বন মামলার নথি বদল: সংবাদ প্রকাশের পর তদন্তের নির্দেশ
বন মামলার নথি বদল’ শিরোনামে দৈনিক সকালের সময়ে সংবাদ প্রকাশের পর ভাওয়াল সংরক্ষিত বন এলাকায় ২০১৬ সালের একটি বন মামলার নথি পরিবর্তনের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে বন অধিদপ্তর। গত ৯ আগস্ট বন সংরক্ষকের কার্যালয়, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চল থেকে ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। সংবাদে উত্থাপিত অভিযোগ খতিয়ে দেখে ৫ কর্মদিবসের মধ্যে মতামতসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন বন সংরক্ষকের দপ্তরে পাঠাতে বলা হয়েছে।
বন সংরক্ষক মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ১২ জুলাই দৈনিক সকালের সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভাওয়াল সংরক্ষিত বনে গাছ কাটার সময় রাশেদুল ইসলাম নামে একজনকে হাতেনাতে আটকের তথ্য উঠে এসেছে। একই ঘটনায় বিট কর্মকর্তা চারজনকে আসামি করে পিওআর মামলা প্রস্তুত করলেও বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছানোর পর মামলার নথি পরিবর্তনের অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি ভাওয়াল সংরক্ষিত বন এলাকার হওয়ায় সংবাদে প্রকাশিত ঘটনাটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মতামতসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে প্রধান বন সংরক্ষকের দপ্তরের ২৭ জুলাইয়ের একটি পত্রের সূত্র উল্লেখ করে বলা হয়, পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে মতামতসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশনা রয়েছে। ওই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই ভাওয়াল সংরক্ষিত বন এলাকার সংশ্লিষ্ট ঘটনাটি তদন্তের জন্য ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে দৈনিক সকালের সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালে ঢাকা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ভাওয়াল রেঞ্জের রাজেন্দ্রপুর পশ্চিম বিটের ৪ নম্বর বাড়ইপাড়া মৌজার গেজেটভুক্ত সিএস ২০৮৭ দাগের সংরক্ষিত বনভূমির কড়ইতলী এলাকায় অবৈধভাবে গাছ কাটার সময় রাশেদুল ইসলামকে আটক করা হয়।
তৎকালীন বিট কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম ও তাঁর সহকর্মীরা অভিযান চালিয়ে রাশেদুল ইসলামকে আটক করলেও অন্য তিন অভিযুক্ত পালিয়ে যান। পরে ধৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে লিখিত জবানবন্দিসহ গাজীপুরের বন আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাঁকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠান।
মামলার নথি ও লিখিত জবানবন্দি অনুযায়ী, রাশেদুল ইসলাম স্বীকার করেন, এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি মনির হোসেন ওরফে মনির হাজীর নির্দেশে তাঁর বাবা শামছুল হক ও মা জোসনা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে সংরক্ষিত বনভূমিতে গাছ কাটতে গিয়েছিলেন। ওই জবানবন্দির ভিত্তিতে তৎকালীন বিট কর্মকর্তা চারজনের নাম উল্লেখ করে বন আইনের ১৯২৭ সালের আইনের ২০০০ সালের সংশোধনী অনুযায়ী ২৬(১)(ক) ও ২৬(১)(খ) ধারায় পিওআর মামলা প্রস্তুত করেন।
পরে রেঞ্জ কর্মকর্তার মাধ্যমে মামলার নথি বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে পৌঁছানোর পর মামলার গতিপথ পরিবর্তন হয় এবং আদালতে পাঠানো চূড়ান্ত নথিতে ধৃত রাশেদুল ইসলাম ছাড়া জবানবন্দিতে নাম থাকা অপর তিনজনের নাম রাখা হয়নি।
প্রতিবেদনে তৎকালীন বিট কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামের বক্তব্যও তুলে ধরা হয়। তিনি জানিয়েছিলেন, ধৃত আসামির লিখিত স্বীকারোক্তি অনুযায়ী চারজনের নাম উল্লেখ করেই তাঁরা মামলার নথি প্রস্তুত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে অপর তিনজনের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ ঘটনায় তৎকালীন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় অঞ্চলের বন সংরক্ষক এ.এস.এম. জহির উদ্দিন আকনের বিরুদ্ধে নথি পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। তবে তিনি এ অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেননি। একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে লিখিতভাবে বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে বার্তাটি দেখা হলেও কোনো জবাব দেননি।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলার নথি প্রস্তুতের সঙ্গে যুক্ত এক সহযোগীর দাবি অনুযায়ী, চারজনের পরিবর্তে শুধু ধৃত আসামিকে রেখে মামলা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হলে তিনি তাতে আপত্তি জানান। পরে তাঁকে কার্যালয়ে ডেকে মামলার প্রথম পাতার মূল কপি পরিবর্তন করা হয় এবং পলাতক তিনজনের নাম বাদ দিয়ে নতুন করে মামলা আদালতে পাঠানো হয় বলে তাঁর দাবি।
এদিকে সংবাদ প্রকাশের পর বন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ায় এখন ওই অভিযোগের প্রশাসনিক অনুসন্ধান শুরু হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার প্রতিবেদন ও মতামতের ওপর পরবর্তী ব্যবস্থা নির্ভর করবে।
বন সংরক্ষক মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে সংবাদে উত্থাপিত অভিযোগকে সরাসরি সত্য বা মিথ্যা হিসেবে উল্লেখ না করে বিষয়টি ‘খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ’ এবং ‘মতামতসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন’ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফলে ২০১৬ সালের ওই বন মামলার নথি কীভাবে প্রস্তুত হয়েছিল, আদালতে পাঠানোর আগে আসামিদের নাম পরিবর্তন বা বাদ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল কি না এবং ঘটলে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা কী ছিল—তদন্ত প্রতিবেদনে এসব প্রশ্নের উত্তর আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বন সংরক্ষকের কার্যালয়ের চিঠিতে প্রধান বন সংরক্ষকের দপ্তরকে অনুলিপি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের কাটিং ও সংশ্লিষ্ট পত্রের আলোকচিত্র সংযুক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এমএসএম / এমএসএম
রোবটিক্স-অটোমেশনে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রস্তুতি
বন মামলার নথি বদল: সংবাদ প্রকাশের পর তদন্তের নির্দেশ
বঙ্গোপসাগর ঘিরে ভুরাজনীতিঃ বাংলাদেশ কী করবে?
ডিএইতে পরিবর্তনের চেষ্টা করেছি : মহাপরিচালক আব্দুর রহিম
বেবিচকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরউদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়: পদ আঁকড়ে কোটি কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ
নিরাপত্তা ঘাটতি, ক্ষতিপূরণহীন পরিবার আর অপূর্ণ সুপারিশ
সার সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ল বিএডিসির
নদী বন্দর শাখার সাবেক পরিচালক এ.কে এম আরিফ উদ্দিন নারী কেলেঙ্কারিতে বরখাস্ত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যেই অন্য বিভাগে পদায়ন
ই-জিপি ছাড়াই, মেট্রোরেলের টেন্ডার
প্রকৌশল বিভাগে ঘুষের বিনিময়ে পদোন্নতির অভিযোগ
রাজধানীর গুলশান-বনানী স্পা সেন্টারের আড়ালে ভয়ঙ্কর অপরাধীদের আখঁড়া
তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বদরুল আলমের সম্পদের ‘বিস্ময়কর’ উত্থান