ঢাকা সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬

মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টকে ঘুষের রাজ্যে পরিণত করেছে অডিট গাজী


শেখ বেলাল  photo শেখ বেলাল
প্রকাশিত: ৯-৮-২০২৬ দুপুর ৪:২৪

এরিয়া ভাতার ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ, গুলিস্তান দোকানের নামজারি ও চিকিৎসা বিল ঘিরে ঘুষের তথ্য উঠে এসেছে অডিট কর্মকর্তা গাজী সহ তার সহযোগীর বিরুদ্ধে।

 গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সের দোকান ও হোল্ডিং পারমিশন, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের এরিয়া ভাতা, চিকিৎসা বিল এবং পার্কিং ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ট্রাস্টের কাছে একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায় ট্রাস্টের অডিট কর্মকর্তা গাজী-এর বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। ও তার সহযোগী রানার বিরুদ্ধেও অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া যায়।

অনুসন্ধানে উঠে আসে , আদালতের রিটের আদেশের মাধ্যমে ৪৪১ জনের অনুকূলে প্রায় ৬৩ কোটি টাকা এরিয়া ভাতা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে কয়েক কোটি টাকা ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে গাজীর বিরুদ্ধে। ৪৪১ জনের মধ্যে প্রায় ৯০ জনের ক্ষেত্রে রিটে জয়লাভের আদেশ না থাকা সত্ত্বেও এরিয়া বিল প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া ভাতা প্রদানের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা গাজী সংশ্লিষ্ট ফাইল নিজের উদ্যোগে উত্তোলন করে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অনুমোদনে টাকা লেনদেন হয় য়া প্রতিষ্ঠানের আইনের পরিপন্থী।
এতে প্রশ্ন উঠেছে—এরিয়া ভাতা অনুমোদনের পর ভাতাভোগী মুক্তিযোদ্ধাদের ফোন করে তাঁদের পাওনা অর্থের একটি অংশ ঘুষ হিসেবে দাবি করা হয়েছে—এমন গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। কোনো মুক্তিযোদ্ধার ১৪ লাখ, কারও ২৫ লাখ বা তারও বেশি কম টাকা পাওনা রয়েছে জানিয়ে মোট পাওনা টাকার প্রায় ২০ শতাংশ অর্থ দাবি করা হতো। টাকা না দিলে বিল কমে যাওয়ার অথবা ফাইল যাচাইয়ের নামে বিলম্ব হওয়ার ভয় দেখানো হলে অনেক মুক্তিযোদ্ধা ঘুষের মাধ্যমে এরিয়া বিল পেয়েছে তার তথ্য উঠে আসে।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, কোনো কোনো মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে চেকের মাধ্যমে এবং কারও কাছ থেকে নগদ অর্থ নেওয়া হয়েছে। ব্যক্তি ভেদে প্রায় দুই থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
তবে এ ধরনের অর্থ লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ হিসাব, ব্যাংক নথি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এরিয়া ভাতার ফাইল নিয়ে ট্রাস্টের পরিচালক প্রশাসন ও কল্যাণ এতো টাকা এ ভাবে এরিয়া বিল দিতে অস্বীকৃতি জানালে নিয়মের তোয়াক্কা না করে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং ব্যাবস্থাপনা পরিচালকের স্বাক্ষরে ফাইল অনুমোদন করে এরিয়া ভাতার টাকা প্রদান করা হয়। যাতে সন্দেহ তৈরি হয়। এভাবে টাকা প্রদানে অনিয়ম  করছে গাজী এবং এমডি তাহলে স্বার্থ কোথায়?

এই বক্তব্যের কারণে পুরো প্রক্রিয়ায় কে ফাইলটি নিয়ন্ত্রণ করেছেন এবং কোন পর্যায়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
ব্যাংক হিসাব পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন
অনুসন্ধানে উঠে আসে , ভাতাভোগীদের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবের পরিবর্তে অন্য ব্যাংকের মাধ্যমে এরিয়া ভাতার অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে। নিয়ম অনুসারে অগ্রণী ব্যাংক থেকে অগ্রণীতে টাকা প্রদানের নিয়ম থাকলেও এই বিপুল অর্থ এবি ব্যাংকে স্থানান্তরের পর সেখান থেকে আবার নির্দিষ্ট ভাতাভোগীদের হিসাবে প্রদান করা হয়। এই প্রক্রিয়া বিধিসম্মত ছিল কি না, কেন ব্যাংক পরিবর্তন করা হয়েছিল এবং এতে কোনো আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের দাবি রাখে।
চিকিৎসা বিল নিয়েও অডিট কর্মকর্তা গাজীর বিরুদ্ধে অভিযোগ
পুর্বে অডিট কর্মকর্তা গাজীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা বিল সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে।
প্রাপ্ত অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মুস্তাফিজুর নামে এক মুক্তিযোদ্ধার নামে ৬ লাখ টাকা এবং অন্য একজনের নামে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার চিকিৎসা বিল জমা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট মুক্তিযোদ্ধারা এসব বিলের বিষয়ে অস্বীকৃতি জানালে বিষয়টি নিয়ে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, অডিট ও চিকিৎসা ভাতা-সংক্রান্ত দায়িত্বে থাকার কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এ ধরনের কাজে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পেয়েছিলেন।
বিষয়টি তদন্তে উঠে এলেও তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি—এমনকি তদন্তে গাজী এবং ডাক্তার অভিযুক্ত হলে তৎকালীন এমডি তদন্তের ফাইলটি ধামাচাপা দেন। অভিযোগে ডাঃ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলেও এমডির ছত্রছায়ায় গাজী থাকে বহাল তবিয়তে!
গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সে দোকান নিয়ে অভিযোগ
গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সের দোকানের হোল্ডিং পারমিশন ও নামজারি নিয়েও অভিযোগের শেষ নেই।
এক লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ৪/২৯ ও ৯/৬ নম্বর হোল্ডিংয়ের পারমিশন দেওয়ার ক্ষেত্রে সফু জামালের কাছ থেকে ‘অফিস খরচ’ হিসেবে দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি ঘুষ হিসেবে জানতে পেরে ওই অর্থ ফেরত চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন তিনি।
আরেক অভিযোগে ৩/১৯ নম্বর দোকানের মালিক অপূর্ব বিশ্বাসের কাছ থেকে ঘুষ দাবি করার অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া কমপ্লেক্সের বিভিন্ন দোকানের নামজারি ও চুক্তিপত্র সম্পাদনের ক্ষেত্রে দোকানপ্রতি এক থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে যা প্রতিষ্ঠানের তদন্তে বেরিয়ে আসবে। ভুক্তভোগী ব্যাবসায়ীদের আর্জি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ও ঘুষ খোর গাজীর বিরুদ্ধে তদন্ত করুক, বেরিয়ে আসবে এ যাবৎকাল কতটাকা গাজী ঘুষ খেয়েছে।
কম্পিউটার অপারেটরের বিরুদ্ধেও অভিযোগ
অভিযোগে গাজীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কম্পিউটার অপারেটর রানা-র বিরুদ্ধেও দোকান মালিকদের কাছ থেকে চুক্তিপত্র তৈরি ও ফাইল সংক্রান্ত কাজে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন জটিলতা থাকা ফাইল নিষ্পত্তির নামে এ অর্থ নেওয়া হতো।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট ফাইল, অর্থ লেনদেনের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট দোকান মালিকদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।
পার্কিং ব্যবস্থাপনাতেও বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ
গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সের পার্কিং ব্যবস্থাপনা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। 
টেন্ডারের করে গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সের পার্কিং ভাড়ার ব্যবস্থা নিলে মাসে সর্বোচ্চ ১০লাখ টাকা ভাড়া দরপত্র পরে, কিন্তু সর্বোচ্চ দরদাতাকে না দিয়ে বিভিন্ন নিয়মের ফেলে টেন্ডারটি ধামাচাপা দেওয়া হয়! এতে বছরে কোটি টাকার উপরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ট্রাস্ট। তাহলে কার সুবিধা দিতে এ কর্ম করলো ট্রাস্ট। পরবর্তীতে ট্রাস্ট নিজে ভাড়া উঠানো শুরু করলে মাসে ৪০-৫০ হাজার টাকা করে জমা হয় ট্রাস্টে! তাহলে আর টাকা কোথায় যাচ্ছে? অনুসন্ধানে এই পার্কিং ভাড়ার বিরাট অংশ যাচ্ছে প্রতিষ্ঠান প্রধানের পকেটে!
অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে পার্কিং ব্যবস্থাপনায় বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করা হয়েছে বলেও নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে একের পর এক অনিয়ম ও ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, শুধু অভ্যন্তরীণ তদন্ত নয়, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে এরিয়া ভাতার পুরো প্রক্রিয়া, ব্যাংক লেনদেন, চিকিৎসা বিল, দোকান বরাদ্দ এবং গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সের আর্থিক কার্যক্রম খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বিশেষ করে ৫০কোটি টাকার এরিয়া ভাতার ক্ষেত্রে প্রকৃত ভাতাভোগীর সংখ্যা, আদালতের আদেশ, অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ, ব্যাংক লেনদেন এবং প্রত্যেক ভাতাভোগীর হিসাবে জমা হওয়া অর্থের হিসাব প্রকাশ করা হলে অভিযোগের সত্যতা সহজেই যাচাই করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমএসএম / এমএসএম

বিআরটিএ-র অসহযোগিতার অভিযোগ: রাজস্ব দিতে প্রস্তুত ১ লাখ ৯২ হাজার ব্যাটারি চালিত রিকশা ও ইজিবাইক মালিকরা

আধিপত্যবাদ বিরোধী নাগরিক সমাজ'-এর আত্মপ্রকাশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

পূর্ব ছিলোনীয়ায় রাধাগোবিন্দ সেবাশ্রমে ধর্মীয় সভা

বিএনপি নেতা রতন’কে মিথ‍্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে পাগলা সোহেলের স্ত্রীর বিরুদ্ধে

মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টকে ঘুষের রাজ্যে পরিণত করেছে অডিট গাজী

কাফরুলে জালিয়াতির মামলায় আতিক উল্লাহ গ্রেফতার

বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেলেন বিজনেস আইকন মফিজুর রহমান

ড্যাবের সমাবেশে অংশগ্রহণকারী সম্মানিত অতিথি ও চিকিৎসকদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা

গাজীপুরে ২৭৭ লিটার বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার ২

ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হলেই সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল সমস্যার সমাধান হবে’: সৈয়দ হুমায়ূন কবীর

ধর্মীয় উগ্রবাদ মোকাবেলায় নারী সচেতনতার বিকল্প নেই: ঢাকায় হেযবুত তওহীদের নারী সম্মেলন

রোমে উড়োজাহাজের কারিগরি ত্রুটি, BG306 ফ্লাইটে বিলম্ব

রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় ৪৮৫ গ্রেপ্তার, মামলা ৫০