ঢাকা রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শরতের স্নিগ্ধতা শ্বেত-শুভ্র কাশফুলে সেজেছে প্রকৃতি


মোহনগঞ্জ (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি photo মোহনগঞ্জ (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০-৯-২০২৬ দুপুর ২:২৮

বাংলাদেশের ঋতু বৈচিত্র্যের অন্যতম হচ্ছে শরৎকাল। শরৎকালের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে কাশফুল। এই কাশফুলের গরম ছোঁয়া, সাদা শুভ্রতা ও সাদা মেঘের ভেসে যাওয়ার দৃশ্য সবারই মন কেড়ে নেয়। নদী-নালা,খাল-বিলসহ বিভিন্ন জায়গায় শোভা বর্ধন করে কাশফুল। প্রতিদিন বিকেল নামলেই  কাশফুলের অপরূপ এই শুভ্র সৌন্দর্য চোখে পড়ে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পৌর শিশুপার্ক। আর কাশফুলের এই অসাধারণ দৃশ্য উপভোগ করতে এসব জায়গায় ভিড় জমে প্রকৃতিপ্রেমীদের। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুর সঙ্গে, আবার কেউ দল বেঁধে নৌকায় চড়ে,কেউ ওভারব্রীজ করে লেক পার হন। মনের আনন্দে কাশফুলের সঙ্গে ছবি তুলছে তারা।

পৌর শিশুপার্ক এখন শরতের কাশফুলে সেজেছে। বাতাসে দুলে ওঠা কাশফুল দেখে মনে হয়, এ যেন সাদা মেঘের রাজ্য।

শুধু মোহনগঞ্জ নয়, নেত্রকোনা ,ধর্মপাশাসহ আশপাশের উপজেলার মানুষও আসছেন এই সৌন্দর্য দেখতে। লেকের এপাড় থেকে প্লাস্টিকের নৌকায় ভেসে পার হওয়ার পর চোখে পড়ে কাশফুলে ভরা লেক পাড়। কেউ মুঠোফোনে ছবি তুলছেন, কেউ কাশফুল হাতে পোজ দিচ্ছেন। শিশুরা ছুটে বেড়াচ্ছে কাশবনের ভেতর। লেক থেকে ভেসে আসা খোলা হাওয়া। আর শরতের শুভ্রতা বিলানো কাশফুলের মায়ায় অন্য রকম আনন্দ খুঁজে পান সবাই।

সরেজমিনে দেখা যায়, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পৌর শহরের প্রবেশ দ্বার নওহাল এলাকায় ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ দশমিক ২৯ একর জমিতে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন পৌর শিশুপার্কের বিশাল এলাকাজুড়ে রয়েছে কাশবন। 

২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের পরেই নেত্রকোনা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাজ্জাদুল হাসান এমপি কাশফুলের চারাগুলো রোপণ করেছিলেন। এখন প্রতিদিনই সৌন্দর্য পিপাসু অসংখ্য মানুষ ছুটে যাচ্ছেন সেখানে।

বিশেষ করে শুক্র ও শনিবার বন্ধের দিনে ভিড় বেশি হয়। এছাড়াও সাধারণ মানুষের পাশাপাশি টিকটকারদের আনাগোনাও লক্ষণীয়। পাশাপাশি অনেকেই কনটেন্ট বানাতেও ছুটে যাচ্ছেন এই মনোমুগ্ধকর দিগন্তজোড়া কাশবনে।

ছোট শিশু হতে শুরু করে সব বয়সের মানুষকেই এইসব জায়গায় ঘুরতে আসতে দেখা যায়। সবাই পরিবারকে নিয়ে কাশবনের ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আবার অনেকেই কাশফুল ছিঁড়ে মুঠো ভর্তি করে নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ আবার প্রিয়জনদের কাশফুল উপহারও দিচ্ছেন। এতে করে মনে হয় প্রতিদিনই প্রকৃতি প্রেমীদের মিলনমেলা হচ্ছে কাশবনে।

সম্প্রতি গত শুক্রবার বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় পুরো শিশুপার্কজুড়ে বিস্তৃত কাশফুল। ওপরে নীল আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে মেঘের ভেলা, নিচে লেক থেকে হাওয়া দুলিয়ে দিচ্ছে কাশফুল-এমন দৃশ্য যে কারও মন কেড়ে নেবে।

নেত্রকোনা দক্ষিণ সাতপাই এলাকার কাশবনে ঘুরতে আসা রিপন পাল বলেন, আমার বাড়ি নেত্রকোনায়। মোহনগঞ্জে বেড়াতে এসেছি। এখানে এসে জানতে পেরেছি খুব সুন্দর কাশবন আছে। তাই পরিবার নিয়ে এখানে ঘুরতে এসেছি। এই প্রথম এখানে এসেছি। খুব ভালো লেগেছে। কাশফুলের সৌন্দর্যে যে কেউ মুগ্ধ হয়ে যাবেই। এখানকার কাশবনের পুরো অংশজুড়ে এখনও ফুল ফোটেনি। পুরোটা ফুটলে আরও সৌন্দর্য বেড়ে যাবে। 

এখানে ঘুরতে আসা শেওড়াতলি গ্রামের তাসকিন আহমেদ শুভ বলেন, আমি শুক্রবারে এখানে ঘুরতে আসি। খুবই সুন্দর জায়গা। এখানে শহর থেকেও অনেক মানুষজন ঘুরতে আসেন, ছবি তোলেন, অনেক মজা করেন।

আরেক দর্শনার্থী মো. শাখাওয়াত হোসেন জয় বলেন, নতুন বিয়ে করেছি। আমি নতুন বউকে নিয়ে এখানে ঘুরতে এসেছি। আমরা ভাবতেই পারিনি এতো সুন্দর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করব। এতো সুন্দর পরিবেশে সাদা কাশফুল আর নীল আকাশ দেখে মুগ্ধ হয়েছি। তাই নতুন জীবনের সঙ্গীকে নিয়ে এই সুন্দর দৃশ্যগুলোর ছবি তুলে স্মৃতি করে রেখে দিলাম।

মোহনগঞ্জ পৌর শিশুপার্কের ম্যানেজার জুবায়ের আহমেদ জুয়েল বলেন, অন্য বারের চেয়ে শিশুপার্কে কাশফুল ফোটার কারণে দর্শনার্থী অনেক বেড়ে গেছে। তবে ২০ টাকার প্রবেশ মূল্য দিয়ে শিশুপার্কে ঢোকার আগে আমরা সবাইকে সতর্ক করে দিচ্ছি, কেউ যেন কাশফুল ছিড়ে নষ্ট না করে।

মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজ জীববিজ্ঞান শাখার প্রভাষক দীপক কুমার দাস এসেছেন কাশফুল দেখতে। কথা বলতে গিয়ে যেন কাব্যিক হয়ে গেলেন। বললেন, ‘গোধূলির সময় মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ ও সাদা কাশফুল যখন বাতাসে নাচতে থাকে, তখন মনটা আনন্দে দুলে ওঠে।’

পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়দের নিয়ে কাশবনে বেড়াতে এসেছিলেন মোহনগঞ্জ কারিগরি ও বাণিজ্যিক কলেজ ব্যবস্থাপনা শাখার সহকারী অধ্যাপক মাসুদ রানা। মুগ্ধতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বাচ্চারা কাশবনে ছোটাছুটি করে ছবি তুলছে, আনন্দ করছে, দেখে মন আরও ভরে যাচ্ছে।’

উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল হাসান বলেন, শরৎকাল এলেই কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য মানুষজন ভিড় করেন। কাশবন শুধু প্রকৃতি প্রেমীদের মনে তৃপ্তি আনে তা নয়, এটি পরিবেশের জন্যই উপকারী। নদীর পারে যে কাশবন থাকে, তা অনেক সময় নদী ভাঙন থেকেও রক্ষা করে থাকে। সেই সঙ্গে কাশফুল শুকিয়ে গেলে তা জ্বালানি হিসেবেও অনেকেই ব্যবহার করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন বলেন, ‘কাশফুল প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়। ভ্রমণপিপাসুদের চাহিদামতো নতুন নতুন বিনোদনকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।’

শরৎ আসে মূলত মেঘ-রৌদ্রের লুকোচুরির ভেতর দিয়ে। কখনো বৃষ্টি, কখনো কাঠফাটা রোদ্দুর।শরতের নির্মল স্বচ্ছ জোৎস্না অন্য ঋতুতে মেলা ভার। বিস্তীর্ণ স্বচ্ছ জলরাশির ওপর ভেসে বেড়ানো ডিঙি নৌকার ওপরে নীলাকাশে পূর্ণিমার চাঁদ। সব মিলিয়ে শরতের এই রূপ দেখতে হলে আপনাকে অবশ্যই প্রকৃতির কাছে যেতে হবে।

এমএসএম / এমএসএম

রৌমারী ও রাজিবপুরে সার ডিলারদের নিয়ে কমিশনারের মতবিনিময় সভা

মনপুরায় ‘নৈরাজ্যের’ প্রতিবাদে হাজীরহাট এবং কলাতলীতে বিএনপি নেতাকর্মীদের অবস্থান

সীমান্তের ৩৩ বেকার যুবকের হাতে দক্ষতার চাবিকাঠি, প্রশিক্ষণ দিল বিজিবি

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বড়লেখার নিজাম, শেষবার মুখটা দেখতে স্বাজনদের আকুতি

মনপুরায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার ওপর হামলার অভিযোগ

বন বিভাগ চট্টগ্রাম উত্তর: কর্মস্থলে অনুপস্থিত, তোলেন দুই রেঞ্জের মাসোয়ারা

শরতের স্নিগ্ধতা শ্বেত-শুভ্র কাশফুলে সেজেছে প্রকৃতি

কালিয়ায় জিকজ্যাক ইটভাটা মালিকদের নতুন কমিটি

সিএফ’র ছত্রছায়ায় ভালুকায় বনের সম্পদ লুটপাট

নাটোর-বগুড়া মহাসড়কে ধস, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

শার্শায় গোয়ালঘর থেকে তিনটি তাজা ককটেল উদ্ধার

শেরপুরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন কর্তৃক অভিযান অনুষ্ঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে যুবদলের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালিত