ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬

পানিতে ভাসছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা


পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি photo পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১-৭-২০২৬ দুপুর ৪:১৫

টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ ও পটিয়াসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়ায় হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অনেক এলাকার সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও বসতবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। এতে স্বাভাবিক জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি কৃষিজমি, মাছের ঘের এবং গবাদিপশুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে।

সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুই উপজেলার অধিকাংশ এলাকা এখনো পানিবন্দি। সাতকানিয়ায় অতিরিক্ত পানির কারণে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজকর্মে দুর্ভোগ বাড়ছে। গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বানের পানিতে বাঁশখালীতে দুই শিশু ভেসে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকার অধিকাংশ মানুষ স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। এছাড়া অনেকে বিভিন্ন বহুতল ভবনেও আশ্রয় নিয়েছেন। তবে স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, অতিরিক্ত পানি ও দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সব এলাকায় খাবার ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উপকূলীয় অনেক দুর্গম ইউনিয়নে এখনো পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছেনি। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এবং মোবাইল নেটওয়ার্কে বিঘ্ন ঘটায় যোগাযোগ ও উদ্ধার কার্যক্রমেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলেও আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এদিকে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন পটিয়ার একঝাঁক তরুণ। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর মধ্যে পটিয়া ব্লাড ফাউন্ডেশন ও Unity For Growth (UFG) নিয়মিত ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এছাড়াও পটিয়ার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিয়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

পটিয়া ব্লাড ফাউন্ডেশনের সদস্য তারিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা আমাদের সাধ্যমতো বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছি। এমন পরিস্থিতিতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং মানবিক মানুষদের উচিত ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে দুর্গত মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।”

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার প্রতিটি উপজেলায় এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখা হয়েছে।

এমএসএম / এমএসএম

কুড়িগ্রামে জৈব সারের ব্যবহারে লাভবান হচ্ছে কৃষক

‎ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ডে যানজট নিরসনে রাস্তার উপর কাঁচাবাজার উচ্ছেদ : সাধারণ মানুষের প্রশংসা

বাঘার চকরাজাপুরে পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন: অপরাধীদের কোনো ছাড় নেই

কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করে এগিয়ে নিতে হবে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ

সন্দ্বীপে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী যমুনা কবির গ্রেফতার

বারহাট্টায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

ঠাকুরগাঁওয়ের ভেলাজানে ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন

কয়েকদিনের টানা ভারি বর্ষণে মান্দায় আশ্রয়ণ পল্লির ২শ পরিবার পানিবন্দি

বিএনপি সরকার বারবার ফিরে আসে, ক্ষমতার চর্চায় সতর্ক থাকতে হবে: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন

ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন, ফিরলেন নির্যাতনের শিকার

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা হচ্ছে, সহায়তা দেবে সরকারঃ কুমিল্লায় কৃষি ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

কাশিমপুরে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে মিথ্যা মামলার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

পানিতে ভাসছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা