ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে সুনামগঞ্জে দুই মন্ত্রী; কর্মকর্তাদের ওপর সংসদ সদস্যদের ক্ষোভ
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে জেলায় পৌঁছেছেন সরকারের দুই মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। মঙ্গলবার (০৫ মে) দুপুরে সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (অর্থ ও পরিকল্পনা) রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর অংশগ্রহণ করেন।
মতবিনিময় সভা শেষে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বাস করেন এ দেশের কৃষকের অর্থনীতি শক্তিশালী হলেই বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। হাওরাঞ্চলে অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে সরকার বদ্ধপরিকর। জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি আমার অনুরোধ, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরাই যেন সরকারি সহায়তা পায়।” নিজের কৃষক সত্তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি দেখে আসছি কৃষকরা ধান কাটছে। আপনারা আমাকে ক্ষেতে নামান, দেখবেন আমিও কারো থেকে কম নই; আমি অরিজিনাল জাত কৃষক।”
একই অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও অপরিকল্পিত কাজের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে সেটা মেনে নেওয়া যায় না। অভিযোগ উঠেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ করায় কৃষকদের সমস্যা হচ্ছে। শুধু ঠিকাদার পোষার জন্য বা টাকা নয়ছয় করতে যেন অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ না করা হয়।” সুনামগঞ্জ এক ফসলি অঞ্চল হওয়ায় কৃষকদের সারা বছরের জীবিকা রক্ষায় টেকসই প্রকল্প তৈরির নির্দেশ দেন তিনি।
সভায় সুনামগঞ্জের সংসদ সদস্যরা কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির সঠিক চিত্র মন্ত্রীদের সামনে তুলে ধরেন। এ সময় কৃষি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যের সত্যতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল। তিনি অভিযোগ করেন, ৯১ হাজার হেক্টরের বেশি ফসলি জমি আজ সংকটে থাকলেও কৃষি কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, “সুনামগঞ্জের হাওর শুধু জীবিকা নয়, এটি আমাদের প্রাণ। পাহাড়ি ঢল থেকে ফসল রক্ষায় পরিকল্পিত সুইচগেট, আধুনিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও আগাম জাতের বীজের নিশ্চয়তা প্রয়োজন।” জেলা কৃষি কর্মকর্তার দেওয়া ‘৮০ ভাগ ধান কাটা হয়ে গেছে’—এমন তথ্যের বিরোধিতা করেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিজান চৌধুরীসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতারা। তাদের দাবি, এখনো জেলার ৫০ ভাগ ফসল পানির নিচে রয়েছে।
সভায় সুনামগঞ্জ-৫ আসনের এমপি কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের এমপি মোহাম্মদ কয়সর আহমেদ এবং সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি কামরুল ইসলাম কামরুলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। আলোচনা সভা শেষে দুই মন্ত্রী ৪০০ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের মাঝে ২০ কেজি করে চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিন মাস মেয়াদী মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন নিয়ে কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
এমএসএম / এমএসএম
ত্রিশালে নজরুল জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে প্রাক-প্রস্তুতি সভায় সংস্কৃতি মন্ত্রী
লালমাই পাহাড়ের ‘সিলগালা’ কূপ ঘিরে রহস্য- ২০০৪ সালে গ্যাসের সন্ধান, কৌতূহলে স্থানীয়রা
দৌলতখানে সাজেদা ফাউন্ডেশনের 'স্টপ দ্য স্টিগমা ২.০' প্রকল্পের লার্নিং শেয়ারিং মিটিং অনুষ্ঠিত
কালকিনিতে জেলেদের চাল নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের চালবাজী!
সুন্দরবনে চোরাশিকারীদের কবল থেকে ২ হরিণ উদ্ধার, বনে অবমুক্ত
হাতিয়ায় নিখোঁজ শিশুর ভাসমান লাশ উদ্ধার
রেক্টিফাইড স্পিরিট পানে বিষক্রিয়া ও মৃত্যু প্রতিরোধে মেহেরপুরে সেমিনার অনুষ্ঠিত
মধুখালীতে নওপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান আটক
ধামইরহাট পৌরসভার রূপকল্প ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত
শার্শায় ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২
পিরোজপুরে শিশু শ্রম ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অবহিতকরণ সভা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান
গ্রাম পুলিশ নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ইউপি সদস্য