বোয়ালমারীর পল্লীতে অবৈধ ক্লিনিক অপচিকিৎসায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন রোগীরা
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের কাদিরদী বাজারে বেআইনী ভাবে গড়ে উঠা একটি ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে রোগীদের ত্রুটিপূর্ণ সেবা দেওয়ার বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। কোন প্রকার নিয়ম-বিধির তোয়াক্কা না করে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানটি রোগী সেবার ক্ষেত্রেও কোন নিয়ম-শৃঙ্খলার ধার ধারছেনা বলে অভিযোগ। ফলে চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তির নামে প্রতারিত হয়ে রোগী সাধারণ শারীরিক ও আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন বলে জানাগেছে। সরেজমিন তথ্যানুসন্ধানে জানাযায়,"আজকের সারাদেশ হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক"নামের ঐ বেসরকারী প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৮/৯ মাস ধরে বাজারটিতে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। শুরুতে তারা প্রাথমিক ধাপের কিছু কাগজপত্র সংগ্রহ করলেও মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার মুূল সনদ তথা পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমতি পত্রের অপেক্ষা না করেই প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম শুরু করে। এখন পর্যন্ত সেই অনুমতি পত্রের দেখা না মিললেও প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্যসেবার নামে রমরমা রোগী বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। লক্ষনীয় বিষয়, প্রতিষ্ঠানটিকে হাসপাতাল হিসাবে প্রচারণা চালানো হলেও সরেজমিন পরিদর্শনে এর কোন নমুনা পাওয়া যায়নি। বাজারের একটি ভবনের দোতলায় সাধারণ দোকান ঘর হিসাবে তৈরি করা সংকীর্ণ কয়েকটি কক্ষে চলছে কথিত এই হাসপাতালের কার্যক্রম। বাস্তবে নিয়মিত কোন চিকিৎসক,প্রশিক্ষিত নার্স,প্রয়োজনীয় সংখ্যক রোগীশয্যা,পরিবেশ সহ একটি হাসপাতাল পরিচালনার জন্য জনবল ও কাঠামোগত অনেক কিছুই নেই এখানে। উদ্বেগের বিষয়-বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত একজন নারীকে দিয়ে গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ক্লিনিকটিতে। আলট্রাসনোগ্রাম করা,রোগীকে ব্যবস্থাপত্র দেওয়া সহ সবই করেন জেরিন রহমান নামের ঐ নারী।যদিও একজন রেজিষ্টার্ড চিকিৎসক ছাড়া এ কাজগুলো সম্পাদন করা অন্য যে কারো জন্য সম্পুর্ণ বেআইনী। জেরিন রহমানের ভুল আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট ও পরামর্শে একাধিক রোগীর ক্ষতিগ্রস্থ হবার তথ্য প্রমাণ মিলেছে কয়েকটি সূত্রের কাছে।জেরিন রহমান নিবন্ধিত কোন চিকিৎসক (এমবিবিএস)না হলেও তিনি নামের আগে 'ডাক্তার' লিখে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন বলে অভিযোগ। ক্লিনিকটির প্রধান কাজ অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের অস্ত্রপচার করে সন্তান ভূমিষ্ঠ করানো হলেও সেক্ষেত্রে নানান অসঙ্গতির অভিযোগ স্থানীয়দের। সার্জিক্যাল,এনেস্থিসিয়া ও শিশু এই তিন বিভাগের তিন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে একটি অপারেশন সম্পন্ন করার কথা থাকলেও এ ক্ষেত্রে বাইরে থেকে ফোনকলে ডেকে আনা একজন শল্য চিকিৎসই সব দায়িত্ব পালন করেন বলে জানাযায়। আর তাকে সহায়তা করেন সাধারণ ২/৩ জন নারী কর্মী। অভিযোগ রয়েছে,অস্ত্রপচারের পর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক তড়িঘড়ি ক্লিনিক ত্যাগ করে চলে গেলেও পরবর্তী ধাপে নবজাতক ও প্রসূতি মায়ের দেখভালের জন্য অভিজ্ঞ কোন জনবল নেই ক্লিনিকটিতে। ফলে ভুক্তভোগীরা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে বিপদে পড়ে যান স্বজনরা। এক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত দাবীদার এবং খন্ডকালিন দায়িত্ব পালন করা ঐ নারী চিকিৎসা সেবা প্রদান করলেও তা অনেক সময়ই হিতেবিপরীত হয়ে থাকে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকটি সূত্র জানায়,গ্রামের দরিদ্র-অসচ্ছল ও অসচেতন মানুষদের সরল বিশ্বাস ও সহজলভ্যতাকে পুঁজি করে এই অজপাড়াগাঁয়ে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হলেও সেটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। সেবার নামে প্রতারণা ছাড়া সেখানে আর কিছুই মিলছেনা। ওখানে কোন অভিজ্ঞ ডাক্তার নেই। ডাক্তার পরিচয়ে চিকিৎসা সংক্রান্ত সবই করছেন ঢাকার কোন বেসরকারী প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া ঐ নারী কর্মকর্তা জেরিন রহমান। এভাবে কোন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান চলতে পারেনা। মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করার অধিকার কারো নেই। সূত্রগুলো জানায়,স্থানীয় বি এন পি নেতা মোঃ আতিয়ার রহমান ও নাজমুল আলম পারভেজ নামে ফরিদপুরের এক ব্যবসায়ীর যৌথ মালিকানায় আজকের সারাদেশে হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি পরিচালিত হচ্ছে। সামাজিক ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তারা এমন অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছেন বলে সূত্রগুলোর অভিযোগ। ক্লিনিকের অনিয়ম,অব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে ক্লিনিক মালিক নাজমুল আলম পারভেজ বলেন,আমার কাগজপত্রে কোন ঘাপলা নেই। অচিরেই অনুমোদন পেয়ে যাব ইনশাআল্লাহ। নতুন এবং ছোট প্রতিষ্ঠান হিসাবে ছোটখাটো ত্রুটি বিচ্যুতি হতে পারে। বিষয়টি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানিয়ে ফোনের সংযোগ কেটে দেন তিনি। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন,কাদিরদীর ওই ক্লিনিকের অনিয়ম অব্যবস্থা সম্পর্কে আমি অবহিত আছি। কিন্তু ওটা বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। বিষয়টি ইউএনও মহোদয়কে জানিয়েছি। তিনি কি করেন সেটা দেখার অপেক্ষায় আছি। জানতে চাইলে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রকিবুল হাসান বলেন,স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সাহেব বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। অচিরেই ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে কাউকে নোংরা বাণিজ্য করার সুযোগ দেওয়া হবে না।
এমএসএম / এমএসএম
ত্রিশালে ট্রাক সিএনজি সংঘর্ষে নিহত দুই :আহত চার
বরগুনা ভূমি অফিসের কানুনগো সজলের ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ
রায়গঞ্জে ছাত্রীকে হয়রানির অভিযোগে কলেজ ছাত্র দলের সভাপতি শাহিনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন
যাচায় না করে কাউকে ব্যক্তিগত তথ্য দিবেন না- চেয়ারম্যান মাহবুর রহমান
বোয়ালমারীর পল্লীতে অবৈধ ক্লিনিক অপচিকিৎসায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন রোগীরা
বারহাট্টায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু
টাঙ্গাইলে প্রবীণ সেবা সংঘের ৪র্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও নতুন কমিটি গঠন
চরভদ্রাসন স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে হটাৎ উপস্থিত স্বাস্থ্যমন্ত্রী
গলাচিপায় মাদ্রাসাছাত্র অপহরণ, ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি
জয়পুরহাটের ৬ জন হকি খেলোয়াড় যাচ্ছেন চীনে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়া কাপে
মনপুরা ইউপি নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী জিয়াউর রহমান
বাঘায় মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে ৬ জন আটক, চরাঞ্চলে রাতভর অভিযান