জুড়ীতে পানি আর পানি : নেই বিদ্যুৎ, বন্যার্তদের হাহাকার
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় ক্রমশ বেড়ে চলছে বন্যার পানি। পাহাড়ি ঢল, অতিবৃষ্টি েএবং ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে পুরো উপজেলা এখন পানিতে থৈথৈ। বন্যার পানিতে উপজেলার প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
এদিকে বন্যার পানিতে উপজেলার বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গত দিন ধরে পুরো উপজেলার মানুষ অন্ধকারে রয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পুরো উপজেলায় সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে।। চার্জ না থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে মোবাইল ফোন। ফলে বন্যা আক্রান্ত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। বিদুৎ না থাকায় মোমবাতি জ্বালিয়ে কোনোমতে রাত কাটাচ্ছেন বানভাসি মানুষ। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ইতোমধ্যে মোমবাতির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে অধিক মুনাফা লাভের আশায়। তবে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে যাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা কারসাজি করতে না পারে, সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এছাড়া উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের সাথে উপজেলা সদরের যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি ইউনিয়নে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হলেও বানভাসি মানুষদের আশ্রয় কেন্দ্রমুখী করা যাচ্ছে না। ভানবাসি মানুষ ঘরের ভেতরে বাঁশের মাচা পেতে থাকার পাশাপাশি উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে সরকারিভাবে শুকনা খাবারের পাশাপাশি রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে আশ্রয় কেন্দ্রে না আসা হাজার হাজার বানভাসি মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন।
সরজমিনে বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায়, খাবার, সুপেয় পানি ও পয়োনিষ্কাশন জন্য বন্যার্ত মানুষের মাঝে হাহাকার অবস্থা বিরাজ করছে। এছাড়া বন্যায় গবাদিপশু নিয়ে মানুষ পড়েছে চরম বিপাকে। মানুষ ইতোমধ্যে রেললাইন, সড়কের উঁচু জায়গাসহ ব্রিজে গবাদিপশু নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যার পানিতে নিরাপদ পানির উৎস নলকূপ তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বেশিরভাগ এলাকায় গোখাদ্যের সংকটের পাশাপাশি গবাদিপশু নিয়ে খামারিরা পড়েছেন চরম সংকটে। বন্যার পানিতে উপজেলার অধিকাংশ মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মৎস্যজীবীদের মাথায় পড়েছে হাত। এছাড়াও বন্যার পানিতে উপজেলার কৃষিজমি তলিয়ে যাওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
বেলাগাঁও সামছুল উলুম মাদ্রাসার অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে খোদেজা বেগম (৫৫) বলেন, বন্যার পানিতে ঘরে থাকা মালামাল ফেলে জীবন বাঁচাতে ঘর থেকে বের হয়েছি। কোনো উপায় না পেয়ে পরিবারের ৫ সদস্যকে নিয়ে এ আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছি। তবে এখনো কোনো সহায়তা না পেয়ে দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছি। শুধু বাজার থেকে মুড়ি কিনে এনে খেয়ে কোনোমতে বেঁচে আছি।
বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়া সালেহা বেগম (৬০) পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিনি বলেন, কেউ খোঁজখবর নিতে আসছে না।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বন্যায় উপজেলার ৩ হাজার ২২০ হেক্টর আউশ ধান পানিতে ভেসে গেছে। এছাড়া কৃষকের ধানের বীজতলা ও সবজিক্ষেত পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে।
জায়ফরনগর ইউনিয়নের বেলাগাঁও ও নয়াগ্রাম ওয়ার্ডের সদস্য আবুল কাশেম ও মনিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের ওয়ার্ডে লাশ দাফনেরও কোনো শুকনা মাটি নেই। বন্যায় আমাদের ওয়ার্ডে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। খাবার সঙ্কটে চারদিকে মানুষের মধ্যে হাহাকার চলছে। আশ্রয় কেন্দ্রের পাশাপাশি বন্যার্ত সকল মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া এখন খুব জরুরি।
পশ্চিমজুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনফর আলী বলেন, আমার ইউনিয়নের বানভাসি মানুষের মাঝে ইতোমধ্যে শুকানা খাবারের পাশাপাশি রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সোনিয়া সুলতানা বলেন, আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে শুকনা খাবার পাশাপাশি রান্না করা খাবার বিতরণ শুরু করা হয়েছে।
এমএসএম / জামান
ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে স্থবির কুড়িগ্রামের জনজীবন
রাষ্ট্রীয় শোক দিবস পালনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সাভারে অবস্থিত ভিসন গ্রুপের ১লা জানুয়ারি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পালন
বারহাট্টার বাজারে শীতকালীন সবজি এলেও চড়া দামে হতাশ ক্রেতারা
দোহাজারী রেলস্টেশনে প্রান্তিক কৃষকদের কৃষিপণ্য পরিবহনে লাগেজ কোচ চলাচলের উদ্বোধন
কেশবপুরে কালিয়ারই এস.বি.এল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নতুন বই বিতরণ
জনজীবন চরম দুর্ভোগ: তাপমাত্রা নেমেছে ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে
তাড়াশে বেগম জিয়ার আত্মার শান্তি কামনা করে প্রার্থনা
তারাগঞ্জে আলহাজ্ব আতিয়ার রহমানের জানাজা অনুষ্ঠিত
কুতুবদিয়ায় গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা, ঘাতক আটক
বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিলেন বিএনপি ও জিয়া পরিষদ নেতা অধ্যাপক বি.এম নাগিব হোসেন
ভূরুঙ্গামারীতে বিএনপির উদ্যোগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি
তানোর ও গোদাগাড়ীতে টমেটোর ফলন বিপর্যয়, কৃষকের মাথায় হাত