ভারসাম্যহীন স্বামীর সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ আপন ননদের বিরুদ্ধে!
কানাডাপ্রবাসী ইউনুছ আলীর সম্পত্তি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে নিজের নামে করে নেওয়া এবং পরে তা বিক্রির চেষ্টা চলছে—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার আপন বোন রুমা আক্তার ও বোনের স্বামী মোহাম্মদ রুমির বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, ইউনুছ আলী বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্তিজনিত সমস্যায় ভুগছেন। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তার বাংলাদেশে থাকা সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে।
অভিযোগ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কানাডাপ্রবাসী ইউনুছ আলী ২০২১ সালে বাংলাদেশে এসে গার্মেন্টস ব্যবসায়ী হাজী সুমনের মেয়ে মুন্নি আক্তার মিষ্টিকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাদের একটি কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করে। তবে কিছুদিন পর থেকেই ইউনুছ আলীর মাদক গ্রহণের অভিযোগ ওঠে। তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার রিহ্যাব সেন্টারে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসা শেষে কিছুদিন স্বাভাবিক থাকার পর আবারও মাদক গ্রহণ শুরু করেন ইউনুছ আলী। এ সময় স্ত্রী মুন্নি আক্তার মিষ্টির সঙ্গে তার পারিবারিক বিরোধ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে থাকা অবস্থায় স্ত্রী মুন্নি আক্তার মিষ্টির বাবার বাসায় বসেই একপর্যায়ে ফল কাটার ছুরি দিয়ে স্ত্রী মুন্নি আক্তার মিষ্টির মাথায় ফল কাটা চাকু দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তিনি আহত হন পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয় পরে এ ঘটনায় রূপনগর থানায় একটি মামলা করা হয় বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে ইউনুছ আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়ে মামলা প্রত্যাহারের অনুরোধ করা হলে পারিবারিক সমঝোতার ভিত্তিতে মামলাটি প্রত্যাহার করা হয় বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
এরপর ইউনুছ আলী তার মা-বাবা, বোন ও বোনের স্বামীসহ কানাডায় চলে যান। অভিযোগ রয়েছে, কানাডায় যাওয়ার পরও তার মাদক গ্রহণের প্রবণতা আরও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন বলে দাবি করছে তার স্ত্রীপক্ষ। এমনকি বর্তমানে তিনি কানাডার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন এবং নিয়মিত বাসায় থাকেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে স্ত্রী ও সন্তানকে কানাডায় নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে গিয়েও পারিবারিক বিরোধের অবসান হয়নি বলে অভিযোগ। মুন্নি আক্তারের দাবি, স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে একপর্যায়ে তাকে সন্তানসহ বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে তিনি কানাডার পুলিশের কাছে বিষয়টি জানান। বর্তমানে তিনি সন্তানকে নিয়ে পুলিশের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
সম্পত্তি নিয়ে নতুন অভিযোগ
পারিবারিক বিরোধের পাশাপাশি এখন নতুন করে সামনে এসেছে বাংলাদেশে থাকা ইউনুছ আলীর সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ। অভিযোগ অনুযায়ী, মিরপুর-২ নম্বর সপ্তম তলা একটি বাড়ি রয়েছে , বাড়ি নম্বর-৮, রোড-১৩, ব্লক-জি/১, সেকশন-২, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬—এ অবস্থিত বাড়িটি ইউনুছ আলী ও তার বোন রুমা আক্তারের নামে রয়েছে।
কিন্তু বর্তমানে ওই বাড়ির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে।
মুন্নি আক্তারের পরিবারের অভিযোগ, ইউনুছ আলীর বর্তমান অসুস্থতা ও পারিবারিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তার বোন রুমা আক্তার এবং বোনের স্বামী মোহাম্মদ রুমি কথিত জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পত্তির মালিকানা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। শুধু তাই নয়, বাড়িটি বিক্রি করে দেওয়ারও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
প্রশ্ন উঠছে—প্রকৃত মালিকানা কার?
ইউনুছ আলী বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করায় এবং তার পারিবারিক পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় তার বাংলাদেশে থাকা সম্পত্তি নিয়ে প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার স্ত্রী ও কন্যাসন্তানের স্বার্থ, ইউনুছ আলীর প্রকৃত মালিকানা এবং তার পক্ষ থেকে কাউকে বৈধভাবে সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বা হস্তান্তরের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল কি না—এসব বিষয় এখন তদন্তের দাবি রাখে।
অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, যদি ইউনুছ আলীর সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তরের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেটি কোন দলিলের ভিত্তিতে এবং কার অনুমতিতে করা হচ্ছে? আর যদি কোনো পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ব্যবহার করা হয়ে থাকে, সেটি বৈধভাবে সম্পাদিত ও নিবন্ধিত কি না—সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন। কারণ তিনি বর্তমানে নেশাগ্রস্ত ভারসাম্যহীনতায় রয়েছেন।
ভুক্তভোগী ইউনূছর স্ত্রী মুন্নি আক্তার মিষ্টির অভিযোগ বাংলাদেশে বসে এ সকল বিষয়ের কলকাঠি নারছেন খন্দকার মাসুদ ও রুবেল এদের নামে মিরপুর মডেল থানায় ১২/০৭/২০২৬ সাধারণ ডায়েরি করাও রয়েছে।
এদিকে, রুমা আক্তার ও মোহাম্মদ রুমির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। একইভাবে ইউনুছ আলীর বক্তব্যও নেওয়া জরুরি।
এ সকল বিষয় নিয়ে অভিযুক্ত কানাডা প্রবাসী রুমা আক্তারে সাথে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলে জানতে চাইলে তিনি সকল বিষয় অস্বীকার করেন এবং অনেক কিছু এড়িয়ে যান। উল্টো অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর ছুঁড়ে দেন তিনি।
এদিকে মিষ্টির বাবা ইউনুস আলীর শ্বশুর অভিযোগ করে বলেন আমার মেয়ের জামাইয়ের বোন রুমা আক্তার তার খালাতো ভাই রুবেলকে আমার বাসায় পাঠিয়ে আমাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়েছেন আমি যেন এই সকল বিষয় নিয়ে চুপ থাকি কথা না বলি বা কাউকে না জানাই সেই আমার বাসায় আসা ভিডিও ফুটেছ আছে আমার রয়েছে।
সব মিলিয়ে কানাডাপ্রবাসী ইউনুছ আলীর পারিবারিক সংকটের সুযোগ নিয়ে তার সম্পত্তি দখল বা হস্তান্তরের কোনো চেষ্টা হচ্ছে কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি। অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা ও উত্তরাধিকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
এমএসএম / এমএসএম
ভারসাম্যহীন স্বামীর সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ আপন ননদের বিরুদ্ধে!
ওসি কামরুলের দূরদর্শী নেতৃত্বে শাহজালালে পুলিশের অভিযান, আটক ৪০ ভবঘুরে ও ভিক্ষুক
বেবিচকে সপ্তাহে একদিন অফিস করবেন বিমানমন্ত্রী
কুচক্রী মহলের অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন ইকবাল হোসেন
ঢাকা বিভাগ ও বাড্ডা থানা প্রেসক্লাবের উদ্বোধন
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে দরগাহ মাজার জাতীয় সমন্বয় কমিটির অভিনন্দন!
সংসদীয় কার্যক্রমের বাস্তব অভিজ্ঞতা দিতে জিপিএসএ’র ছায়া সংসদ
নিরাপদ খাদ্য আইনে দেশব্যাপী অভিযান: এক সপ্তাহে ৬৭ লাখ টাকা জরিমানা, ২৫ মামলা
নিরাপদ আকাশপথে দক্ষ জনবল গড়তে এটিসি বেসিক কোর্স শুরু
নতুন নেতৃত্বে বিমান-পর্যটন খাতে গতি চান মন্ত্রী মিল্লাত
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ‘হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ’ শীর্ষক সেমিনার
পরীমনি’কে বিলাসবহুল গাড়ি উপহার দেওয়া সিটি ব্যাংকের এমডি নয়, খন্দকার মাসরুর হোসেন মিতু