আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে রোদেলা টাওয়ারের কাজ
রাজশাহী শহরের ফিরোজাবাদ (বিমান চত্বর) এলাকায় আরডিএ’র অনুমোদিত নকশা বহির্ভূত ১২ তলার একটি নির্মাণাধীন ভবন নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অনুমোদিত নকশা বা ইমারত নির্মাণ আইন অমান্য করে নকশার বাইরে অতিরিক্ত অংশ নির্মাণ করে ডেভিয়েশন বা নকশার ব্যত্যয় ঘটানোর বিষয়টি বেশকিছু কারণে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে স্থানীয় ও কর্তৃপক্ষের মাঝে। সরকারি নীতিমালা বা ইমারত নির্মাণ বিধিমালা চরম আকারে ভঙ্গ করে বহুতল ভবন নির্মাণের সময় সেটব্যাক না মেনে যৎসামান্য নয়; পুরো দশ ফিট অতিরিক্ত বৃদ্ধি করে নির্মাণ করা হয়েছে ১২তলা বিশিষ্ট বেশ ব্যয়বহুল রোদেলা টাওয়ার। ভবনের পূর্বদিকের পুরো অংশজুড়ে অতিরিক্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে তিন মিটার বা প্রায় দশ ফিট। আর অবশিষ্ট তিন দিকে বৃদ্ধি করা হয়েছে দেড় মিটার বা পাঁচ ফিটের মত। রাজশাহী শহরের ইতিহাসে এই ধরনের বড়মাপের অপরাধ প্রবণতার উদাহরণ হয়তোবা নেই বলে মন্তব্য স্থানীয় ও আরডিএ-তে কর্মরতদের।
ইতোমধ্যেই পর পর দুটো চিঠি শেয়ার হোল্ডারদের কাছে প্রেরণ করে নিজ উদ্যোগে যথাযথ ব্যবস্থা (বর্ধিত অংশ অপসারণ করা) নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সময়ান্তে সেই নির্দেশনাও অমান্যতার খাতায় যুক্ত হয়েছে আগের মতই।
রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সূত্র জানায়, অননুমোদিত বা অনুমোদন বহির্ভূত ইমারত নির্মাণ করার কারনে অভিযুক্ত অ্যাপার্টমেন্ট মালিক (শেয়ার হোল্ডার ৩৭ জন) বরাবর গত ২৮-০৪-২০২৬ ইং তারিখে ইমারত নির্মাণ কমিটির পক্ষে, সদস্যসচিব ও আরডিএ’র অথরাইজড অফিসার আব্দুল্লাহ আল তারিক স্বাক্ষরিত একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। ইমারত নির্মাণ আইন ১৯৫২এর ৩(খ) ধারা মোতাবেক প্রেরিত চিঠি ও একই আইনের ৩(খ)(২) ধারা মতে নোটিশ জারির তারিখ থেকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ থাকলেও অভিযুক্তরা সরকারি সেই আদেশকে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়েছে।
প্রথম দুটো চিঠির সন্তোষজনক কোন উত্তর না পাবার কারনে পরবর্তীতে গত ২৪-০৬-২০২৬ ইং তারিখে পূর্বের প্রেরিত নির্দেশনামূলক দুটি চিঠির স্মারক নম্বর উল্লেখকরে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত ভবন মালিকদের বরাবর অনুমোদন বহির্ভুতভাবে নির্মিত ইমারত অপসারণের নির্দেশনা দেন। চিঠি পাঠানোর তারিখ থেকে পরবর্তী ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে উক্ত নির্দেশনা মান্য করার কথা থাকলেও অবৈধভাবে নির্মিত বর্ধিত অংশ অপসারণ বা ভেঙ্গে ফেলেনি অভিযুক্ত অ্যাপার্টমেন্ট মালিকরা। কর্তৃপক্ষ উক্ত চিঠিতে বলেছেন, নগরীর ফিরোজাবাদ (ওয়াসা ভবনের সামনে) মহল্লায় পবা মৌজায় আরএস-৮৬১ দাগে বেজমেন্ট+আংশিক ১২ তলা বহুতল ভবনটির নির্মাণ কাজে নির্মাণ বিচ্যূতি প্রতীয়মান হয়েছে। এছাড়াও ইমারতের ভিত্তিসহ নির্মাণ পরিদর্শন করিয়ে প্রমানপত্র গ্রহণ করেননি এবং অনুমোদনের নম্বর, তারিখ, অনুমোদিত তলা উল্লেখ করে নির্মাণ স্থলে নির্মাণ সংক্রান্ত তথ্য বোর্ড স্থাপন করেননি। ফলে অনুমোদনের ২ নং শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে। এছাড়াও উক্ত নির্মাণে অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে সামনে, পিছনে এবং উভয় পার্শ্বে অতিরিক্ত নির্মাণ করছেন। ফলে, অনুমোদনের ১৬ নং শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে। একের পর এক সরকারি নির্দেশনাকে তোয়াক্কা না করার বিষয়টি এলাকার সচেতন ব্যক্তিদের মাঝে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বিরূপ মন্তব্যে বলেন, আরডিএ’র কোন একটি চক্র ভবন মালিকদের কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচ নিয়ে ঘাপটি মেরে বসে আছেন হয়তো। অনুমোদন বহির্ভূত এমন অতিরিক্ত নির্মাণ ইমারত নির্মাণ আইন ১৯৫২ এর ৩ ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এইধরনের অপরাধ প্রবণতা ‘ইমারত নির্মাণ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পুকুর চুরির সমান বলেও মন্তব্য অনেকের।
অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভবনের চতুর্দিকে অতিরিক্ত অংশ বৃদ্ধির কারনে পাইলিংয়ের সময় আশেপাশের বেশকিছু বাড়িতে ফাটল ধরে। বহুতল ভবন নির্মাণের সময় পার্শ্ববর্তী ক্ষতিগ্রস্থ বাড়ির মালিক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ আগস্ট’২৪ পূর্ববর্তী সময়ে আরডিএ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেবার চেষ্টা করলে রোদেলা টাওয়ারের কয়েকজন ক্ষমতাধর শেয়ার হোল্ডার তৎকালীন সরকার দলীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ (সাংগঠণিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ) এর স্থানীয় ও মহানগরের কিছু নেতাকে দিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি ধামকি প্রদর্শন করান বলে জানান ভুক্তভোগী জাহিদ। তৎকালিন রাসিকের মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের ক্ষমতাধর ও রাজশাহীর কিশোর গ্যাংয়ের জন্মদাতা টিটু সহ যুবলীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) মহানগর নেতা মোস্তফা ও স্থানীয় নেতা রঞ্জুর বাধার মুখে পড়ে বেশিদূর এগোতে পারেননি ভুক্তভোগী ও অভিযোগকারী জাহিদ। আগস্ট অভ্যুত্থানের পূর্ববর্তী সময়ে নিষিদ্ধ সংগঠণ ছাত্রলীগের কিছু স্থানীয় নেতা ও আ’লীগ ও যুবলীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) কিছু নেতাকে প্রায় তিন লাখ টাকা (স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন সাত থেকে আট লাখ) প্রদানের মাধ্যমে স্থানীয়দেরকে বাধাগ্রস্থ করে অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ চলমান রাখেন। পরবর্তীতে দেশের রেজিম পরবর্তন ঘটার সাথে সাথে বর্তমান সরকার দলীয় কিছু স্থানীয় নেতাদেরকে উৎকোচ দিয়ে নির্মাণাধীন ভবনের অবশিষ্ট কাজ চলমান রাখেন বলে স্বীকার করেন রোদেলা টাওয়ারের বেশকয়েকজন শেয়ার হোল্ডার ও সোসাইটির ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান বাবু (কথোপকতনের রেকর্ডিং সংরক্ষিত)। ক্ষতিগ্রস্থ ভবন মালিক জাহিদ সহ অন্যদেরকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ না দেবার কারনে স্থানীয় নেতাদের পেছনে এই অর্থ ব্যয় করা হয় বলে দাবি অনেকের।
জানতে চাইলে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)’র অথরাইজড অফিসার প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল তারিক জানান, নির্দেশনানুযায়ী ভবন মালিকগণ অবৈধ অংশটুকু অপসারণ বা ভেঙ্গে না ফেললে আমরা আরো দুটো সতর্ককরণ চিঠি প্রেরণ করবো। সেগুলোর সময় থাকবে পূর্ববর্তী প্রেরিত চিঠির চাইতে অনেক কম সময়। এতেও যদি অভিযুক্তরা অমান্য করে সেক্ষেত্রে আমার আদালতে মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করবো কিংবা নিয়মানুযায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ইভিকশন কার্যক্রম পরিচালনা করবো।
এমএসএম / এমএসএম
চরভদ্রাসন স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে হটাৎ উপস্থিত স্বাস্থ্যমন্ত্রী
গলাচিপায় মাদ্রাসাছাত্র অপহরণ, ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি
জয়পুরহাটের ৬ জন হকি খেলোয়াড় যাচ্ছেন চীনে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়া কাপে
মনপুরা ইউপি নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী জিয়াউর রহমান
বাঘায় মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে ৬ জন আটক, চরাঞ্চলে রাতভর অভিযান
ফসলের জমি থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার
আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে রোদেলা টাওয়ারের কাজ
ধুনটে নার্সের পারিবারিক বিরোধে চিকিৎসককে জড়িয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ
অষ্টগ্রাম রাস গোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের পলাতক প্রধান শিক্ষক আব্দুস শহিদের অপসারণের দাবীতে মানববন্ধন
মহেশখালী থেকে অস্ত্রের চালান ঠেকাল পুলিশ:গ্রেফতার ২ জন
মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের
দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে সংবাদ সম্মেলন