রক্তদহ বিল ঘিরে কৃষি বিপ্লবের স্বপ্ন:২২ খাল খননে বদলে যাবে রাণীনগরের অর্থনীতি
উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎওঐতিহ্যবাহী জলাশয় রক্তদহ বিল। নওগাঁর রাণীনগর এবং বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সীমানা ঘেঁষে অবস্থিত এই বিলটি এক সময় কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর মৎস্য সম্পদের জন্য পরিচিত থাকলেও, এখন একে ঘিরে নতুন করে কৃষি বিপ্লবের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা। ৩৪০ একর একফসলি জমিকে তিনফসলি জমিতে রূপান্তর করতে নেওয়া হচ্ছে এক বিশাল মহাপরিকল্পনা, যা বাস্তবায়িত হলে এলাকার কৃষি অর্থনীতিতে আসবে আমূল পরিবর্তন।
রক্তদহ বিলের বুক চিরে বয়ে গেছে ছোট-বড় ২২টি খাল। বর্তমানে সেচ সুবিধার অভাবে এই বিশাল এলাকার ৩৪০ একর জমিতে বছরে মাত্র একবার চাষাবাদ করা সম্ভব হয়। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে মাঠের পর মাঠ জমি পড়ে থাকে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিলের সাথে সংযুক্ত এই ২২টি খাল ১২ ফুট গভীর করে পুনঃখনন করা হলে পানির ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এতে করে সেচ সংকট দূর হবে এবং বর্তমানে থাকা একফসলি জমিগুলো তিনফসলি জমিতে রূপান্তরিত হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মতেবছরে প্রায় ৬৩ হাজার টন বাড়তি ধান উৎপাদন সম্ভব হবে।উৎপাদিত ধান থেকে সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব প্রাপ্তি হবে প্রায় ১৮৯ কোটি টাকা।
ধান ছাড়াও রবি শস্য ও সবজি চাষের অপার সম্ভাবনা তৈরি হবে।'পাখি পল্লী' খ্যাত এই বিলের উন্নয়নে ইতিমধ্যে বিশদ উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (DDP) প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
নওগাঁ জেলা প্রকৌশলী মোঃ রেজাউল ইসলাম জানান, "আমরা ২২টি খাল খননের জন্য ডিডিপি প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। অনুমোদন পেলে খালগুলো ১২ ফিট গভীর করে খনন করা হবে। এটি ৩৪০ একর জমির সেচ কাজে অত্যন্ত সহায়ক হবে এবং কৃষকরা বছরে একবারের পরিবর্তে তিনবার ফসল ফলাতে পারবেন।"
রক্তদহ বিলটি মূলত রাণীনগর ও আদমদীঘি উপজেলার ২৩ থেকে ৪০টি গ্রামের মানুষের জীবন-জীবিকার সাথে মিশে আছে। বিলটি প্রায় ৯০০ একর (১,৬৪৩ বিঘা) এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। এর মূল অংশ প্রায় ১০৫ হেক্টর (২৬০ একর) ধরা হলেও নিচু জমিসহ এর ব্যাপ্তি বিশাল। বিলের প্রায় ৬০% থেকে ৭০% অংশ নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় এবং বাকি অংশ বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় অবস্থিত।
বিলের সাথে সংযোগের প্রধান পয়েন্টগুলো হলো রাণীনগরের রতনডারি, আবাদপুকুর, গোজারিয়া ও কালীগ্রাম। এছাড়া আত্রাই ও সিংড়া অংশ দিয়েও পানি নিষ্কাশিত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খালগুলো খনন করা হলে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর (Water Table) প্রাকৃতিক উপায়ে রিচার্জ হবে। এতে এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে। বিশেষ করে বর্ষাকালে বিলের মনোরম দৃশ্য এবং শীতকালে অতিথি পাখিদের আনাগোনা এই অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দেবে।
রক্তদহ বিল পাড়ের মানুষের প্রধান উপজীব্য কৃষি। বছরের দীর্ঘ সময় জমি অনাবাদী পড়ে থাকায় লোকসানের মুখে থাকা কৃষকরা এখন নতুন করে আশার আলো দেখছেন। বিলকৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক মোঃ মোস্তফা বলেন, "এই রক্তদহ বিলে ২২টি খাল রয়েছে। কিন্তু কালের বিবর্তনে এগুলো ভরাট হয়ে এখন প্রায় নিষ্ক্রিয়। এগুলো পুনরায় খনন করা হলে আমরা বছরে তিনবার ফসল ফলাতে পারব।"
একই গ্রামের কৃষক মোঃ রফিকুল ইসলাম (বাবু) আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান, সরকার যদি খালগুলো ঠিকঠাক খনন করে দেয়, তবে বিলের প্রতিটি ইঞ্চি জমিতে তিনবার ফসল ফলানো সম্ভব। তারা এখন শুধু প্রকল্পের বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এই অবহেলিত জনপদকে একটি আধুনিক কৃষি-অর্থনৈতিক জোনে পরিণত করতে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি রাস্তাঘাটের উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়িত হলে এটি কেবল কৃষকের ভাগ্যই বদলাবে না, বরং পুরো এলাকার অবকাঠামোগত চেহারা পাল্টে দেবে।
এমএসএম / এমএসএম
গজারিয়ায় ৯ই মে গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল
পটুয়াখালী বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুলে হুইলচেয়ার দিয়ে স্বর্গীয়া মা'র অসিহত পূরন...
ধুনটে অসহায়দের স্বপ্নে নতুন আলো, মিলল গবাদিপশু ও অর্থ সহায়তা
মনপুরায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে মাছ জব্দ, বিক্রির অভিযোগে তোলপাড়
চুনারুঘাটে সেতুর অভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে পারাপার
শ্যামনগরে সুন্দরবন সুরক্ষায় আর্থস্কাউট স্কুল ক্যাম্পেইন
গাংনী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদের নাম ঘোষণা
শ্রীমঙ্গলে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ শুরু, বর্ণাঢ্য র্যালি ও চেকপোস্ট কার্যক্রম শুরু
উলিপুরে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন
ধামরাইয়ে গাঁজাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
৫ বছরে দেশে ২০ কোটি গাছ রোপণ করা হবে ত্রানমন্ত্রী
তিস্তার চর থেকে হারিয়ে যাচ্ছে কাউনের সবুজ মাঠ