সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বড়লেখার নিজাম, শেষবার মুখটা দেখতে স্বাজনদের আকুতি
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মৌলভীবাজারের বড়লেখার প্রবাসী নিজাম উদ্দিনের (৫৯) মরদেহ এক সপ্তাহ ধরে পড়ে আছে স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে। জীবিকার তাগিদে ভিটেমাটি বিক্রি করে প্রবাসে পাড়ি দেওয়া এই শ্রমজীবী মানুষের মরদেহটুকুও অর্থের অভাবে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারছে না তার অসহায় পরিবার।
স্বজন হারানোর শোকের মধ্যেই এখন পরিবারের সামনে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা কীভাবে দেশে ফিরবে নিজাম উদ্দিনের মরদেহ। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে মরদেহ দেশে আনার ব্যয় বহন করা সম্ভব না হওয়ায় সরকারি খরচে স্বামীর মরদেহ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নিতে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন তার স্ত্রী শাম্মী আক্তার কানিজ।
নিহত নিজাম উদ্দিন মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার পূর্ব-দক্ষিণভাগ গ্রামের নিমার আলীর ছেলে। স্ত্রী-সন্তানের মুখে স্বচ্ছলতার হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে কয়েক বছর আগে নিজের ভিটেমাটি বিক্রি করে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান। সেখানে শ্রমিকের কাজ করেই চলত তার পরিবার।
কিন্তু প্রবাসজীবনের শেষ সময়টা ছিল চরম অনিশ্চয়তার। কিছুদিন আগে তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। নতুন করে কাজ না পাওয়ায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়ে যান। বাড়িতেও নিয়মিত টাকা পাঠাতে পারছিলেন না। সেই সংকট কাটিয়ে ওঠার আগেই গত ১২ সেপ্টেম্বর রিয়াদে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।
বর্তমানে নিজাম উদ্দিনের মরদেহ রিয়াদের আবু হাদরিয়্যাহ এলাকার আল মাতার আশ শামালি হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে। দুর্ঘটনার পর এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে না পারায় মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার কোনো ব্যবস্থা করতে পারেনি পরিবার।
স্বামীকে হারিয়ে দিশেহারা শাম্মী আক্তার কানিজ বলেন, ‘আমার স্বামীর উপার্জনেই আমাদের সংসার চলত। অনেক কষ্ট করে তিনি বিদেশে গিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন কাজ না থাকায় বাড়িতে টাকাও পাঠাতে পারছিলেন না। এখন তিনি আর বেঁচে নেই। সবচেয়ে কষ্টের কথা, টাকার অভাবে তার মরদেহটাও দেশে আনতে পারছি না।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের কাছে আমার একটাই আবেদন- আমার স্বামীর মরদেহটা যেন সরকারি খরচে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়। আমরা তার মুখটা শেষবারের মতো দেখতে চাই। নিজের দেশের মাটিতে তাকে দাফন করতে চাই। একজন প্রবাসী শ্রমিকের পরিবারের জন্য এটুকু সহায়তা যেন সরকার করে।’
পরিবারের সদস্যরা জানান, নিজাম উদ্দিনের মৃত্যুতে স্ত্রী-সন্তানসহ পুরো পরিবার শোকে স্তব্ধ। একদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারানোর বেদনা, অন্যদিকে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার অর্থ জোগাড়ের চাপ- দুই সংকটে পরিবারটি এখন চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছে।
স্বজনদের প্রশ্ন, দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে জীবনের বড় একটি সময় প্রবাসে কাটানো একজন শ্রমিকের মরদেহ কি শুধু অর্থের অভাবে বিদেশের মর্গে পড়ে থাকবে? পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা না থাকলেও রাষ্ট্রের সহযোগিতায় অন্তত তার শেষ যাত্রাটি নিজের দেশে সম্পন্ন করার সুযোগ পাওয়া উচিত বলে তারা মনে করেন।
এ অবস্থায় মানবিক বিবেচনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নিহতের স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনরা।
নিজামের এলাকাবাসীর দাবি, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে যত দ্রুত সম্ভব নিজাম উদ্দিনের মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হোক। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অন্তত শেষবারের মতো প্রিয়জনকে দেখার এবং নিজ গ্রামের মাটিতে তাকে দাফনের সুযোগ যেন পায় অসহায় পরিবারটি।
এমএসএম / এমএসএম
রৌমারী ও রাজিবপুরে সার ডিলারদের নিয়ে কমিশনারের মতবিনিময় সভা
মনপুরায় ‘নৈরাজ্যের’ প্রতিবাদে হাজীরহাট এবং কলাতলীতে বিএনপি নেতাকর্মীদের অবস্থান
সীমান্তের ৩৩ বেকার যুবকের হাতে দক্ষতার চাবিকাঠি, প্রশিক্ষণ দিল বিজিবি
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বড়লেখার নিজাম, শেষবার মুখটা দেখতে স্বাজনদের আকুতি
মনপুরায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার ওপর হামলার অভিযোগ
বন বিভাগ চট্টগ্রাম উত্তর: কর্মস্থলে অনুপস্থিত, তোলেন দুই রেঞ্জের মাসোয়ারা
শরতের স্নিগ্ধতা শ্বেত-শুভ্র কাশফুলে সেজেছে প্রকৃতি
কালিয়ায় জিকজ্যাক ইটভাটা মালিকদের নতুন কমিটি
সিএফ’র ছত্রছায়ায় ভালুকায় বনের সম্পদ লুটপাট
নাটোর-বগুড়া মহাসড়কে ধস, দুর্ঘটনার আশঙ্কা
শার্শায় গোয়ালঘর থেকে তিনটি তাজা ককটেল উদ্ধার
শেরপুরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন কর্তৃক অভিযান অনুষ্ঠিত