সোনাদিয়া দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রশাসনের অভিযান
কক্সবাজারের মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপে ম্যানগ্রোভ প্যারাবন ও ঝাউবনের ভেতর গড়ে ওঠা অবৈধ কটেজ ও পর্যটন স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন।
শনিবার (৯ এপ্রিল) সকাল থেকে মহেশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আবু জাফর মজুমদারের নেতৃত্বে এ অভিযান শুরু হয়।
উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে গঠিত এই টিমে মহেশখালী থানা–পুলিশ, বন বিভাগের মাঠকর্মী, স্থানীয় আনসার সদস্য এবং নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ডের প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযানে প্রথম ধাপে দ্বীপের ঝাউবন কেটে এবং বন বিভাগের খাসজমি দখল করে নির্মিত বেশ কয়েকটি কটেজ, বাঁশ–কাঠের শেড ও টিনশেড স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। পর্যটকদের জন্য তৈরি কিছু অস্থায়ী কটেজের বৈদ্যুতিক সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
অভিযান–সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের লিজ বা বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই পরিবেশ–সংবেদনশীল এ দ্বীপে কটেজ ব্যবসা চলছিল। এতে একদিকে বন বিভাগের প্যারাবন ও প্রাকৃতিক ঝাউবন ধ্বংস হচ্ছিল, অন্যদিকে জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছিল। আদালতের নির্দেশনা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের আপত্তির পরও এসব স্থাপনা সরানো না হওয়ায় অবশেষে এসিল্যান্ডের নেতৃত্বে যৌথভাবে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।
সোনাদিয়া দ্বীপকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখানে ম্যানগ্রোভ বন, উপকূলীয় বনভূমি, সামুদ্রিক কচ্ছপের ডিম পাড়ার স্থান, বিভিন্ন পরিযায়ী পাখি এবং বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির আশ্রয়স্থল রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ চিংড়ি ঘের, কাঁকড়া–চাষ ও কটেজ নির্মাণের কারণে হুমকির মুখে রয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো দীর্ঘ দিন ধরে দ্বীপ থেকে সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়ে আসছিল।
অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন- “দ্বীপের পরিবেশ ও সরকারী জমি রক্ষায় আমরা জিরো টলারেন্সে যাচ্ছি। কোনো অবৈধ কটেজ, ঘের বা স্থাপনা রাখা হবে না। সরকারি নির্দেশনা ও আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে এ অভিযান চলমান থাকবে,”।
এদিকে, উচ্ছেদ অভিযানের খবরে সোনাদিয়া দ্বীপের বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ কটেজ মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই আগেভাগে তাদের আসবাবপত্র ও ভাঙার মতো মালামাল সরিয়ে নিতে দেখা গেছে বলে জানান স্থানীয়রা।
তবে কটেজ মালিকদের একাংশ বলছেন, যথাযথ বিকল্প ব্যবস্থা ও পুনর্বাসনের বিষয়টি বিবেচনায় না এনেই একতরফা উচ্ছেদ করা হচ্ছে।
স্থানীয় পরিবেশ কর্মীরা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, কেবল একদিনের অভিযানে সমাধান হবে না; দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি ও নিয়মিত তদারকি ছাড়া সোনাদিয়ার প্রকৃতি রক্ষা সম্ভব নয়। তারা বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সোনাদিয়ায় সব ধরনের নতুন স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ ও পুরোনো অবৈধ কাঠামো উচ্ছেদ করে দ্বীপটিকে প্রকৃতি–নির্ভর টেকসই পর্যটন বা সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণার দাবি দীর্ঘদিনের।
অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, প্রথম ধাপের এ উচ্ছেদ শেষে তালিকাভুক্ত সব অবৈধ কটেজ, চিংড়ি ও কাঁকড়া ঘের এবং বন দখলকারী স্থাপনা পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে। একই সঙ্গে দূর থেকে জমি কিনে স্থানীয় দালালের মাধ্যমে কাঠামো তুলে যারা ব্যবসা করছেন, তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা।
এমএসএম / এমএসএম
১০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার
বাগেরহাট পৌর শহরে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক
কসবায় ইটবোঝাই ট্রাক খাদে পড়ে ২ শ্রমিক নিহত
টুঙ্গিপাড়ার কৃতী সন্তান জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ইমাম, উচ্ছ্বসিত গোপালগঞ্জবাসী
দুই মামলায় সাভার থানা ছাত্রদল নেতা মাহাবুব সামিরসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে মামলা
জয়পুরহাটে ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইনের শুভ উদ্বোধন
কুড়িগ্রামের দুধকুমার নদের পানি বিপদ সীমার ২৩ সেন্টিমিটার উপর, বাড়ছে আতংক
বাগমারায় ভুয়া চিকিৎসককে ৬ মাসের কারাদণ্ড, অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা
নদীতে ইটের সঙ্গে বাঁধা নবজাতকের মরদেহ,পূর্বধলায় চাঞ্চল্য
ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি কর্মসূচি বাস্তবায়নে পেকুয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্ণাঢ্য র্যালি
বড়লেখায় মতবিনিময় সভায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী; সরকারকে ভূতে পেয়েছে তাই উল্টো পথে হাঁটছে
মায়ের মুক্তি চেয়ে ৮ বছরের শিশুর নীরব আকুতি, কোটালীপাড়ায় ইউএনও কার্যালয়ের সামনে অবস্থান