ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

লিডস করপোরেশন ও বশির সিন্ডিকেটের হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ !


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩-৯-২০২৬ রাত ৯:৩৩

আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৫ বছরে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নের আওতায় ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান লিডস করপোরেশন লিমিটেড বিভিন্ন সরকারি ও আর্থিক খাতের প্রকল্প থেকে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকার ব্যবসা পেয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সংস্থায় প্রযুক্তি অবকাঠামো ও সফটওয়্যার সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিষ্ঠানটির শক্ত অবস্থান ছিল। বর্তমানে লিডসের দাবি, বাংলাদেশের ১৩টি রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকে তাদের কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার BankUltimus ব্যবহৃত হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি Finginx নামে নতুন একটি ইউনিভার্সাল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম তৈরির কথাও জানিয়েছে।

তবে বিপুল অঙ্কের সরকারি ও ব্যাংকিং ব্যবসা পাওয়া এই প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা, রাজনৈতিক যোগাযোগ, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং বর্তমানে তাদের প্রযুক্তি ব্যবহারকারী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের তথ্যনিরাপত্তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির মালিকানার সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মাহবুব উল আলম হানিফের সংশ্লিষ্টতা ছিল। 

অন্যদিকে বর্তমানে লিডসের মালিকানায় আসা ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বশির আহমেদকেও আওয়ামীলীগ নেতা এইচ বিএম ইকবাল ও মাহবুব উল আলম হানিফের ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হিসেবে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

অভিযোগ রয়েছে ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বশির আহমেদ প্রিমিয়ার ব্যাংকে সফটওয়্যার সাপ্লাই দিয়ে এইচ বিএম ইকবালকে মোটা অংকের কমিশন দেন পরবর্তীতে ওই প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে ঋন নেন হাজার কোটি টাকা। 

উল্লেখ্য যে বসির আহমেদ  যেসব ব্যাংকে সেবা প্রদান করছেন সেসব ব্যাংক থেকেই নামে বেনামে হাজার হাজার কোটি কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন । যেহেতু ব্যাংকগুলো তার প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা নিচ্ছে সেহতু তারা অনেকটা নিরূপায় হয়ে গেছে। বশির আহমেদ হয়ে ওেঠেছেন তাদের গলার কাটা। না পারছেন গিলতে না পারছেন হজম করতে এবং কমিশনের টাকা চলে যাচ্ছে বিদেশে পলাতক আওয়ামীলীগ নেতাদের কাছে।

 বশির আহমেদের এসব ঋণ এবং দুর্নীতির বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও সরকারি সংস্থায় প্রযুক্তি অবকাঠামো ও সফটওয়্যার সেবা দেওয়ার নামে বিভিন্ন প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ অর্থের অপব্যবহার হয়েছে। সমালোচকদের কেউ কেউ একে কোটি কোটি টাকা ‘লোপাটের’ অভিযোগ হিসেবেও তুলে ধরছেন। 

এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রকল্পের দরপত্র, কার্যাদেশ, সরবরাহকৃত পণ্যের মূল্য, ব্যাংক লেনদেন, অডিট রিপোর্ট ও আর্থিক নথির পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক পর্যালোচনা দরকার। এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ লিডসের ব্যবসার বড় অংশই এসেছে জনগণের অর্থে পরিচালিত সরকারি প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে।

খাতসংশ্লিষ্ট তথ্য ও আর্থিক নথির বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, গত দেড় দশকে লিডস করপোরেশনের সম্পাদিত কাজের মোট মূল্য আনুমানিক ১,২০০ কোটি থেকে ১,৮০০ কোটি টাকা। লিডস নিজেদের তৈরি কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার BankUltimus এবং ব্রোকারেজ ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার BlueChip-এর লাইসেন্স, বাস্তবায়ন ও কারিগরি সহায়তা থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় করেছে। 

এত বড় ব্যবসা ও নিয়মিত নগদ প্রবাহ থাকার পরও একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটি কেন ভয়াবহ আর্থিক সংকটে পড়েছিল, সেটি এখনো বড় প্রশ্ন। ২০২৪ সালে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সাবেক কর্মীদের উদ্ধৃত করে বলা হয়, ২০১৮ সাল থেকে লিডসে বেতন পরিশোধ অনিয়মিত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে কর্মীদের মোট বকেয়া বেতন প্রায় ৪০ কোটি টাকায় পৌঁছায় বলে দাবি করা হয়। সাবেক কর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় নিয়মিত বেতন দেওয়া প্রতিষ্ঠানটিতে পরে তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত বেতন আটকে থাকত। সাবেক কর্মী আরিফুর আমরান চৌধুরী তখন দাবি করেছিলেন, ব্যক্তিগতভাবে তাঁরই ১৭ লাখ টাকার বেশি পাওনা ছিল।

আর্থিক সংকটের পাশাপাশি পুরোনো একটি মালিকানাসংক্রান্ত মামলাও লিডসকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলে। ২০২৪ সালে ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতের একটি আদেশে লিডসের ব্যাংক হিসাব জব্দ, লিডস টাওয়ার নিলামে বিক্রির উদ্যোগ এবং প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ BankUltimus সফটওয়্যার নিলামের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। আদালতের নথিতে এক পর্যায়ে ৭২,৭৫৫,৫৩৮.৭৮ মার্কিন ডলার পাওনার উল্লেখ পাওয়া যায়। 

পরবর্তী হিসাব ও সুদের কারণে অঙ্কে পরিবর্তন আসে এবং ২০২৪ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৮৩.৬৬ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়। BankUltimus-এর জন্য ৫ কোটি টাকার একটি প্রস্তাবের কথাও আদালতের নথিতে উঠে আসে।

এই ঘটনাই এখন রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের প্রযুক্তি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। কারণ একটি কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার কোনো সাধারণ ব্যবসায়িক অ্যাপ্লিকেশন নয়। এর সঙ্গে ব্যাংকের গ্রাহকের হিসাব, আমানত, ঋণ, লেনদেন, শাখা কার্যক্রম এবং অন্যান্য অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য ও কার্যক্রম জড়িত। 

ফলে লিডসের আর্থিক ও ব্যবস্থাপনাগত সংকটের সময় প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্যসংখ্যক দক্ষ প্রযুক্তিকর্মী চলে গিয়ে থাকলে BankUltimus-এর রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা আপডেট, দুর্যোগ পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘমেয়াদি কারিগরি সক্ষমতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে।

কিছু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দাবি করছেন, বর্তমানে লিডসের অধীনে প্রযুক্তিসেবা নেওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার এবং সংবেদনশীল তথ্য পর্যাপ্তভাবে নিরাপদ কি না, তা স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে কেউ কেউ বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন। 

সেজন্য প্রয়োজন স্বাধীন সাইবার সিকুরিটি অডিট, সোর্স কোড রিভিউ, প্রিভিলেজড এক্সেস অডিট, প্যানিট্রেশন টেস্টিং, ডিজাস্টার রিকভারি এসেসমেন্ট এবং ডাটা গভর্নেস রিভিউ। কিন্তু যে প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তির ওপর একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংক নির্ভরশীল, তাদের ক্ষেত্রে এসব পরীক্ষা হয়েছে কি না—সেই প্রশ্নের উত্তর জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ।
পরবর্তী সময়ে লিডসের মালিকানায় পরিবর্তন আসে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ওয়েস্টার্ন গ্রুপ লিডস করপোরেশনের শতভাগ শেয়ার অধিগ্রহণ করে বলে জানানো হয়। তবে তখনও BankUltimus-এর মালিকানা ঘিরে আইনি বিরোধ চলছিল। লিডসের দাবি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৭ জুলাই আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ Civil Appeal No. 46 of 2025 মামলায় রায় দিয়ে নিম্ন আদালতের সম্পদ জব্দ ও নিলামসংক্রান্ত আদেশ বাতিল করেন। কোম্পানিটি বলছে, এর মাধ্যমে BankUltimus-এর মালিকানা ও মেধাস্বত্ব নিয়ে আইনি অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে।

লিডসকে ঘিরে অনুসন্ধানের মূল বিষয় তাই কেবল একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের উত্থান-পতন নয়। প্রশ্নটি আরও বড়—গত দেড় দশকে সরকারি ও আর্থিক খাত থেকে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকার ব্যবসা পাওয়া একটি কোম্পানির প্রকল্পগুলো কতটা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দেওয়া হয়েছিল, রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি কী, এত বড় নগদ প্রবাহ থাকার পর প্রতিষ্ঠানটি কেন কর্মীদের বেতন দিতে পারেনি এবং বর্তমানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকিং প্রযুক্তি অবকাঠামোর নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত। এসব প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ উত্তর পেতে প্রয়োজন সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত নথি, কোম্পানির মালিকানা রেকর্ড, ব্যাংক হিসাব, নিরীক্ষা প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট আদালতের পূর্ণাঙ্গ নথি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর স্বাধীন সাইবার নিরাপত্তা মূল্যায়ন।

এমএসএম / এমএসএম

লিডস করপোরেশন ও বশির সিন্ডিকেটের হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ !

রাখি বাদ, আ: লীগের আইন সহায়ক কমিটিতে জামায়াত পরিবারের হিরণ!

উত্তরায় মাদকবিরোধী অভিযান: ১৩ হাজার ইয়াবাসহ আটক ২

ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো অভিভাবক সমাবেশ ও স্বপ্নসভা

ড্যাবের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মতিউর রহমান মোল্লার ইন্তেকাল

মোংলায় ভূমি দখল ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডিএনসিসির ১,৫০০ সদস্য মাঠে

প্রাণিসম্পদকে পূর্ণাঙ্গ সেক্টর করার দাবি ভ্যাব-এর মহাসচিব ডা. কবির উদ্দিন আহমেদের

বাংলাদেশ বিক্রয় পেশাজীবী এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় (আংশিক) কমিটি ঘোষণা

বাংলা ভাষায় সুফি তাফসিরের একাডেমিক পরিসর বিস্তারের আহ্বান

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

গাজীপুর শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজে আনসার সদস্যদের সতর্কতায় দুই চোর আটক

ভেটেরিনারি ডক্টরস' এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ভ্যাব)-এর শোকবার্তা