রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে লুট হয়ে গেল ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মিনি স্টেডিয়াম, দাঁড়িয়ে রয়েছে শুধু অবকাঠামো
বাকেরগঞ্জে উপজেলা প্রশাসনের অবহেলা ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মিনি স্টেডিয়ামটি এখন অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। স্টেডিয়ামের বিভিন্ন স্থাপনা ও মূল্যবান সামগ্রী লুট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী ও সচেতন নাগরিকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২০২৩ সালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের হেলিপ্যাড সংলগ্ন এলাকায় ৬ কোটি ১০ লাখ ৬২ হাজার টাকা ব্যায় নির্মাণ করা হয় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম। তৃতীয় তলা বিল্ডিং এবং উন্মুক্ত মাঠ। স্টেডিয়ামটি ৪ একর জমি উপর তৃতীয় তলা ভবনের দুই পাশে দুটি ৩০০ ফিটের গ্যালারি। তৃতীয় তলা বিল্ডিংয়ে দ্বিতীয় তলায় দুটি ড্রেসিং রুম, অফিস রুম, তৃতীয় তলায় ভিআইপি গ্যালারি। নারী ও পুরুষদের জন্য আলাদাভাবে ৬ টি করে মোট ১২ টি টয়লেট। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন এই স্টেডিয়াম রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকে উপজেলা প্রশাসন। উদ্বোধনের পর থেকেই তিন বছর যাবত স্টেডিয়ামটি অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকলেও কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। নিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকায় গত ১৫ জানুয়ারিতে স্টেডিয়ামের তৃতীয়তলা ভবনের বিভিন্ন অংশ থেকে লোহার সামগ্রী প্রথমে চুরি হয়। এরপর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাকেরগঞ্জ থানায় একটি জিডি করা হলেও পরবর্তীতে আর কোন অগ্রগতি দেখা যায়নি। যাহার জিডি নং – ৮৬২।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি স্টেডিয়ামে নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন সময়ের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। গত এক বছর আগে স্টেডিয়ামে ২৫ হাজার টাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিল হলে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এরপরই বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি শুরু হয়। সম্প্রীতি সময়ে তৃতীয় তলা ভবনের বৈদ্যুতিক পাখা, ইলেকট্রনিক তার, ইলেকট্রিক সুইচ, তৃতীয় তলার ভিআইপি গ্যালারির বেঞ্চ, ড্রেসিং রুম ও অফিস রুমের মূল্যবান মালামালসহ , নারী ও পুরুষদের টয়লেটের সব ধরনের মালামাল লুট করে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। দিনের পর দিন সরকারি সম্পত্তি কখনো রাতের আধারে চুরি কখনো দিনের আলোতে লুটপাট হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যে কারণে সরকারি কোটি টাকার মালামাল প্রকাশ্যে লুট হলেও আইনের আওতা আসেনি কেউ।
১০ আগস্ট সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, কিছুদিন আগেও যেখানে খেলাধুলার প্রাণচাঞ্চল্য ছিল, বর্তমানে সেখানে বিরাজ করছে নীরবতা ও অরক্ষিত পরিবেশ। স্টেডিয়ামের অবকাঠামোর বিভিন্ন অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মূল্যবান মালামাল সব লুট হয়ে গেছে কিছু কিছু অবশিষ্ট ভাঙ্গাচুরা অংশ পড়ে রয়েছে। বাথরুম ড্রেসিংরুমের সিলিং সহ ইলেকট্রিক ও সেনেটারী সব ধরনের মালামাল লুট করে নেয়া হয়েছে। আর যেগুলো নেওয়া স্বভাব হয়নি সেগুলো ভেঙে রেখেছে। বর্তমানে শুধু দাঁড়িয়ে রয়েছে তিন তলা ভবনের ধ্বংসাবশেষ অবকাঠামো।
স্থানীয় রাকিব হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, স্টেডিয়াম আমার বাড়ির সামনে। উদ্বোধনের পর থেকে উপজেলা প্রশাসন তিন তলা মূল ভবনের চাবি আমার কাছেই দিয়ে যায়। এরপর গত দুই বছর আমি দেখাশুনা করি। গত ১৫ই জানুয়ারি প্রথমে তিন তলা ভবন থেকে কিছু ইলেকট্রনিক মালামাল চুরি হলে আমি উপজেলা প্রশাসনকে জানাই। তারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে চোর গ্রেফতারে কার্যকারী কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গত দুই মাস আগে একটি ফুটবল খেলার টুর্নামেন্ট চালু হলে উপজেলা প্রশাসন আমার কাছ থেকে চাবি নিয়ে যায়। এরপর চাবি কার কাছে থাকে আমি কিছুই জানিনা। সম্প্রীতি সময়ে স্টেডিয়ামের সব মালামাল চুরিও লুট হয়ে গেলেও প্রশাসনের যেনো নজরেই নেই। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই স্থাপনা যথাযথভাবে ব্যবহার ও সংরক্ষণ করেনি উপজেলা প্রশাসন। যে কারণে নির্মাণের তিন বছরের মধ্যেই চুরি হওয়ার পাশাপাশি সব মালামাল লুট হয়ে গেছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনার নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি না থাকায় সরকারি সম্পদ নষ্ট ও লুটের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দ্রুত স্টেডিয়ামটি সংস্কার, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
স্থানীয়দের দাবি, মিনি স্টেডিয়ামটি দ্রুত সংস্কার করে খেলাধুলার উপযোগী করা এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক। একই সঙ্গে স্টেডিয়াম থেকে কী পরিমাণ সরকারি সম্পদ লুট বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলটন চন্দ্র পাল জানান, এর আগেও একবার চুরির ঘটনা ঘটে তখন থানায় জিডি করা হয়েছিল। এখন যে আবার লুট হয়েছে সে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আদিল হোসেন বলেন, স্টেডিয়ামের মালামাল লুট হওয়ার বিষয়টি আমরা জেনেছি। ঘটনাস্থলে আমাদের পুলিশের টিম পাঠানো হয়েছিল।
এমএসএম / এমএসএম
সিলেটে পুলিশের ধাওয়ার মুখে সুরমায় ঝাঁপ, প্রাণ গেল ৫৮ বছর বয়সী ব্যক্তির
মান্দায় তীব্র সার সংকটে কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ
সখীপুরে ধানক্ষেত থেকে নিরাপত্তাকর্মীর মরদেহ উদ্ধার
সিলেটের মাজার এলাকা থেকে কুমিল্লার নিখোঁজ ৪ শিক্ষার্থী উদ্ধার
আদমদীঘিতে ৫ মাদক কারবারির জেল-জরিমানা
সিংড়ায় সার পেতে কৃষকদের ভোগান্তি, দীর্ঘ লাইন
জিয়ানগরে পল্লী চিকিৎসক দলের সদস্য সচিব সহ দুজনকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা
জুড়ীতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল স্বেচাসেবক লীগ নেতা গ্রেফতার
ফুটপাত দখল মুক্ত করতে কোনাবাড়িতে জিসিসির উচ্ছেদ অভিযান
তেঁতুলিয়ায় ঢাকঢোল পিটিয়ে জমির দখল বুঝিয়ে দিলো আদালত
স্কাউটিংয়ে খুলনা অঞ্চলের শ্রেষ্ঠ উপজেলা অভয়নগর, সংবর্ধিত ইউএনও
রায়গঞ্জে নতুন ইউনিয় নয় পুরাতন ইউপিতেই থাকতে চান নাগরিকেরা, প্রতিবাদে গণ সাক্ষর ও সভা অনুষ্ঠিত