ঢাকা শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬

তিন দশক ধরে বন্ধ চাকসু নির্বাচন


চট্টগ্রাম ব্যুরো photo চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত: ২৯-১২-২০২১ দুপুর ১১:৪৪

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাচন হচ্ছে না তিন দশক ধরে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান, নেতৃত্ব প্রদান ও অধিকার সম্পর্কে মত প্রকাশের এই মঞ্চের সর্বশেষ নির্বাচন হয় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সময়ে। 

১৯৬৬ সালে চাকসু প্রতিষ্ঠিত হয় এবং প্রথম নির্বাচন হয় ১৯৭০ সালে। ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারীতে অনুষ্ঠিত হয় সর্বশেষ নির্বাচন। যেখানে ভিপি নাজিম উদ্দিন ও জিএস  আজিম উদ্দিন নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯০ সালের ২২ ডিসেম্বর ছাত্রনেতা ফারুকুজ্জামান নিহত হলে তৎকালীন প্রশাসন বন্ধ ঘোষণা করে এই ছাত্র সংসদ (চাকসু)  যা এখনো বন্ধই রয়েছে। প্রতি শিক্ষাবর্ষে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও মাত্র ছয়বার নির্বাচন করতে সক্ষম হয় চবি প্রশাসন। 

ছাত্রশিবিরের তান্ডব শেষ হওয়ার এক যুগ হতে চলল। প্রগতিশীল সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ক্যাম্পাসে সক্রিয় রয়েছে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতেও রয়েছে ছাত্রলীগের পূর্ণনিয়ন্ত্রণ। এই পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করার একমাত্র মাধ্যম চাকসু কিভাবে বন্ধ থাকতে পারে তা বড় প্রশ্ন।

চট্টগ্রাম শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে ফতেহপুর ইউনিয়নের জোবরা গ্রামে অবস্থিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট নির্বাচন, ডিন নির্বাচন, শিক্ষক সমিতির নির্বাচন এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের নির্বাচন প্রতি বছর জাঁকজমকপূর্ণভাবে যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হলেও উপেক্ষিত হয়ে আসছে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের ছাত্রসংসদ চাকসু নির্বাচন। জাতির কণ্ঠস্বর, যাদের জন্য রাষ্ট্র শত শত কোটি টাকা ব্যয় করে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছে সেই ছাত্রছাত্রীদের অধিকার নিয়ে কথা বলার মঞ্চ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের গুরুক্ত অস্বীকার করা হচ্ছে নানান অজুহাত দেখিয়ে। নেওয়া হয়না কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সংগঠিত হয়ে অধিকার আদায়ের মুখে তালা লাগিয়ে রেখেছে ৩১ বছর ধরে।

গণতান্ত্রিক সরকার বলে দাবি করা বর্তমান সরকারের আমলেও এমন অগণতান্ত্রিক ও নিপীড়নমূলক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্বাধীনচিন্তাশীলরা।
তবে শিক্ষার্থীদের অধিকার উপেক্ষিত থাকলেও বন্ধ নেই চাকসু। বিভিন্ন সময়ে দেখা যায় চাকসু ভবনের চারপাশে আলোকসজ্জা করে মহাধুমধামে বিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান করার অনুমতি দেওয়া হয় টাকার বিনিময়ে। 

চাকসু নির্বাচন না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হল, শাহ আমানত হল, সোহরাওয়ার্দী হলসহ প্রায় সবকটি হলের ছাত্রসংসদও অকার্যকর। ছাত্রসংসদগুলোর কক্ষগুলো এখন ছাত্রলীগের দলীয় কার্যালয় হিসেবেই ব্যবহার হয়ে আসছে।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে চাকসু নিয়ে রয়েছে অনেক আকুতি। চাকসু নির্বাচনকে ঘিরে ক্যাম্পাসে কোন ধরনের অশান্তিকর পরিবেশ তৈরি না হওয়া এবং নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সবার গ্রহণযোগ্য হওয়ার নিশ্চয়তা চেয়ে চবি রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শেখ রফিকউজ্জামান বলেন, বিগত দু'দশকের বেশি সময় ধরে  চাকসু-র সকল ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তাই একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আমি মনে করি যতদ্রুত সম্ভব চাকসু নির্বাচন হোক। চাকসু নির্বাচন না হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ন্যায্য দাবি-দাওয়া, সমস্যা নিয়ে কথা বলার মতো ছাত্র প্রতিনিধিও তৈরি হচ্ছে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি গৌরচাঁদ ঠাকুর বলেন, চাকসু হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের নিয়মতান্ত্রিক মাধ্যম, যেখানে শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কথা বলার সুযোগ থাকে। কিন্তু প্রশাসন চাকসু নির্বাচন নিয়ে মোটেই আন্তরিক নয় বরং ছাত্র প্রতিনিধিদের উপর দোষ চাপিয়ে দিয়ে বিষয়টি উপেক্ষা করে যায়। মূলত বর্তমান প্রশাসন চায় না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে শিক্ষার্থীদের কথা বলার সুযোগ দিতে।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল গুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখা ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল হক রুবেল শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে চাকসু নির্বাচনকে অপরিহার্য বলে মনে করেন। 

চাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের দৃশ্যমান চেষ্টা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা দলের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে প্রশাসনের কাছে চাকসু নির্বাচনের দাবি জানাবো। 

এছাড়াও চাকসু নির্বাচনকে ছাত্রলীগের প্রাণের দাবি আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, প্রায় ৩ দশকের অধিক সময় ধরে প্রশাসন এ দাবি উপেক্ষা করে আসছে।  

রুবেল বলেন, বর্তমানে ক্যাম্পাসে প্রগতিশীল চিন্তা ও চর্চা শুরু হয়েছে তাই চাকসু নির্বাচন এখন সময়ের দাবি।

চাকসু নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক এবং প্রয়োজনীয় মনে করেন চবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক বেনু কুমার দে। তিনি বলেন, বর্তমানে সেশনজট না কমিয়ে আমরা চাকসু নির্বাচনে যেতে পারছি না। সেশনজট রেখে চাকসু নির্বাচন করার পর শিক্ষার্থীরা মারামারি করুক এবং বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে পড়ুক এটা আমরা চাই না। তবে আমরা এটা নিয়ে শিক্ষক সমিটির সাথে বসবো। 

চাকসু নির্বাচন নিয়ে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীন আখতার বলেন, করোনায় দীর্ঘদিন ক্যাম্পাস বন্ধ ছিলো। এখন স্বাভাবিক হচ্ছে। সবগুলো বিভাগে পরীক্ষা যথারীতি চলছে। আমরা বিভিন্ন সৃজনশীল প্রোগ্রাম আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক মানসিকতা তৈরিতে চেষ্টা করছি। চাকসু নির্বাচন দ্রুত সময়ে আয়োজন সম্ভব না, এর জন্য বেশ কিছু কাজ করতে হবে। সেদিকে নজর দিচ্ছি আমরা। শিক্ষক সমিতি থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সংগঠনের নির্বাচন নিয়মিতভাবে হচ্ছে। সুতরাং চাকসু নির্বাচনও আমরা সুন্দর পরিবেশে আয়োজন করতে পারবো।

এমএসএম / জামান

মাগুরায় আওয়ামী লীগের দলীয় পতাকা উত্তোলন করে অফিস উদ্বোধন, আটক ৩

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিয়োগ নিয়ে অপপ্রচারের নিন্দা কান্ডারীর

ঠাকুরগাঁওয়ে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার

৩টি খাল খনন উদ্বোধন ও বিজিএফ’র চাল বিরতণ করলেন এমপি মালিক

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির বিএনপি প্যানেল বিজয়ী

রমজান উপলক্ষে ইয়ারা গ্রুপের উদ্যোগে ৩ শতাধিক পরিবারের মাঝে ইফতার ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ

শ্যামনগরে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন, এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা

টাঙ্গাইল জেলায় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা : ভোরের আলো ফুটতেই হাসছে সূর্যমুখী ফুল

বরগুনায় বিশেষ অভিযানে ইয়াবাসহ যুবক আটক

ভোক্তা অধিকার আইন লঙ্ঘন করায় চাঁদপুরে ৫ প্রতিষ্ঠানের জরিমানা

নোয়াখালীতে আব্দুল হালিম মানিক ট্রাস্ট্রের উদ্যোগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ

রায়পুরে অটোরিকশা চালকের ঘুষিতে যুবদল নেতার মৃত্যু

রাণীশংকৈলে কৃষি প্রযুক্তি মেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ