পঙ্গু হাসপাতালে মেয়েকে চাকরি দেয়ার কথা বলে টাকা দাবী, না পেয়ে বাবাকে বেদম প্রহার
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পূর্নবাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) এক নারীকে চাকরি দেয়ার কথা বলে এক লাখ টাকা চেয়ে না পেয়ে সেই নারীর পিতাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে বেদম প্রহারের অভিযোগ উঠেছে সুমন নামে এক ফুটপাত
ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। সোমবার (২৪ আগষ্ট) শেরেবাংলা নগরের গাছমাঠ বস্তিতে বসবাসকারী জাবেদ আলীকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে মারধর করে টাকা দাবী করে বলে জানায় তার পরিবার।
ভুক্তভোগী নারী জাহেদা আক্তার লুৎফার পিতা জাবেদ আলী জানান, পঙ্গু হাসপাতালে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কিছু লোক নিবে বলে তাকে জানায় ফুটপাতে ভাতের হোটেল ব্যবসায়ী সুমন। জাবেদ আলী চাইলে তার মেয়েকে পঙ্গু হাসপাতালে কাজের সুযোগ করে দেয়া হবে বলে আশ্বাস দেন সুমন। তবে জাবেদ আলীর মেয়ে জাহেদা আক্তার লুৎফার চাকরি নিশ্চিত হলে সুমনকে এক লাখ টাকা দিতে হবে- এমন প্রস্তাব দেয়া হয় জাবেদ আলীকে। জবাবে জাবেদ আলী বলেন, চাকরি নিশ্চিত হলেই কেবল তার প্রস্তাবে রাজী তিনি। কিন্তু চাকরি নিশ্চিত না হলে কোন টাকা দিবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন জাবেদ আলী। এভাবেই তারা উভয়ে এমন সিদ্ধান্তে রাজী হন।
মারধরের শিকার জাবেদ আলী জানান, সোমবার (২৪ আগষ্ট) দুপুর বারোটা থেকে সাড়ে বারোটার সময় সুমন তাকে (জাবেদ আলী) তার মেয়েকে নিয়ে পঙ্গু হাসপাতালে আসতে বলে। চাকরির জন্য তার মেয়ের পরীক্ষা নেয়া হবে বলে জানানো হয় জাবেদ আলীকে। পঙ্গু হাসপাতালে যাবার পর একটি রুমের মধ্যে ডেকে নিয়ে চাকরি প্রার্থী জাহেদা আক্তার লুৎফার নাম, ঠিকানা লিখিয়ে নিয়ে তাকে চলে যেতে বলা হয়। এরপর হাসপাতাল থেকে বাসায় যাবার পথে জাবেদ আলীর কাছে এক লাখ টাকা চাইতে থাকেন সুমন। তার মেয়ের চাকরি হয়ে গেছে বলে জানান সুমন এবং টাকাটা এক্ষুনি দেয়ার জন্য চাপ দেন সুমন। চাকরি নিশ্চিত হওয়া কিংবা কাজে যোগদান না করা পর্যন্ত কোন টাকা দিবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন জাবেদ আলী।
ভুক্তভোগী জাবেদ আলী বলেন, দুপুর আড়াইটা থেকে তিনটার দিকে সুমন বেশ কয়েকবার তাকে ফোন করে এবং তার বাসায় এসে তাকে বলে তার সাথে কথা আছে জাবেদ আলী যেন বাইরে আসে। এরপর জাবেদ আলী সুমনের ডাকে সাড়া দিয়ে বাসা থেকে বের হলে সুমনের সাথে থাকা দুজন লোক তাকে (জাবেদ আলী) একটি মোটরসাইকেলে বসিয়ে নিয়ে যায় লালমাটিয়া কলেজের পাশে একটি খোলা জায়গায়। এরপর শুরু হয় বেদম প্রহার। ঘন্টাব্যাপী তাকে সেখানে নির্যাতন করা হয় বলে জানায় মারধরের শিকার জাবেদ আলী। গাছমাঠ বস্তির সামনে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়,
জাবেদ আলী বস্তির বাসা থেকে বের হয়ে মেইন রোডের সামনে যাওয়ার সময় সুমনের সাথে তার দেখা হয় এবং সুমন আগে থেকেই তার অপেক্ষায় ছিল।
জাবেদ আলীর মেয়ে জাহেদা আক্তার লু্ৎফা জানায়, তার অসুস্থ বাবাকে মারপিট করা হয়। তার বাবাকে ছাড়িয়ে নিতে চাইলে এক্ষুনি টাকা দিতে হবে বলে তাকে হুমকি দেয়া হয়। টাকার বিনিময়ে পিতা জাবেদ আলীকে ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য লুৎফার কাছে টাকা চাওয়া ব্যক্তির একাধিক কল রেকর্ড থেকে এমনটাই শোনা যায়। ঘটনার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে লুৎফার বাবাকে ছেড়ে দেয়ার জন্য বস্তিবাসী সুমনকে বলার পর বিকেলের দিকে উক্ত স্থানে গিয়ে জাবেদ আলীকে ছেড়ে দেয়ার ব্যবস্থা করেন সুমন। এভাবেই পার হয় শ্বাসরুদ্ধকর অনেকটা সময়।
ভুক্তভোগী লুৎফা ও তার বাবা জানায়, শেরেবাংলা নগর থানায় এই বিষয়টি নিয়ে সুমনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। থানায় দেয়া লিখিত অভিযোগ তদন্ত করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাব ইন্সপেক্টর মো: শরিফের সাথে কথা বলার জন্য একাধিকবার এই প্রতিবেদকের ফোন থেকে কল দেয়া হলেও
ফোন ধরেননি তিনি।
এদিকে, পঙ্গু হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা নাম, পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানান, দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে যাদের নেয়া হবে এখনো তাদের চূড়ান্ত তালিকা করা হয়নি। বুধবার সরকারী ছুটি থাকায় বৃহস্পতিবার তালিকা চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানান তিনি। তবে গত সোমবার (২৪ আগষ্ট) আগ্রহী প্রার্থীদের মধ্যে থেকে জাহেদা আক্তার লুৎফা বা অন্য কারো চাকরি নিশ্চিত হবে বা হয়েছে- সুমনের দেয়া এমন তথ্য সঠিক নয় বলে দাবী করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পঙ্গু হাসপাতালের ঐ কর্মকর্তা।
এই ঘটনার সত্যতা জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলে সুমনের দেয়া ঠিকানা অনুযায়ী ২৫ আগষ্ট (মঙ্গলবার) রাতে ঢাকা শিশু হাসপাতালের ভেতরে সুমনের স্ত্রীর উপস্থিতিতে কথা হলে সুমন এমন ঘটনার জন্য অনুতপ্ত হন। তবে ২৬ আগষ্ট (বুধবার) সুমন নিজেই ফোন করে জানান, এই ঘটনার সাথে তিনি জড়িত না। এভাবে কথা বলেই ফোনের লাইন কেটে দেন সুমন।
উল্লেখ্য, সুমন নিজেকে বিএনপির মতো একটি বড় রাজনৈতিক দলের সদস্য দাবী করলেও শেরেবাংলা নগর থানার ২৭ নং ওয়ার্ডের কোন দায়িত্বশীল নেতা তার বর্তমান রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। তবে দলটির দায়িত্বশীল এবং ত্যাগী নেতাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, দল কখনো ব্যক্তির দায় নেবে না। আর পঙ্গু হাসপাতালের সামনে ফুটপাতে ভাতের হোটেল ব্যবসায়ী সুমন নামে তাদের কোন লিষ্টেড নেতা বা কর্মী নেই।
এদিকে জাবেদ আলীর সাথে এই ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে দিন কাটছে গোটা পরিবারের। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়েছে ভুক্তভোগী জাবেদের পরিবার। এবং পরবর্তীতে সুমন যেন আবারো কোন ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না করতে পারে- সেজন্য প্রশাসন, রাজনৈতিক প্রতিনিধিসহ সকলের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছে ভুক্তভোগী জাবেদ আলীর পরিবার।
এমএসএম / এমএসএম
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেওয়ানবাগ শরীফে লক্ষাধিক মানুষের র্যালি
পঙ্গু হাসপাতালে মেয়েকে চাকরি দেয়ার কথা বলে টাকা দাবী, না পেয়ে বাবাকে বেদম প্রহার
বম্বে সুইটস ও বাঘাবাড়ী ঘিসহ ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ
রাষ্ট্রীয়ভাবে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনে সুন্নী ওলামা মশায়েখ পরিষদের অভিনন্দন
নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ এবং গুপ্ত বাহিনীর সদস্যদের নিয়োগ দিতে দুদকের তৎপরতা’
স্বাস্থ্যখাতে ফার্মাসিস্টদের ভূমিকা, অধিকার ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা সভা
শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব দাখিল
ঢাকা কলেজে থ্যালাসেমিয়া বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও সেমিনার
দৈনিক আলোর বার্তা’র প্রকাশক ও সম্পাদক রফিক উল্লাহ সিকদারের ইন্তেকালে জাতীয় সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতির শোক
বিজিবির অভিযানে সাড়ে ৪ লাখ পিস ইয়াবা জব্দ
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা(ট্রাঃ)এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত
ভারসাম্যহীন স্বামীর সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ আপন ননদের বিরুদ্ধে!