কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম আভায় সেজেছে বারহাট্টার প্রকৃতি
ঋতুরাজ বসন্তের বিদায়ে গ্রীষ্মের তপ্ত রোদের খরতাপ গায়ে মেখে বসন্তের রেশ ধরে বারহাট্টার প্রকৃতি সেজেছে চোখ ধাঁধানো কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম আভায়।
বাঙালির কবিতা, সাহিত্য, গান ও বিভিন্ন উপমায় কৃষ্ণচূড়া ফুলের কথা এসেছে নানা ভঙ্গিমায়। মাইকেল মধুসূদন দত্ত 'কৃষ্ণচূড়া' কবিতায় লিখেছেন- "বসুধা নিজ কুন্তলে পরেছিল কুতূহলে/ এ উজ্জ্বল মণি,/ রাগে তারে গালি দিয়া,/লয়েছি আমি কাড়িয়া-/ মোর কৃষ্ণ-চূড়া কেনে পরিবে ধরণী?" কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ভাষায়- "গন্ধে উদাস হাওয়ার মতো উড়ে তোমার উত্তরী কর্ণে তোমার কৃষ্ণচূড়ার মঞ্জরি।" জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গানের চরণে লিখেছেন- "রেশমি চুড়ির তালে কৃষ্ণচূড়ার ডালে/পিউ কাঁহা পিউ কাঁহা ডেকে ওঠে পাপিয়া।।" প্রকৃতির শোভা বর্ধনকারী কৃষ্ণচূড়া গাছ এখনো গ্রামবাংলার পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়। প্রকৃতিতে গ্রীষ্মের ছোঁয়া লাগার সঙ্গে সঙ্গেই কৃষ্ণচূড়া তার রক্তিম আভা ছড়ানোর মাধ্যমে জানান দেয়- সে এখনও টিকে আছে প্রকৃতিকে সাজাবে বলে। গ্রীষ্মের এ সময়ে প্রকৃতিতে হরেক রকমের ফুল ফুটলেও মানুষের নজর কাড়ছে কৃষ্ণচূড়া।
সরেজমিনে বারহাট্টা উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, কৃষ্ণচূড়ার গাছে থোকায় থোকায় ফুল ফুঁটেছে। সবুজের বুকে শুধুই লালের রাজত্ব। দূর থেকে মনে হয় ময়ূর তার রাঙা পেখম মেলে ধরেছে প্রকৃতির মাঝে। সড়ক অথবা গ্রামীণ জনপদের মেঠোপথের ধারে, পুকুর কিংবা নদীর তীরে বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শোভা পাচ্ছে কৃষ্ণচূড়া ফুল।
বাউসী অর্দ্ধচন্দ্র উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের (স্কুল ও কলেজ) বাংলা বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক বিজয় চন্দ্র দাসের সাথে কথা বললে তিনি সকালের সময়কে বলেন, গ্রীষ্মের প্রকৃতিতে এখন মনোমুগ্ধকর রঙ ছড়িয়েছে কৃষ্ণচূড়া। একসময়ে বারহাট্টার বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর পরিমাণে কৃষ্ণচূড়া গাছ দেখা যেতো। গ্রীষ্মের প্রকৃতিকে সাজিয়ে তুলতো। কালের পরিক্রমায় আবাসন ব্যবস্থার কারণে অনেক গাছ কাটা পড়েছে। সৌন্দর্য উপভোগ ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় বেশি বেশি কৃষ্ণচূড়া গাছ রোপণ অভিযান চালাতে হবে।
বারহাট্টা সরকারি কলেজের জীব বিজ্ঞাবিষয়ের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র প্রভাষক মজিবুল হক বলেন, কৃষ্ণচূড়া- 'Fabaceae' পরিবারের অন্তর্গত একটি গাছ। এটি ‘গুলমোহর’ নামেও পরিচিত। এটি এক ধরনের বৃক্ষ জাতীয় বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম- 'Delonix Regia' ইংরেজি নাম- 'Flame Tree'। সাধারণত বসন্তে এ ফুল ফোটা শুরু হয়। বসন্তকালে ফুটলেও গ্রীষ্মকালে পূর্ণাঙ্গ রূপে এ ফুলের প্রদর্শন শুরু হয়। এ ফুল চার পাপড়ি বিশিষ্ট। পাপড়িগুলো ৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। কৃষ্ণচূড়ার পাতা সবুজ। প্রতিটি পাতা ৩০ থেকে ৫০ সেন্টিমিটার লম্বা হয় এবং ২০ থেকে ৪০টি উপপত্র বিশিষ্ট। সাধারণত এ গাছে ফুল আসলেই গাছটি সহজেই নজরে আসে। কৃষ্ণচূড়ার আদি নিবাস পূর্ব আফ্রিকার মাদাগাস্কার। পরে ভুটান, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, নেপাল, মালদ্বীপ, মায়ানমার, ও বাংলাদেশের সর্বত্র বিস্তার লাভ করে।
কথা হয় বারহট্টা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হকের সাথে তিনি বলেন, কৃষ্ণচূড়া ফুল লাল ও হলুদ রঙয়ের হয়ে থাকে। আমরা না জেনে একে কৃষ্ণচূড়া বলে থাকি। লাল রঙয়ের ফুলকে কৃষ্ণচূড়া ও হলুদ রঙয়ের ফুলকে রাধাচূড়া বলা হয়। তবে হলুদ রঙে রাধাচূড়া এখন তেমন দেখা যায় না বলেই চলে। আমাদের দেশে এপ্রিল মে মাসে এই ফুল ফোটে। বছরের অনান্য সময় এই ফুল বা গাছ সচরাচর চোখে না পড়লেও এপ্রিল মে মাসে যখনি গাছে নতুন পাতা বা ফুল ফোটা শুরু করে তখনি যেন পথচারির নজর কাড়ে মনোমুগ্ধকর এই কৃষ্ণচূড়া। বৃক্ষ নিধনের শিকার হয়ে দিন দিন হারিয়ে যেতে বসেছে উপজেলার আনাচে-কানাচে বেড়ে ওঠা কৃষ্ণচুড়া ফুল গাছ। ভবিষ্যতে এ গাছ হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কাও রয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় রেশি করে কৃষ্ণচূড়া গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
এমএসএম / এমএসএম
গজারিয়ায় ৯ই মে গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল
পটুয়াখালী বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুলে হুইলচেয়ার দিয়ে স্বর্গীয়া মা'র অসিহত পূরন...
ধুনটে অসহায়দের স্বপ্নে নতুন আলো, মিলল গবাদিপশু ও অর্থ সহায়তা
মনপুরায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে মাছ জব্দ, বিক্রির অভিযোগে তোলপাড়
চুনারুঘাটে সেতুর অভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে পারাপার
শ্যামনগরে সুন্দরবন সুরক্ষায় আর্থস্কাউট স্কুল ক্যাম্পেইন
গাংনী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদের নাম ঘোষণা
শ্রীমঙ্গলে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ শুরু, বর্ণাঢ্য র্যালি ও চেকপোস্ট কার্যক্রম শুরু
উলিপুরে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন
ধামরাইয়ে গাঁজাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
৫ বছরে দেশে ২০ কোটি গাছ রোপণ করা হবে ত্রানমন্ত্রী
তিস্তার চর থেকে হারিয়ে যাচ্ছে কাউনের সবুজ মাঠ