ছে না।পানির অভাবে ৬ নম্বর কামারগাঁ ইউনিয়নের চকসাজুড়িয়া মৌজার জেল নং-২৩৯, দাগ নং-৬১ এলাকায় অপারেটর মো. রনি ইসলামের অধীন সেচ ব্যবস্থায় চরম সংকট দেখা দিয়েছে। চকসাজুড়িয়া কাজিপাড়া এলাকার কৃষকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। একসময় সবুজে ভরা ধানক্ষেত এখন পানির অভাবে বিবর্ণ হয়ে পড়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু হেনার ডিপ টিউবওয়েল থেকে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ না করায় বিঘার পর বিঘা জমির ধান শুকিয়ে যাচ্ছে।

মাঠের পর মাঠ ধানক্ষেত রোদে পুড়ে খাঁ খাঁ করছে। পানির অভাবে জমির মাটি ফেটে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। ধানের গাছগুলো পর্যাপ্ত রস না পেয়ে হলদেটে হয়ে নুয়ে পড়েছে। অনেক কৃষকই বলছেন, আর কয়েকদিন এভাবে চললে ফলন তো দূরের কথা, গাছ বাঁচিয়ে রাখাই অসম্ভব হয়ে পড়বে।ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, সময়মতো সেচ না পাওয়ায় তারা চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন। কাজিপাড়া এলাকার এক কৃষক বলেন, ‘আমরা রনির ডিপের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সঠিক সময়ে পানি না দেওয়ায় আমাদের কষ্টের ফসল চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বারবার বলেও কোনো কাজ হচ্ছে না।’

তারা আরও জানান, গভীর নলকূপে সেচ দেওয়ার জন্য বিঘাপ্রতি হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৫০০ টাকা। সবাই টাকা পরিশোধ করলেও সেচ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম মানা হচ্ছে না। সেচ কার্ডে সেচ দেওয়ার বিধান থাকলেও তা অনুসরণ করা হয় না। সংশ্লিষ্ট অফিসও এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের।কৃষকদের ভাষ্য, আর দুই-তিনবার সেচ পেলে ফসল ঘরে উঠত। সার ও কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ায় এক বিঘা জমিতে চাষ থেকে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত প্রায় ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা খরচ হয়। অথচ ধানের দাম কম। এর মধ্যে বৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কাও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সেচের অভাবে ফসল নষ্ট হলে তা হবে চরম দুঃখজনক। প্রায় ২৫০ বিঘার এই সেচ স্কিমের মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ বিঘা জমির ধান পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে।

তবে অপারেটর রনি ইসলাম বলেন, ‘সেচের তেমন কোনো সমস্যা নেই। প্রায় ২০০ বিঘার বেশি স্কিমে সেচ দেওয়া হচ্ছে। কারো কোনো সমস্যা হচ্ছে না। কয়েকজন কৃষক ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমন অভিযোগ করছেন। মাত্র ৮-১০ বিঘা জমিতে সামান্য সমস্যা হয়েছিল, সেটিও এখন নেই।’

এ বিষয়ে তানোর বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী নাইমুল হাসান বলেন, ‘গভীর নলকূপের মূল উদ্দেশ্যই হলো জমিতে সেচ দেওয়া। কোনো অপারেটর সেচ না দিলে কৃষকরা সঙ্গে সঙ্গে অফিসকে অবহিত করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এমএসএম / এমএসএম

মাদার্শায় বাগানে বসে ডাকাতির প্রস্তুতি, অস্ত্রসহ আটক ৩

সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় দরজা ভেঙ্গে ঘরের মালামাল লুট করে নেয়ার অভিযোগ

আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল বাংলাদেশ টেপটেনিস ক্রিকেট বোর্ড (বিটিসিবি)

নেত্রকোণায় প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক

মানিকগঞ্জে শ্মশান থেকে মাথার খুলি চুরি: আটক ৩

পর্নোগ্রাফি মামলার আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ, গ্রেপ্তার-২

পঞ্চগড়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও দূর্নীতির অভিযোগ

৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন

নাচোলে ৫৬২০ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিতারণ

শিবচরে এ.এইচ.কে ফিলিং স্টেশনে ফুয়েল কার্ডে তেল বিতরণ শুরু, স্বস্তিতে বাইকাররা

ছেলের ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধা মায়ের

লক্ষ্মীপুর চরশাহী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি পদে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে খাইরুল বারি মিঠু

বাঘা থানায় অ্যাডিশনাল ডিআইজির দ্বি-বার্ষিক পরিদর্শন