কুতুবদিয়ায় জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামসহ আটক চারজনকে থানায় সোপর্দ করেছে র্যাব
কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামসহ আটক চারজনকে থানায় সোপর্দ করেছে র্যাব। ২৮ মার্চ (সোমবার) মেডিকেল চেক-আপ শেষে সন্ধ্যায় তাদের কুতুবদিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন ওসি (তদন্ত) আমিন কাদের খান। আটককৃত ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে র্যাব-৭ দেয়া এজাহারমতে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রজু করা হবে বলে জানান।
গত ২৭ মার্চ র্যাব-৭, চট্টগ্রাম এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বড়ঘোপ উপজেলা গেইট মন্জুর মার্কেটের নিচ তলায় রাবেয়া এন্টারপ্রাইজ এন্ড ডিজিটাল স্টুডিওতে অভিযান চালিয়ে জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামসহ চারজনকে আটক করে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আটককৃতদের স্বীকারোক্তি মতে সাংবাদিকদের সাথে প্রেস ব্রিফিং করে বিস্তারিত জানান র্যাব-৭, চট্টগ্রাম এর উপ-অধিনায়ক মেজর মোঃ মোস্তফা জামান।
তিনি জানান, র্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সমাজের বিভিন্ন অপরাধ এর উৎস উদ্ঘাটন, অপরাধীদের গ্রেফতারসহ আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। র্যাব-৭, চট্টগ্রাম অস্ত্রধারী সস্ত্রাসী, ডাকাত, ধর্ষক, র্দুর্ধষ চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, খুনি, ছিনতাইকারী, অপহরণকারী ও প্রতারকদের গ্রেফতার এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদক উদ্ধারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করায় সাধারণ জনগনের মনে আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
গত কয়েক দিন যাবৎ র্যাব-৭, চট্টগ্রাম বরাবর অভিযোগ গৃহিত হয় যে, কতিপয় প্রতারক চক্র দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চল বেছে নিয়ে বাংলাদেশী জাল টাকা তৈরী করে তা দেশের বিভিন্ন জায়গায় আসল টাকা বলে ছড়িয়ে দিয়ে প্রতারনা করে আসছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৭, চট্টগ্রাম উল্লেখিত জাল নোট তৈরীর সাথে জড়িত প্রতারক চক্রকে আটক করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য ব্যাপক গোয়েন্দা নজরদারি এবং ছায়াতদন্ত শুরু করে। এরই প্রেক্ষিতে গত ২৭ মার্চ ২০২২ইং তারিখ র্যাব-৭, চট্টগ্রাম গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে যে, কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া থানাধীন কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদ গেইটের বিপরীতে মঞ্জুর কমপ্লেক্সের নিচ তলায় একটি কম্পিউটারের দোকানের ভিতর সংঘবদ্ধ একটি অপরাধ চক্র বাংলাদেশী জাল নোট তৈরী করছে এবং এই চক্রটি ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সু-কৌশলে জাল টাকাগুলো বাজারে ছেড়ে ব্যাপক প্রতারনা করে আসছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৭ মার্চ ২০২২ইং তারিখ ১৬১৫ ঘটিকায় র্যাব-৭, চট্টগ্রাম এর একটি আভিযানিক দল বর্ণিত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসামী ১। মোঃ ছাইফুদ্দীন আহাম্মদ মিজান (২৫), পিতা-মোঃ শহীদুল্লাহ, সাং-মনোহরখালী, থানা-কুতুবদিয়া, জেলা-কক্সবাজার, ০২। সাইফুল ইসলাম (২৪), পিতা-ওমর আলী, সাং-কৈয়ারবিল, থানা-কুতুবদিয়া, জেলা-কক্সবাজার, ৩। মোঃ মিসবাহ্ উদ্দিন (৩২) এবং ৪। মোঃ জিয়াউদ্দিন (২০), উভয়ের পিতা-মোঃ শহীদুল্লাহ, সাং-মনোহরখালী, থানা-কুতুবদিয়া, জেলা-কক্সবাজারদের’কে ঘটনাস্থল থেকে অবৈধ জাল নোট প্রস্তুত করা অবস্থায় আটক করে। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে আটককৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে সকলেই অকপটে স্বীকার করে যে, তারা সংঘবদ্ধ একটি জাল টাকা প্রস্তুতকারক চক্রের সাথে জড়িত মর্মে তাদের হেফাজতে থাকা বিপুল পরিমান বাংলাদেশী জাল নোট প্রস্তুতের কাজে ব্যবহৃত থিংকপ্যাড, ল্যাপটপ, নোটপ্যাড, এলইডি মনিটর, কালার প্রিন্টার, ফটোকপি প্রিন্টার ও অন্যান্য আরও অনেক সরঞ্জামাদি এবং ১০০০ টাকার জাল নোট সম্বলিত ১৬ লক্ষ টাকা উদ্ধারসহ আসামীদের গ্রেফতার করা হয়।
ঘটনার প্রতিপৃষ্ঠে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃতরা সবাই একটি সংগঠিত জাল নোট তৈরি সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য। এই সংঘবদ্ধ চক্রটি দীর্ঘদিন যাবৎ অসৎ উপায় অবলম্বন করে সকলের অগোচরে ও শহর এলাকায় বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অধিক তৎপর থাকায় তারা নিভৃত একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হিসেবে কুতুবদিয়া নামক স্থানটিকে জাল টাকা ছাপানোর জন্য নির্বাচন করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, মোঃ ছাইফুদ্দীন আহাম্মদ মিজান এই অবৈধ জাল নোট সিন্ডিকেটের মূলহোতা। সাইফুল ইসলাম কম্পিউটার বা ল্যাপটপে জাল টাকা গুলো প্রস্তুত করে কালার প্রিন্টারে প্রিন্ট করতো। মিসবাহ্ উদ্দিন জাল টাকাগুলো দেশের বিভিন্ন জেলায় আসল টাকা হিসেবে তাদের চক্রের নির্ধারিত লোকের মাধ্যমে চালানোর ব্যবস্থা গ্রহন করতো এবং মোঃ জিয়াউদ্দিন জাল টাকা প্রস্তুতকালীন সময়ে বর্ণিত স্থানে দোকানের দরজায় পাহারায় নিয়োজিত থাকতো। যাতে কেউ তাদের এই অবৈধ জাল টাকা তৈরীর কাজ সম্পর্কে জানতে না পারে। টাকা ছাপানোর পর তাদের চক্রের নির্ধারিত লোকের মাধ্যমে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় জাল টাকা গুলোকে সু-কৌশলে চালানো হতো।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আসন্ন রমজান ও ঈদুল ফিতরকে উপলক্ষ্য করে মানুষের ক্রয়-বিক্রয় পরিধি বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগে তাদের প্রস্তুতকৃত জাল টাকা গুলো মানুষের মাঝে আসল টাকা হিসেবে চালিয়ে জনগণকে ফাঁকি দিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনই ছিলো তাদের মূল লক্ষ্য। এছাড়াও আরো জানা যায়, তারা এই জাল টাকা ব্যবহার করে মায়ানমার থেকে অবৈধ পথে মাদকদ্রব্য এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয় করতো বলে অকপটে স্বীকার করে।
এমএসএম / এমএসএম
সিদ্ধিরগঞ্জে ভ্যাট ফাঁকির তথ্য সংগ্রহ করায় সাংবাদিককে হুমকি, ৪ দিনেও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ
হীরাঝিল আবাসিক এলাকা সমাজ কল্যাণ সমিতি নিয়ম বহির্ভূত কমিটি গঠনের অভিযোগ
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে লোহাগড়ায় দুই খাল পুনঃখনন উদ্বোধন, ১.১৩ কোটি টাকার প্রকল্প
আত্রাইয়ে গ্রামীণ সড়কের কোর রোড নেটওয়ার্ক ও সড়ক অগ্রাধিকার নির্ধারণ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
ঘোড়াঘাটে গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
নবীগঞ্জে দিনদুপুরে পিস্তল ও রামদা দেখিয়ে একই দিনে দুই শিক্ষিকার স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাই
কুতুবদিয়ায় প্রেমিকের বাড়ির সামনে বিষপান: চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রেমিকার মৃত্যু
যশোরে ‘মামলাবাজ’ চক্রের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন
মহেশখালীতে মাদকবিরোধী মোবাইল কোর্ট, যুবকের কারাদণ্ড
কুড়িগ্রামে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত
পাঁচবিবিতে হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
রাঙ্গামাটিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেল ৩৮ জন যাত্রী