শুধু দুর্ঘটনা, নাকি নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁক?
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রিত কার্গো ভিলেজে আবারও ধোঁয়া ও আগুনের ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত কুরিয়ার সেকশনের ধ্বংসস্তূপ অপসারণের কাজ চলাকালে শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে এ ঘটনা ঘটে। একই এলাকায় ধারাবাহিক অগ্নিকাণ্ড এবং সর্বশেষ ঘটনাটিও ছুটির দিনে ঘটায় তদন্তের সুপারিশ বাস্তবায়ন, নিরাপত্তা তদারকি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সর্বশেষ ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনাজনিত বলে ধারণা করছে। তবে সীমিত প্রবেশাধিকারসম্পন্ন (রেস্ট্রিকটেড) এ এলাকায় একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির বিষয়টিও সামনে এনেছে।
বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ জানান, শনিবার রাত ৯টার দিকে পোড়া গন্ধ ও ধোঁয়ার খবর পেয়ে বিমানবন্দরের নিজস্ব ফায়ার সার্ভিস এবং ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি বলেন, গত বছর পুড়ে যাওয়া কুরিয়ার সেকশনের ধ্বংসস্তূপ অপসারণে ২৬ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। লোহার র্যাক ও খাঁচা কাটতে অক্সি-অ্যাসিটিলিন শিখা ব্যবহার করায় ভেতরে তাপ জমে ছিল। শ্রমিকরা বিকেলে কাজ শেষ করে চলে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর সেই তাপ থেকেই ধোঁয়া ও আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তার ভাষ্য, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে পোড়া কাগজ, লোহালক্কড় ও অন্যান্য দাহ্য বর্জ্য থাকায় দীর্ঘ সময় তাপ সংরক্ষিত ছিল। পরে পুরো এলাকা পানি দিয়ে ভিজিয়ে দেওয়া হয় এবং ব্যবহৃত সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হয়।
তবে ছুটির দিনে একই এলাকায় বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নির্বাহী পরিচালক বলেন, "সন্দেহ পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে। তবে আপাতদৃষ্টিতে এটি দুর্ঘটনাজনিত বলেই মনে হচ্ছে।"
নিয়ন্ত্রিত এলাকায় কেন বারবার আগুন
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ একটি রেস্ট্রিকটেড জোন। নির্দিষ্ট নিরাপত্তা পাস ছাড়া সেখানে প্রবেশের সুযোগ নেই। এলাকাটিতে সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ফায়ার সেফটি ইউনিট, নিরাপত্তা সদস্য এবং সিসিটিভির মাধ্যমে নজরদারি ব্যবস্থা রয়েছে।
এরপরও একই এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের পুনরাবৃত্তিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে। সর্বশেষ ঘটনায় ঝুঁকিপূর্ণ ‘হট ওয়ার্ক’ শেষে যথাযথ ফায়ার ওয়াচ নিশ্চিত করা হয়েছিল কি না, তাপ পর্যবেক্ষণ কতক্ষণ চালু রাখা হয়েছিল এবং নিরাপত্তা প্রটোকল কতটা অনুসরণ করা হয়েছিল—এসব বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা মেলেনি।
আগের তদন্তে বেরিয়ে এসেছিল নিরাপত্তার ঘাটতি
২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর তৎকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনাটিকে নাশকতা নয়, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটজনিত বলে উল্লেখ করে।
৯৭ জনের সাক্ষ্য, সিআইডির ফরেনসিক তদন্ত, বুয়েট এবং তুরস্কের অগ্নি-নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে প্রণীত ওই প্রতিবেদনে কার্গো শেডের নিরাপত্তাব্যবস্থায় গুরুতর ঘাটতির চিত্র উঠে আসে। সেখানে ফায়ার অ্যালার্ম, স্মোক ডিটেক্টর, স্প্রিঙ্কলার ও হাইড্রেন্টের মতো মৌলিক অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির পাশাপাশি দাহ্য পণ্য সংরক্ষণে নিরাপত্তা বিধি অনুসরণ না করার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত কমিটি আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, বিপজ্জনক পণ্যের গুদাম স্থানান্তর, বিশেষায়িত এয়ারক্রাফট ফায়ার স্টেশন স্থাপন এবং কার্গো পরিচালনায় কাঠামোগত সংস্কারসহ বেশ কিছু সুপারিশ করেছিল।
দ্বিতীয় ঘটনায়ও উঠে আসে ‘গাফিলতির’ প্রসঙ্গ
এরপর ৫ জুন শুক্রবার রাত ১১টার দিকে বিমানবন্দরের কার্গো শেডে আবার আগুন লাগে। ওই ঘটনার পর পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
কার্গো শেড পরিদর্শনের পর তৎকালীন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সম্ভাবনার কথা জানালেও একই সঙ্গে আগের অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে গাফিলতির বিষয়টি সামনে আনেন।
তিনি সে সময় বলেন, "এর আগেও যে অগ্নিকাণ্ড হয়েছিল, সেখানেও তদন্ত রিপোর্টে শর্ট সার্কিট ছিল। তাহলে নিশ্চয়ই গাফিলতি রয়েছে। আমাদের তা স্বীকার করতে হবে।"
দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
বেবিচক ফায়ার সার্ভিস সূত্র বলছে, ৫ জুনের ওই ঘটনার তদন্ত কমিটিতে বুয়েটের বিশেষজ্ঞরাও ছিলেন। তবে ছুটির দিনের রাতে সংঘটিত ওই অগ্নিকাণ্ড শর্ট সার্কিট থেকেই হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি বলে সূত্রটির ভাষ্য।
এর মধ্যেই সর্বশেষ ঘটনায় আবারও একই কার্গো এলাকায় ধোঁয়া ও আগুনের ঘটনা ঘটল। এবার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ব্যাখ্যায় ধ্বংসস্তূপ অপসারণে ব্যবহৃত অক্সি-অ্যাসিটিলিন শিখা থেকে জমে থাকা তাপকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে সামনে আনা হয়েছে।
ফলে ভিন্ন সময়ে ভিন্ন তাৎক্ষণিক কারণ সামনে এলেও অগ্নিকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আগের তদন্তগুলোর সুপারিশ কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে এবং দায় নির্ধারণের পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—সেই হিসাবটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সিএন্ডএফ নেতাদের অভিযোগ ও উদ্বেগ
সিএন্ডএফ এজেন্ট নেতারা অভিযোগ করেন, কার্গো ভিলেজের জমির নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ হলেও সেখানে কার্গো ওয়্যারহাউস পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। তাদের দাবি, একটি আদর্শ বন্ডেড ওয়্যারহাউস পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আইন, বিধিবিধান, লাইসেন্সিং শর্ত ও পরিচালনাগত মানদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন সেখানে দেখা যায় না।
তাদের ভাষ্য, বেসরকারি খাতের একটি প্রতিষ্ঠানকে বন্ডেড ওয়্যারহাউস পরিচালনার ক্ষেত্রে যেসব কঠোর নিয়মকানুন অনুসরণ করতে হয়, বিমানের ব্যবস্থাপনাধীন কার্গো ওয়্যারহাউসে সেসব মানদণ্ড সমভাবে কার্যকর হচ্ছে না।
তাদের মতে, কার্গো শেডে অপরিকল্পিতভাবে পণ্য সংরক্ষণের কারণে অগ্নি-নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে। কোনো দুর্ঘটনা বা অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার সার্ভিসের যানবাহনের দ্রুত প্রবেশ এবং কার্যকর অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমও এতে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করে কার্গো এলাকাকে এমনভাবে পরিকল্পনা ও পুনর্বিন্যাস করা উচিত, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে নির্বিঘ্নে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম পরিচালনা করা যায় বলে মনে করেন তারা।
সিএন্ডএফ নেতারা আরও বলেন, প্রথম অগ্নিকাণ্ডের প্রায় ১০ মাস পার হলেও ক্ষতিগ্রস্ত কার্গো শেডের সংস্কারকাজ সম্পন্ন হয়নি। প্রয়োজনীয় অর্থায়নের আশ্বাস থাকার পরও প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং দীর্ঘসূত্রতার কারণে কাজ এগোয়নি বলে তাদের অভিযোগ। তাদের ভাষায়, উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রমের অন্যতম বড় অন্তরায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা।
তারা জানান, প্রথম অগ্নিকাণ্ডের পর তদন্ত কমিটি গঠনের সময় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। তাদের মতে, ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হলে তদন্ত আরও বাস্তবভিত্তিক ও তথ্যসমৃদ্ধ হতে পারত।
আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে অগ্নিকাণ্ডের প্রভাব তুলে ধরে নেতারা বলেন, একজন আমদানিকারকের আস্থা অর্জনে একটি সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ সময় ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয়। কিন্তু অগ্নিকাণ্ডে কোটি কোটি টাকার পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু আমদানিকারকই নন, সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানের সুনাম, আর্থিক সক্ষমতা ও ব্যবসায়িক অস্তিত্বও ঝুঁকির মুখে পড়ে। ধারাবাহিক ক্ষতির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম সীমিত এবং কর্মীসংখ্যা কমাতে বাধ্য হয়েছে বলেও তাদের দাবি।
সিএন্ডএফ নেতারা ধারাবাহিক অগ্নিকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত দাবি করেন। একই সঙ্গে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
রাজস্বেও ধাক্কা, অটোমেশনে সম্ভাবনা দেখছে কাস্টমস
কাস্টমস সূত্র জানায়, কার্গো ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্ব আলাদা। অবকাঠামোগত বিষয় বিমান দেখছে, নিরাপত্তার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর; আর কাস্টমসের মূল কাজ শুল্কায়ন, সঠিকভাবে কর-শুল্ক নির্ধারণ এবং নিষিদ্ধ কোনো পণ্য প্রবেশ করছে কি না, তা তদারকি করা।
সূত্রটির মতে, অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব খাতেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কার্গো ব্যবস্থাপনায় পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন বাড়ানো গেলে নিরাপত্তা ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
ফায়ার সেফটিতে পরিবর্তন, তবু সক্ষমতার প্রশ্ন
বেবিচক ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, আগের অগ্নিকাণ্ডগুলোর পর গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন চেয়ারম্যানের দপ্তর পর্যন্ত পৌঁছালেও সেসব প্রতিবেদনের সুপারিশ কী ছিল এবং তার কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে, সে বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস বিভাগকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়নি।
তবে ধারাবাহিক অগ্নিকাণ্ডের পর কার্গো এলাকায় অগ্নি-নিরাপত্তা জোরদারে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।
হাইড্রেন্ট সিস্টেম আধুনিকায়নের কাজ টেন্ডার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এক্সপোর্ট কার্গো এলাকায় হাইড্রেন্ট পয়েন্ট বাড়ানো হয়েছে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পানি সরবরাহ করে আগুন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া যায়। পাশাপাশি ইমপোর্ট শেডের বি সেকশনে ফায়ার ডিটেকশন সিস্টেম, ফায়ার অ্যালার্মসহ বিভিন্ন অগ্নি-নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছে, যেগুলো আগে ছিল না বলে সূত্রটির দাবি।
বেবিচক ফায়ার সার্ভিস সূত্র আরও জানায়, তাদের সদস্যদের প্রশিক্ষণের মূল ক্ষেত্র এয়ারক্রাফটে অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলা। তবে পর্যাপ্ত সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতার কারণে বড় ধরনের স্থাপনা বা 'স্ট্রাকচারাল ফায়ার' মোকাবিলায় সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা বৃদ্ধির সুযোগ সীমিত ছিল।
এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MoU) হওয়ার পর নতুন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। এর আওতায় বিমানবন্দর এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট, সদস্যদের অবস্থানের অবকাঠামো এবং হাইড্রেন্ট সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বিতভাবে কাজ করা যায়।
তবে বেবিচক ফায়ার সার্ভিস সূত্রের মতে, কার্গো এলাকার অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রকৌশল (ইএম) শাখার কার্যক্রমও মূল্যায়নের দাবি রাখে। পুনরাবৃত্ত ঘটনার পেছনে সক্ষমতার কোনো ঘাটতি রয়েছে, নাকি দায়িত্ব পালনের কোথাও দুর্বলতা থেকে যাচ্ছে—সেটিও যথাযথ তদন্ত ও মূল্যায়নের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
একই রেস্ট্রিকটেড এলাকায় ধারাবাহিক অগ্নিকাণ্ডের পর তদন্ত হয়েছে, নিরাপত্তার ঘাটতিও চিহ্নিত হয়েছে; আবার ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলছে কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট সূত্র। এরপরও অগ্নিকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি কেন ঠেকানো যাচ্ছে না, আগের তদন্তের সুপারিশ কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে এবং দায় নির্ধারণের পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়।
ফলে শাহজালালের কার্গো ভিলেজে সর্বশেষ আগুনটি নিছক আরেকটি দুর্ঘটনা, নাকি নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো ফাঁক এখনও রয়ে গেছে—সেই প্রশ্নের উত্তরই এখন খুঁজছেন সংশ্লিষ্টরা।
এমএসএম / এমএসএম
মানুষের অধিকার ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার বাংলাদেশ জনতা পার্টির (বিজেপি)
উত্তরায় ১৮ লাখ টাকার মদ-বিয়ারসহ গ্রেপ্তার ২
পরিকল্পিত অপপ্রচার চালিয়ে আমাকে হেয় করার চেষ্টা চলছে: এডিসি শামীম
বায়তুল মোকাররমে শুরু মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলা
রাজউকের মোবাইল কোর্টে ৪ ভবনে অভিযান, জব্দ ৪ বৈদ্যুতিক মিটার
ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেললেন ছাত্রনেতা আবু তৈয়ব
উত্তরা ১১ নং সেক্টর সোসাইটির উদ্যোগে মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু
লিডস করপোরেশন ও বশির সিন্ডিকেটের হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ !
রাখি বাদ, আ: লীগের আইন সহায়ক কমিটিতে জামায়াত পরিবারের হিরণ!
উত্তরায় মাদকবিরোধী অভিযান: ১৩ হাজার ইয়াবাসহ আটক ২
ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো অভিভাবক সমাবেশ ও স্বপ্নসভা
ড্যাবের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মতিউর রহমান মোল্লার ইন্তেকাল