ঢাকা রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬

ইউএপিতে আইসিপিসি-জেআরসি আন্তঃকলেজ ও ইন্ট্রা-ইউএপি প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯-৮-২০২৬ রাত ১১:৫২

প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রামিংয়ে তরুণদের আগ্রহ বৃদ্ধি এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশের লক্ষ্যে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে আইসিপিসি-জেআরসি আন্তঃকলেজ প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা ২০২৬ এবং আইসিপিসি-জেআরসি ইন্ট্রা-ইউএপি প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা ২০২৬। ইউএপির প্রোগ্রামিং কনটেস্ট ক্লাব (পিসিসি) ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের যৌথ উদ্যোগে শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২৬) আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও ইউএপির শিক্ষার্থীসহ মোট ২৭০ জন প্রতিযোগী অংশ নেন।
চার ঘণ্টাব্যাপী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা আন্তর্জাতিক কলেজিয়েট প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা (আইসিপিসি)-এর আদলে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে নিজেদের প্রোগ্রামিং দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পান। প্রতিযোগিতায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তর যাচাই এবং তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রদর্শনের জন্য রিয়েল-টাইম স্কোরবোর্ডের ব্যবস্থা ছিল।
আন্তঃকলেজ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের ‘দেশ (Desh)’ দল। দলটি পুরস্কার হিসেবে পেয়েছে ২১ হাজার টাকা। কার্ডিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ঢাকার ‘ওয়ালিজামানী (Walizamanee)’ দল প্রথম রানার-আপ হয়ে পেয়েছে ১৮ হাজার টাকা। সিডিএ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ‘সুগোই দেশু নে (Sugoi Desu Ne)’ দল দ্বিতীয় রানার-আপ হয়ে পেয়েছে ১৫ হাজার টাকা। খুলনা জিলা স্কুলের ‘এইচডি_এআরহাউশি (HD_ARHoushi)’ দল চতুর্থ স্থান অর্জন করে পেয়েছে ১২ হাজার টাকা এবং সরকারি হাজী আসমত কলেজের ‘আল-কিন্দি ক্রিপ্ট (Al-Kindi Crypt)’ দল পঞ্চম স্থান অর্জন করে পেয়েছে ৯ হাজার টাকা। এ বিভাগে বিজয়ী দলগুলোর জন্য মোট ৭৫ হাজার টাকা পুরস্কার প্রদান করা হয়।
ইন্ট্রা-ইউএপি সিনিয়র বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ‘ইউএপি_করুটিন (UAP_Coroutine)’ দল। প্রথম রানার-আপ হয়েছে ‘কম্পাইলার_ক্রু (Compiler_Crew)’ এবং দ্বিতীয় রানার-আপ হয়েছে ‘দে_কিছু_একটা (De_kichu_ekta)’। তারা যথাক্রমে ১২ হাজার, ৯ হাজার ও ৬ হাজার টাকা পুরস্কার পেয়েছে।
জুনিয়র বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ‘দেখি!! (Dekhi!!)’ দল। প্রথম রানার-আপ হয়েছে ‘রিজকো (RizKo)’ এবং দ্বিতীয় রানার-আপ হয়েছে ‘অ্যালগরিদম_অ্যাভেঞ্জার্স (Algorithm_Avengers)’। তিনটি দল যথাক্রমে ১২ হাজার, ৯ হাজার ও ৬ হাজার টাকা পুরস্কার পেয়েছে।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান জনাব কে. এম. মোজিবুল হক। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীর সহধর্মিণী সেলিনা নওরোজ চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএপির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ড. মোহাম্মদ আলাউদ্দিন; নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল লাইস এম. এস. হক; ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিশিষ্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ; বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সভাপতি মুনির হাসান এবং সরকারি বিজ্ঞান কলেজ, ঢাকার অধ্যক্ষ অধ্যাপক সালমা বেগম। অনুষ্ঠানের প্রোগ্রাম চেয়ার ছিলেন ইউএপির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া।
বাংলাদেশে প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রামিংয়ের বিকাশে জাতীয় অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান স্মরণে এ আয়োজন করা হয়। ২০১৬ সালে ইউএপিতে ন্যাশনাল কলেজিয়েট প্রোগ্রামিং কনটেস্ট এবং ২০১৬ ও ২০১৭ সালে এসিএম-আইসিপিসি ঢাকা রিজিওনালস আয়োজনের ক্ষেত্রে তাঁর দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ৪৫তম আইসিপিসি ওয়ার্ল্ড ফাইনালস আয়োজন করে। এ ঐতিহাসিক আয়োজনের পেছনে অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীর বিশেষ প্রচেষ্টা, দূরদর্শিতা ও নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল এবং ইউএপির প্রশাসন, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাও আয়োজনটি সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এ ঐতিহাসিক আয়োজনের ধারাবাহিকতায় তরুণদের প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রামিংয়ে আরও উৎসাহিত ও সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে আইসিপিসি ফাউন্ডেশন ইউএপিকে ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের একটি তহবিল প্রদান করে। পরবর্তীতে ইউএপি এ উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করে কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদেরও এর আওতায় নিয়ে আসে। ওই তহবিলের অংশ থেকেই প্রদান করা হচ্ছে আইসিপিসি-জেআরসি বৃত্তি পুরস্কার।
আইসিপিসি-জেআরসি বৃত্তি পুরস্কারের মূল লক্ষ্য হলো মেধাবী ও সম্ভাবনাময় তরুণদের প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রামিংয়ে আগ্রহী করে তোলা, তাদের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশে উৎসাহিত করা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্যের জন্য প্রস্তুত করা। এর মাধ্যমে অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীর প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রামিং ও তরুণদের দক্ষতা বিকাশে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার উত্তরাধিকারকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এবারের আয়োজনে সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি টাইটেল স্পনসর এবং ইনোভেটিভ স্কিলস লিমিটেড ব্রোঞ্জ স্পনসর হিসেবে সহযোগিতা করেছে। মোট ২৭০ জন প্রতিযোগীর সক্রিয় অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি আগ্রহ, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ আয়োজনের মাধ্যমে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক দেশে প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রামিংয়ের চর্চাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের প্রোগ্রামারদের দক্ষতা বিকাশ, উদ্ভাবনী চিন্তা ও সমস্যা সমাধানে উৎসাহিত করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে জাতীয় অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীর স্বপ্ন ও অবদানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কম্পিউটিং ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করাও এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

এমএসএম / এমএসএম

ইউএপিতে আইসিপিসি-জেআরসি আন্তঃকলেজ ও ইন্ট্রা-ইউএপি প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা

প্রিয়জনের যত্নে পাশে দিয়ামনি ই কমিউনিকেশন ও মেডিক্যালস বিডি

রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ ও আদর্শ জীবনভিত্তিক বাস্তবায়নের আহ্বান

রংপুর বিভাগ সমিতি ঢাকার নতুন সভাপতি আজিজ,সম্পাদক ড. জিয়া

গ্রামীণ উন্নয়নের প্রাণশক্তি এলজিইডি: ক্যাডারভুক্তি সময়ের দাবি

শাহজালাল বিমানবন্দর কল্যাণ কমিটিতে নতুন নেতৃত্ব

ঢাবিতে হোটেল শাহিদ প্যালেস প্রযোজিত ডুসাক ফুটবল টুর্নামেন্ট: চ্যাম্পিয়ন জীবননগর

মহানগর গোয়েন্দা ডিবিতে প্রায় ১৬ বছর একই কর্মস্থলে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী মোঃ জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

শহীদ মেধাবৃত্তি ও অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় কৃতী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ করল শহীদ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ

উত্তরাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সবার সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন: অধ্যক্ষ সালাউদ্দিন ভূঁইয়া

সৌদিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: নিহত ৯ প্রবাসীর মরদেহ দেশে

থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে বিয়ের আগে ক্যারিয়ার স্ক্রিনিংয়ের ওপর জোর ডিসি ফরিদার

রাজধানীর চারপাশের নদ-নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের আওতায় কেন্দ্রীয় সেলের নদীপথ পরিদর্শন