বিএনপি সরকার কৃষকবান্ধব সরকার : সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
সিলেটে সিটি করপোরেশনের সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জলাবদ্ধতা নিরসন, বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো ও সুরমা নদীর দুই পাড়ের সৌন্দর্যবর্ধন এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। সিলেটে এই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে জলাবদ্ধতা নিরসন, বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ ও চাঁদনি ঘাটে সুরমা নদীর উভয় পাড়ের সৌন্দর্যবর্ধন। গতকাল শনিবার এসব প্রকল্পের উদ্ধোধন করতে সিলেট সফরে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাথে ছিলেন স্ত্রী জুবায়দা রহমানসহ দলের হাইকমান্ডের নেতৃবৃন্দ। বিভিন্ন পদস্থ সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রীরা। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবন প্রাঙ্গণে এক সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার ঢাকা-সিলেট রুটে ‘সড়ক ও রেল’ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার কাজ শুরু করছে। ‘ঢাকা-সিলেট রুটে সড়কের অবস্থা এতোটাই খারাপ যে প্রায় ১০ ঘন্টা সময় লেগে যায়। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙাচোরা থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আমি নির্বাচনী প্রচারের সময় এসে বলেছিলাম, আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে সিলেট-ঢাকা সড়ক নির্মাণের কাজে হাত দেবো।’ তারেক রহমান বলেন, ‘সরকার গঠনের পরে এ বিষয়ে সড়কের দায়িত্বে যে মন্ত্রণালয় আছে আমি তাদের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম, কাজটি যখন শুরু হয়, বিভিন্ন জায়গায় তাদের কোম্পানিগুলোর যে সাইট অফিস থাকে সেখানে ১১টিতে জমি অধিগ্রহণে সমস্যা রয়ে গেছে।এছাড়াও প্রশাসনিকও নানা জটিলতা রয়েছে।’ তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশা করছি দ্রুততম সময়ে আমরা এই কাজটি শুরু করতে পারব। দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে তা শেষও করা হবে। ফলে ঢাকা টু সিলেট, সিলেট টু ঢাকা বাই রোডে যাতায়াতে মানুষকে আর এত কষ্ট ভোগ করতে হবে না।’সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সুরমা নদীর দুই পাড়ে সৌন্দর্যবর্ধনসহ বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে এই সুধী সমাবেশ হয়। সকাল সাড়ে ১১টায় চাঁদনী ঘাট এলাকায় এ সমাবেশ শুরু হয়। প্রথমেই কোরআন থেকে তেলওয়াতসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা হয়। সড়ক পথের চেয়ে রেলপথের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাস্তা যতই বাড়াতে থাকি তত বেশি গাড়ি নামবে। ট্রাফিক বাড়বেই। এছাড়াও রাস্তা সম্প্রসারণের কারণে ফসলের জমিও নষ্ট হয়। তবে অবশ্যই রাস্তার উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন আমরা করব। কিন্তু মূলত রেলটাকে আমরা বেশি গুরুত্ব দিতে চাই।’ সিলেট-ঢাকা রেলপথে ডাবল লাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সিলেট-ঢাকা রুটে রেল যোগাযোগ উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ বিষয়ে দ্রুত কাজ শুরু হবে এবং সিলেট-ঢাকা রেলপথে ডাবল লাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর ফলে আমরা কম খরচে যাতায়াত করতে পারবো। একই সাথে ব্যবসায়ীরাও কম খরচে তাদের ব্যবসায়িক মালামাল আনা-নেয়া করতে পারবেন। ‘ গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে সরকার বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে এবং যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ্ সার্ভিস (এনএইচএস) এর আদলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শহরের মানুষ স্বাস্থ্য সেবা পেলেও, গ্রামের মামুষ পরিপূর্ণ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত। তবে আমরা সচেতনতার মাধমে অসুস্থ মানুষের সংখ্যা কমিয়ে আনতে পারি। এ লক্ষ্যে সারাদেশে ১ লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যার প্রায় ৮০ শতাংশই নারী। এ সকল স্বাস্থ্যকর্মী সারাদেশের প্রান্তিক মানুষের কাছে গিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক পরামর্শ দেবেন। ‘ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সিলেট মেডিকেল কলেজের অধীনে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল দ্রুত চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যা পরবর্তীতে ১২’শ শয্যায় উন্নীত করা হবে। সিলেটে শিল্প-কারখানা আরও সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি আইটি খাতেও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।’ সিলেটের জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘জলাবদ্ধতার সমস্যা শুধু সিলেটেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি সারা দেশের একটি সাধারণ সমস্যা। জলাবদ্ধতা নিরসনে মানুষকে সচেতন করতে হবে। সিটি কর্পোরেশনকে আমি অনুরোধ করব অবশ্যই আপনারা বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করবেন মানুষ যাতে সেবা পায়। কিন্তু একই সাথে যদি আপনারা মানুষকে সচেতন করার জন্য কতগুলো উদ্যোগ নেন, যেমন প্লাস্টিক অথবা পলিথিন কাগজসহ যে কোন বর্জদ্রব্য যেখানে সেখানে যাতে আমরা না ফেলি তার উদ্যোগ নিতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রতিভাবান শিশুদের খুঁজে বের করতে ‘নতুন কুঁড়ি’ চালু করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে সারা দেশ থেকে প্রতিভাবান খুদে খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করা সম্ভব হবে। সারাদেশে ৩০ লক্ষ বাচ্চা নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে। এসব বাচ্চাদের ভেতর থেকে প্রতিভাবানরা একদিন আমাদের দেশের জন্য বিদেশ থেকে স্বর্ণপদক জয় করবে, সুনাম বয়ে আনবে। ‘ তিনি বলেন, আড়াই মাস সয়সী একটি শিশু হাঁটতে পারে না। শিশুটিকে হাঁটতে হলে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হয়। সরকারের বয়স মাত্র আড়াই মাসের মতো। তবে আমরা,এরই মধ্যে জনগণকে যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলাম সেগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি। এরই মধ্যে আমরা নারীদের সহায়তা করতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা চালু করেছি। আরও যে সকল প্রকল্প আছে সবগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করবে সরকার। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিশ্বাস করি, পরিশ্রম দিয়ে আমরা উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশকেও গড়ে তুলতে পারবো। এই আত্মবিশ্বাস নিয়েই সরকার দেশ পরিচালনা শুরু করেছে। তাইতো এ দেশকে এগিয়ে নিতে আমাদের সকলের কাছে একটাই প্রত্যয়, একটাই স্লোগান ধারণ করতে হবে, তা হলো- ‘করব কাজ, গড়ব দেশ- সবার আগে বাংলাদেশ’।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বিএনপি সরকার কৃষকবান্ধব সরকার। দেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বাস করেন এবং কৃষির সঙ্গে জড়িত। বিএনপি সবসময় কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে কাজ করে। তিনি শনিবার (২ মে) দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নে বাসিয়া নদী পূণঃখনন কাজ উদ্বোধন শেষে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় এসব কথা বলেন। এসময় তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, সারাদেশে খাল খনন কার্যক্রম শুরু করবো। আমরা শুরু করেছে। আজ এই বাসিয়া খাল পূণঃখনন কাজের উদ্বোধন করলাম। এই খাল খনন শেষে দুই পারে আমরা ৫০ হাজার গাছ লাগাবো। সেখানে স্থানীয়রা প্রকৃতির সান্নিধ্য পাবেন। আমরা ফলজ গাছও লাগাবো। তিনি বলেন, বাসিয়া পূণঃখনন শেষ হলে সরাসরি ৮০ হাজার কৃষক উপকৃত হবে। আর পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে আরও অন্তত দেড় লাখ মানুষ। এতে বছরে আরও ৭ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত খাদ্যশস্য উৎপাদন হবে। আমরা দেশের ৬০ জেলায় খাল খনন শুরু করেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম আমরা ফ্যামিলি কার্ড দিবো। আমরা তা শুরু করেছি। আমরা কৃষকদের কৃষি কার্ড দেওয়ার কাজও শুরু করেছি। এই কার্ড দিয়ে তারা যেমন সার কীটনাশক বীজ পাবেন তেমনি কৃষি ঋণও পাবেন। ইতিমধ্যে আমাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করেছি। তিনি বলেন, ইমাম মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের আমরা ভাতা দেওয়া শুরু করেছি। এসময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঞ্চে উপবিষ্ট শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে দেখিয়ে বলেন, আপনাদের ছেলে মুক্তাদীর সরকারের শিল্পমন্ত্রী। তাকে বলেছি, বন্ধ হওয়া শিল্প কারখানার সমস্যা সমাধান করে সেগুলো সচল করতে। দেশে বন্ধ হয়ে পড়া সব কারখানা চালু করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার গঠনের ৫/৭ দিনের মধ্যে আপনাদের সন্তান মুক্তাদিরকে (শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী) নিয়ে আমি বসেছিলাম। তাকে বলেছিলাম, কোথায় কোথায় বন্ধ কল কারখানা আছে তা বের করেন, বন্ধের কারণ বের করেন। এবং সবগুলো আমরা ধীরে ধীরে চালু করবো। যাতে করে আমাদের দেশের বেকার মানুষদের কর্মমসংস্থান হয়।আরও নতুন নতুন কলকারখানা স্থাপনে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা শিল্প ক্ষেত্রেও জোর দিচ্ছি। এতে বেকারত্ব হ্রাস হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা জনশক্তি রফতানির জন্য নতুন নতুন দেশের সঙ্গে কথা বলছি। অচিরেই সেসব দেশে মানুষ কাজ করার জন্য যাবেন। এতে দেশে রেমিট্যান্স আসবে, পরিবারগুলোতেও স্বচ্ছলতা ফিরবে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সুধী সমাবেশে বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সংসদের হুইপ জি কে গউছ এবং সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে অতিথি সারিতে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, সংরক্ষিত নারী আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শাম্মী আখতার, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এনামুল হক চৌধুরী। এর আগে বেলা ১১ টায় চাঁদনি ঘাটে সুরমা নদীর উভয় পাড়ের সৌন্দর্যবর্ধনসহ বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। সিলেটে এস প্রধানমন্ত্রী প্রথমে হজরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করেন। পরে তিনি সেখান থেকে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ খ্যাত লাল সবুজ বাসে চড়ে চাঁদনি ঘাটে আসেন। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিলেটের চাঁদনি ঘাটে সুরমা নদীর উভয় পাড়ের সৌন্দর্যবর্ধনসহ বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন। তিনি সকাল ১১টায় চাঁদনি ঘাটে এই প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। এছাড়াও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সংশ্লিষ্টরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই প্রকল্পের বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। এখানে তিনি দেশ ও জাতির শান্তিকামনায় মোনাজাত করেন। এ সময় সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান তাঁর সঙ্গে ছিলেন। এছাড়া সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রসাশক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। এর আগে তারেক রহমান সকাল ১০ টা ৫ মিনিটে সিলেট ওসমানী বিমান বন্দরে এসে পৌঁছান। বিমানবন্দরে নেমে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই প্রধানমন্ত্রী নগরের দরগা গেট এলাকায় অবস্থিত সুফিসাধক হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশে রওনা হন। মাজারে যাওয়ার পথে ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে হাজারো মানুষ জড়ো হন। রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে তারা তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। তারেক রহমান নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান। প্রধানমন্ত্রী সিলেটে খাল খনন কর্মসূচি, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসসহ বিভিন্ন কর্মসূচি শেষ করে রাতে ঢাকায় ফিরবেন। গত ২১ জানুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা এই সিলেট থেকেই শুরু করেছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেদিন তিনি সিলেটের আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সিলেটে তারেক রহমানের এটি প্রথম সফর।
সিলেটে সিটি করপোরেশনের সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জলাবদ্ধতা নিরসন, বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো ও সুরমা নদীর দুই পাড়ের সৌন্দর্যবর্ধন এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। সিলেটে এই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে জলাবদ্ধতা নিরসন, বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ ও চাঁদনি ঘাটে সুরমা নদীর উভয় পাড়ের সৌন্দর্যবর্ধন। শনিবার এসব প্রকল্পের উদ্ধোধন করতে সিলেট সফরে আসের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সিলেটের সুধি সমাজের অনুষ্টানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার ঢাকা-সিলেট রুটে ‘সড়ক ও রেল’ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার কাজ শুরু করছে। তিনি গতকাল শনিবার সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবন প্রাঙ্গণে এক সুধী সমাবেশে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা-সিলেট রুটে সড়কের অবস্থা এতোটাই খারাপ যে প্রায় ১০ ঘন্টা সময় লেগে যায়। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙাচোরা থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আমি নির্বাচনী প্রচারের সময় এসে বলেছিলাম, আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে সিলেট-ঢাকা সড়ক নির্মাণের কাজে হাত দেবো।’ তারেক রহমান বলেন, ‘সরকার গঠনের পরে এ বিষয়ে সড়কের দায়িত্বে যে মন্ত্রণালয় আছে আমি তাদের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম, কাজটি যখন শুরু হয়, বিভিন্ন জায়গায় তাদের কোম্পানিগুলোর যে সাইট অফিস থাকে সেখানে ১১টিতে জমি অধিগ্রহণে সমস্যা রয়ে গেছে।এছাড়াও প্রশাসনিকও নানা জটিলতা রয়েছে।’ তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশা করছি দ্রুততম সময়ে আমরা এই কাজটি শুরু করতে পারব। দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে তা শেষও করা হবে। ফলে ঢাকা টু সিলেট, সিলেট টু ঢাকা বাই রোডে যাতায়াতে মানুষকে আর এত কষ্ট ভোগ করতে হবে না।’সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সুরমা নদীর দুই পাড়ে সৌন্দর্যবর্ধনসহ বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে এই সুধী সমাবেশ হয়। সকাল সাড়ে ১১টায় চাঁদনী ঘাট এলাকায় এ সমাবেশ শুরু হয়। প্রথমেই কোরআন থেকে তেলওয়াতসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা হয়। সড়ক পথের চেয়ে রেলপথের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাস্তা যতই বাড়াতে থাকি তত বেশি গাড়ি নামবে। ট্রাফিক বাড়বেই। এছাড়াও রাস্তা সম্প্রসারণের কারণে ফসলের জমিও নষ্ট হয়। তবে অবশ্যই রাস্তার উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন আমরা করব। কিন্তু মূলত রেলটাকে আমরা বেশি গুরুত্ব দিতে চাই।’ সিলেট-ঢাকা রেলপথে ডাবল লাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সিলেট-ঢাকা রুটে রেল যোগাযোগ উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ বিষয়ে দ্রুত কাজ শুরু হবে এবং সিলেট-ঢাকা রেলপথে ডাবল লাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর ফলে আমরা কম খরচে যাতায়াত করতে পারবো। একই সাথে ব্যবসায়ীরাও কম খরচে তাদের ব্যবসায়িক মালামাল আনা-নেয়া করতে পারবেন। ‘ গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে সরকার বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে এবং যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ্ সার্ভিস (এনএইচএস) এর আদলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শহরের মানুষ স্বাস্থ্য সেবা পেলেও, গ্রামের মামুষ পরিপূর্ণ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত। তবে আমরা সচেতনতার মাধমে অসুস্থ মানুষের সংখ্যা কমিয়ে আনতে পারি। এ লক্ষ্যে সারাদেশে ১ লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যার প্রায় ৮০ শতাংশই নারী। এ সকল স্বাস্থ্যকর্মী সারাদেশের প্রান্তিক মানুষের কাছে গিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক পরামর্শ দেবেন। ‘ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সিলেট মেডিকেল কলেজের অধীনে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল দ্রুত চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যা পরবর্তীতে ১২’শ শয্যায় উন্নীত করা হবে। সিলেটে শিল্প-কারখানা আরও সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি আইটি খাতেও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।’ সিলেটের জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘জলাবদ্ধতার সমস্যা শুধু সিলেটেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি সারা দেশের একটি সাধারণ সমস্যা। জলাবদ্ধতা নিরসনে মানুষকে সচেতন করতে হবে। সিটি কর্পোরেশনকে আমি অনুরোধ করব অবশ্যই আপনারা বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করবেন মানুষ যাতে সেবা পায়। কিন্তু একই সাথে যদি আপনারা মানুষকে সচেতন করার জন্য কতগুলো উদ্যোগ নেন, যেমন প্লাস্টিক অথবা পলিথিন কাগজসহ যে কোন বর্জদ্রব্য যেখানে সেখানে যাতে আমরা না ফেলি তার উদ্যোগ নিতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রতিভাবান শিশুদের খুঁজে বের করতে ‘নতুন কুঁড়ি’ চালু করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে সারা দেশ থেকে প্রতিভাবান খুদে খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করা সম্ভব হবে। সারাদেশে ৩০ লক্ষ বাচ্চা নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে। এসব বাচ্চাদের ভেতর থেকে প্রতিভাবানরা একদিন আমাদের দেশের জন্য বিদেশ থেকে স্বর্ণপদক জয় করবে, সুনাম বয়ে আনবে। ‘ তিনি বলেন, আড়াই মাস সয়সী একটি শিশু হাঁটতে পারে না। শিশুটিকে হাঁটতে হলে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হয়। সরকারের বয়স মাত্র আড়াই মাসের মতো। তবে আমরা,এরই মধ্যে জনগণকে যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলাম সেগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি। এরই মধ্যে আমরা নারীদের সহায়তা করতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা চালু করেছি। আরও যে সকল প্রকল্প আছে সবগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করবে সরকার। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিশ্বাস করি, পরিশ্রম দিয়ে আমরা উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশকেও গড়ে তুলতে পারবো। এই আত্মবিশ্বাস নিয়েই সরকার দেশ পরিচালনা শুরু করেছে। তাইতো এ দেশকে এগিয়ে নিতে আমাদের সকলের কাছে একটাই প্রত্যয়, একটাই স্লোগান ধারণ করতে হবে, তা হলো- ‘করব কাজ, গড়ব দেশ- সবার আগে বাংলাদেশ’।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বিএনপি সরকার কৃষকবান্ধব সরকার। দেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বাস করেন এবং কৃষির সঙ্গে জড়িত। বিএনপি সবসময় কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে কাজ করে। তিনি শনিবার (২ মে) দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নে বাসিয়া নদী পূণঃখনন কাজ উদ্বোধন শেষে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় এসব কথা বলেন। এসময় তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, সারাদেশে খাল খনন কার্যক্রম শুরু করবো। আমরা শুরু করেছে। শনিবার এই বাসিয়া খাল পূণঃখনন কাজের উদ্বোধন করলাম। এই খাল খনন শেষে দুই পারে আমরা ৫০ হাজার গাছ লাগাবো। সেখানে স্থানীয়রা প্রকৃতির সান্নিধ্য পাবেন। আমরা ফলজ গাছও লাগাবো। তিনি বলেন, বাসিয়া পূণঃখনন শেষ হলে সরাসরি ৮০ হাজার কৃষক উপকৃত হবে। আর পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে আরও অন্তত দেড় লাখ মানুষ। এতে বছরে আরও ৭ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত খাদ্যশস্য উৎপাদন হবে। আমরা দেশের ৬০ জেলায় খাল খনন শুরু করেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম আমরা ফ্যামিলি কার্ড দিবো। আমরা তা শুরু করেছি। আমরা কৃষকদের কৃষি কার্ড দেওয়ার কাজও শুরু করেছি। এই কার্ড দিয়ে তারা যেমন সার কীটনাশক বীজ পাবেন তেমনি কৃষি ঋণও পাবেন। ইতিমধ্যে আমাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করেছি। তিনি বলেন, ইমাম মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের আমরা ভাতা দেওয়া শুরু করেছি। এসময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঞ্চে উপবিষ্ট শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে দেখিয়ে বলেন, আপনাদের ছেলে মুক্তাদীর সরকারের শিল্পমন্ত্রী। তাকে বলেছি, বন্ধ হওয়া শিল্প কারখানার সমস্যা সমাধান করে সেগুলো সচল করতে। দেশে বন্ধ হয়ে পড়া সব কারখানা চালু করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার গঠনের ৫/৭ দিনের মধ্যে আপনাদের সন্তান মুক্তাদিরকে (শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী) নিয়ে আমি বসেছিলাম। তাকে বলেছিলাম, কোথায় কোথায় বন্ধ কল কারখানা আছে তা বের করেন, বন্ধের কারণ বের করেন। এবং সবগুলো আমরা ধীরে ধীরে চালু করবো। যাতে করে আমাদের দেশের বেকার মানুষদের কর্মমসংস্থান হয়।আরও নতুন নতুন কলকারখানা স্থাপনে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা শিল্প ক্ষেত্রেও জোর দিচ্ছি। এতে বেকারত্ব হ্রাস হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা জনশক্তি রফতানির জন্য নতুন নতুন দেশের সঙ্গে কথা বলছি। অচিরেই সেসব দেশে মানুষ কাজ করার জন্য যাবেন। এতে দেশে রেমিট্যান্স আসবে, পরিবারগুলোতেও স্বচ্ছলতা ফিরবে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সুধী সমাবেশে বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সংসদের হুইপ জি কে গউছ এবং সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে অতিথি সারিতে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, সংরক্ষিত নারী আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শাম্মী আখতার, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এনামুল হক চৌধুরী। এর আগে বেলা ১১ টায় চাঁদনি ঘাটে সুরমা নদীর উভয় পাড়ের সৌন্দর্যবর্ধনসহ বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। সিলেটে এস প্রধানমন্ত্রী প্রথমে হজরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করেন। পরে তিনি সেখান থেকে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ খ্যাত লাল সবুজ বাসে চড়ে চাঁদনি ঘাটে আসেন। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিলেটের চাঁদনি ঘাটে সুরমা নদীর উভয় পাড়ের সৌন্দর্যবর্ধনসহ বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন। তিনি সকাল ১১টায় চাঁদনি ঘাটে এই প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। এছাড়াও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সংশ্লিষ্টরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই প্রকল্পের বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। এখানে তিনি দেশ ও জাতির শান্তিকামনায় মোনাজাত করেন। এ সময় সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান তাঁর সঙ্গে ছিলেন। এছাড়া সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রসাশক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। এর আগে তারেক রহমান সকাল ১০ টা ৫ মিনিটে সিলেট ওসমানী বিমান বন্দরে এসে পৌঁছান। বিমানবন্দরে নেমে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই প্রধানমন্ত্রী নগরের দরগা গেট এলাকায় অবস্থিত সুফিসাধক হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশে রওনা হন। মাজারে যাওয়ার পথে ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে হাজারো মানুষ জড়ো হন। রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে তারা তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। তারেক রহমান নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান। প্রধানমন্ত্রী সিলেটে খাল খনন কর্মসূচি, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসসহ বিভিন্ন কর্মসূচি শেষ করে রাতে ঢাকায় ফিরবেন। গত ২১ জানুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা এই সিলেট থেকেই শুরু করেছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেদিন তিনি সিলেটের আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সিলেটে তারেক রহমানের এটি প্রথম সফর।
এমএসএম / এমএসএম
সোনারগাঁয়ে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত-২
বরগুনায় খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির চাউল বিতরণে অনিয়ম
একটি ব্রিজের অভাবে ৩০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ, ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন
কুড়িগ্রামে বিজিবির অভিযানে ২৪ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য আটক
জাগৃতি'র গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ উপলক্ষে প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত
আনন্দঘন পেিরবেশে পাবনা প্রেসক্লাবের ৬৫তম বর্ষপূর্তিতে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা
চার্জে থাকা ইজিবাইকের শকে টুঙ্গিপাড়ায় বৃদ্ধার মৃত্যু
গুরুদাসপুরে সরকারি কোয়ার্টারে ডাকাতি, কর্মকর্তার হাত-পা বেঁধে টাকা-স্বর্ণালঙ্কার লুট
৩ মে মুজাফরাবাদ গণহত্যা: ইতিহাসের নৃশংসতম এক কালরাত্রির স্মরণ
তেঁতুলিয়ায় জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত
বর্তমান সরকার তৃণমূল পর্যায় থেকে দক্ষ খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে: এমপি রেজাউল ইসলাম
বাবুগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে নির্যাতনের অভিযোগ, পাল্টা মামলায় পরিবারে দ্বন্দ্ব তীব্র