কষ্টের তাড়নায় আশ্রয়ণ ছেড়ে চলে গেছে অনেক পরিবার
অভাব আর দুঃখ-কষ্টে ভরা যাদের জীবন তাদের আবার কথা কী? তারপরও জীবনযুদ্ধে থেমে নেই দিনমজুর শ্রেণির মানুষ। মাথা গোঁজার একটু ঠাঁই মিলেছিল এই আশ্রয়ণে। পৈত্রিক কোনো ভিটেমাটি নেই তাদের। পরিবার-পরিজন নিয়ে এই আশ্রয়ণে তাদের বসবাস। এমন একটি আশ্রয়ণ কেন্দ্র দড়াটানা নদীর শাখা নদীর তীরবর্তী বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের তেলিগাতি ইউনিয়নের হেড়মা মিস্ত্রীডাঙ্গা আশ্রয়ণ কেন্দ্র।
সরেজমিন জানা গেছে, ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিড়র পরবর্তীতে সরকারিভাবে চার এর জমির ওপর এ আশ্রয়ণ কেন্দ্রটি নির্মিত হয়। দুটি ব্যারাকে ৯০টি পরিবারের বসবাস। পরবর্তীতে অনেকে অভাবের তাড়নায় কর্মসংস্থানের তাগিদে অন্যত্র চলে গেছেন। অবস্থান করছেন বিভিন্ন শহরে।
এই আশ্রয়ণ কেন্দ্রে খাবার পনির জন্য রয়েছে মাত্র টারটি টিউবওয়েল। স্যানিটারি ল্যাট্রিন দিলেও পরবর্তীতে তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। দুটি টিউবওয়েল চুরি হয়ে যায়, বাকি দুটি অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা সামান্য বৃষ্টি হলেই দুশ্চিন্তার অন্ত থাকে না এ আশ্রয়ণের বাসিন্দাদের। অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে দিনে-দুবার ভাসতে হয় তাদের।
আশ্রয়ণ কেন্দ্রটি নির্মিত হওয়ার পর থেকেই আজ পর্যন্ত হয়নি কোনো সংস্কার। পলেস্তরা খসে ভেঙে পড়েছে পিলার। ঘূর্ণিঝড় আইলা, বুলবুল সর্বশেষ ইয়াসে উঠিয়ে নিয়েছে অনেক কক্ষের টিনের চালা। কোনোমতে পলিথিন টাঙিয়ে বর্তমানে বসবাসকৃত ২৫টি পরিবারের ছেলে-মেয়ে ও পরিজন নিয়ে দিন কাটছে।
কথা হয় আশ্রয়ণের বাসিন্দা বৃদ্ধা সাফিয়া বেগম (৭০), জাহানারা বেগম (৩৫), ফজলুর রহমান খান (৫৫), পাখি বেগম (৪৫), মালেক হাওলাদার (৬০), কামাল হাওলাদার (৬৫), ছালাম শেখসহ (৫০) একাধিক বাসিন্দার সাথে। তারা জানান, আমাদের মতো অভাগীদের দুঃখের কথা কেউ শোনে না। ৭ দিন ধরে চুলা জ্বলেনি। অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে হাঁটুপানি থাকে ঘরের মধ্যে। বন্যা এলে ২-৩ গ্রামের মধ্যে নেই কোনো আশ্রয়ণ বা সাইক্লোন শেল্টারের মতো পাকা ভবন। দুই কিলোমিটার হেঁটে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আশ্রয়ণ কেন্দ্রটি সংস্কারসহ একটি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করে আমাদের বসবাসের সুযোগ করে দেয়ার জন্য করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
৭ ও ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম ও ফজলুর রহমান বলেন, আশ্রয়ণ কেন্দ্রটি নির্মাণের পরে আর কোনো সংস্কার হয়নি। জরুরিভিত্তিতে এটি সংস্কার হওয়া প্রয়োজন।
এ সর্ম্পকে ইউপি চেয়ারম্যান মোরশেদা আক্তার বলেন, নদীতীরবর্তী তিনটি ওয়ার্ডে প্রায় ৫ হাজার লোকের বসবাস। প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুহূর্তে ১০ কিলোমিটার হেঁটে নিরাপত্তার জন্য সাইক্লোন শেল্টারে যেতে হয় এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের। একটি সাইক্লোন শেল্টারের জন্য ইতিপূর্বে স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। আশ্রয়ণ কেন্দ্রটি জরুরিভিত্তিতে সংস্কার না হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। স্থানীয়দের দাবি এ আশ্রয়ণটি পুনঃনির্মাণের।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, তেলিগাতি আশ্রয়ণ প্রকল্পের জরাজীর্ণ বিষয়টি শুনেছি। শুধু তেলিগাতি আশ্রয়ণ কেন্দ্রটি নয়, সব আশ্রয়ণ কেন্দ্র সংস্কারের জন্য জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দপ্তরে তালিকা প্রেরণ করা হবে।
এমএসএম / জামান
সিদ্ধিরগঞ্জে ভ্যাট ফাঁকির তথ্য সংগ্রহ করায় সাংবাদিককে হুমকি, ৪ দিনেও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ
হীরাঝিল আবাসিক এলাকা সমাজ কল্যাণ সমিতি নিয়ম বহির্ভূত কমিটি গঠনের অভিযোগ
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে লোহাগড়ায় দুই খাল পুনঃখনন উদ্বোধন, ১.১৩ কোটি টাকার প্রকল্প
আত্রাইয়ে গ্রামীণ সড়কের কোর রোড নেটওয়ার্ক ও সড়ক অগ্রাধিকার নির্ধারণ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
ঘোড়াঘাটে গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
নবীগঞ্জে দিনদুপুরে পিস্তল ও রামদা দেখিয়ে একই দিনে দুই শিক্ষিকার স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাই
কুতুবদিয়ায় প্রেমিকের বাড়ির সামনে বিষপান: চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রেমিকার মৃত্যু
যশোরে ‘মামলাবাজ’ চক্রের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন
মহেশখালীতে মাদকবিরোধী মোবাইল কোর্ট, যুবকের কারাদণ্ড
কুড়িগ্রামে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত
পাঁচবিবিতে হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
রাঙ্গামাটিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেল ৩৮ জন যাত্রী