ঢাকা শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

উদ্বোধনের অপেক্ষায় ফরিদপুরবাসী

স্বপ্নের পদ্মা সেতু, উন্মোচিত হবে নতুন দিগন্ত আর বদলে যাবে জনপদ


এহসান রানা, ফরিদপুর photo এহসান রানা, ফরিদপুর
প্রকাশিত: ২১-৬-২০২২ দুপুর ৪:২৩

ফরিদপুর জেলাকে দেশের মূল ভুখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে প্রমত্তা পদ্মা নদী। দক্ষিণবঙ্গের ১৬ জেলার মানুষ ফরিদপুর হয়ে দৌলতদিয়া ও কাঁঠালবাড়ী ঘাট দিয়ে পার হয়ে রাজধানীতে যেত। আর এই দুটি ঘাট পারাপারে নৌযান সংকটসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতো মানুষকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে পার হতে হতো নদী।

নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে সরকার এরই মধ্যে প্রমত্তা পদ্মার বুকে গড়ে তুলেছে ফরিদপুর তথা দক্ষিণবঙ্গের কোটি কোটি মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতু,  যা জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হবে আগামী ২৫ জুন আর ২৬ জুন থেকে টোল দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু করবে। এমন খবরে বাঁধভাঙা আনন্দ, উচ্ছ্বাসে উচ্ছ্বসিত তারা।  আশায় বুক বাঁধছেন কৃষিপ্রধান এ জেলার কৃষকরাও।

ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, যোগাযোগের সমস্যার কারণে এতদিন এ অঞ্চলে গড়ে ওঠেনি শিল্প-কলকারখানা। তবে এবার সে দুয়ার উন্মোচিত হলো, যা ভূমিকা রাখবে অত্র এলাকায় অর্থনৈতিক উন্নয়নে। সেই সাথে সার্বিক অবকাঠামোতেও। 

প্রাচীন এবং বৃহত্তর জেলা হলেও ফরিদপুরের সাথে রাজধানীর শুধুমাত্র অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণেই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। পাশাপাশি বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থানের তকমা থাকায় আওয়ামীলীগ ব্যতীত অন্যান্য সরকারের সময়ে ছিল অনেকটা অবহেলিত। বর্তমান আ’লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর উন্নয়নের দৃশ্যমান ছোঁয়া লাগতে শুরু করে ফরিদপুরে।  আর এতেই স্বপ্ন দেখা শুরু- এবার পদ্মা সেতুতে ভর করে পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াবে এ প্রাচীন জেলা, এমনটাই দাবি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের।

ফরিদপুরের সফল কৃষি উদ্যোক্তা সাহিদা বেগম জানান , আমি প্রায় ৬০ একর জমিতে বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করে থাকি ।   তার মধ্যে পেয়াজ , পেয়াজের বীজ , গম , ধান ও আম বাগান আছে । আমি পন্য বিক্রয় করে থাকি । পদ্মা সেতু হওয়াতে আমি সহ যত কৃষক আছি আমরা আমাদের উৎপাদিত ফসল দ্রুত সময়ে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠাতে পারবো কোন ঝামেলা ছাড়াই । কারন ঘাটে জ্যামের জন্য অনেক সময় দ্রুত পচনশীল পণ্য পচে যেত কিন্তু এই সেতু হওয়াতে আমাদের এই ভোগান্তি আর পোহাতে হবে না ।  

ফরিদপুর বণিক সমিতির  সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুল আলম জানান , এই সেতুর মাধ্যমে আমাদের স্বপ্ন পুরন হলো । এতে আমাদের জীবন যাপনের মান বৃদ্ধি পাবে এবং ভোগান্তি লাঘব হবে। 

 ফরিদপুর চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মো. মহসিন শরীফ জানান , পদ্মা সেতু উদ্বোধন হলে আমাদের ব্যবসায়ীদের ব্যবসার প্রসার , সেবা ও সুবিধা আরো বাড়বে । সেই সাথে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান, কারখানা তৈরি হবে ফলে দূর হবে বেকারত্ব ।  

স্থাণীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিদের দাবী, পদ্মানদীর কারণে দেশের মূল ভুখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মধন্য এ জেলা অন্যান্য সরকারের সময়েও ছিলো অবহেলিত। বর্তমান সরকারের সময়ের রোপিত হয়েছে উন্নয়নের বীজ।  পদ্মা সেতু এতদাঞ্চল তথা গোটা দেশেরই উন্নয়নের সোপান। 

ফরিদপুর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শামীম হক জানান , অনেক বাধা বিপত্তি, দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র  থাকা সত্ত্বেও স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান । এই অসম্ভবকে  সম্ভব করেছে আমাদের দেশরত্ন ও জাতির জনকের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা । পদ্মা সেতু তৈরি হওয়াতে দক্ষিনাঞ্চল সহ ২১ টি জেলা উপকৃত হবে।   

কানাইপুর ইউপি চেয়ারম্যান ফকির মো. বেলায়েত হোসেন জানান , পদ্মা সেতুর তৈরি হওয়াতে আমাদের অর্থনৈতিক , সামাজিক ও শিক্ষাখাতের অনেক উন্নয়ন হবে ।   
আর প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, পদ্মা সেতু দেশের বৃহত উন্নয়নের মাইল ফলক, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে গোটা দেশে। অলিম্পিক ভিলেজ ও শেখ হাসিনা তাঁত পল্লী নির্মিত হলে এতদাঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটবে। 

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান জানান , মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমাদের নেই । তিনি যদি প্রধানমন্ত্রী না হতেন তাহলে আজীবন দক্ষিনাঞ্চল অবহেলিত থাকতো । 

বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী এনটিকবিডি এর ম্যানেজিং পার্টনার মো মাহবুব আলম মনির জানান , পদ্মা সেতুর কল্যাণে   ফরিদপুরের মানুষ স্বপ্ন দেখছে শিল্পসমৃদ্ধ এক জেলার। ফরিদপুরে ইতিমধ্যে এর দৃশ্যমান অনেক কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করা যাচ্ছে।  অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান জমি কিনে স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেছে।  ফেরিঘাটের দেরি হওয়াতে আগে  সময় লাগতো ২/৩ দিন কিন্তু এখন  তা সল্প সময়ে  চলে আসবে। প্রাকৃতিক গ্যাসের সংযোগ সুবিধা পেলে জনগন এর সুফল ভোগ করবে।  এছাড়া কর্ম সংস্থানের সুযোগ বাড়বে। এতে সবাই  ব্যবসায়ীক, সামাজিক ও আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। আর  এসব বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য ।   

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার জানান, সেতুকে কেন্দ্র করে এ জেলায় অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের উম্মোচন হবে। পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের পর ১ দশমিক ২৩ শতাংশ হারে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিডিপি বাড়বে ২ দশমিক ৩ শতাংশ।
তিনি বলেন, ইতিমধ্যে সেতুকে কেন্দ্র করে ফরিদপুর-মাদারীপুর সীমান্তবর্তী এলাকায় অলিম্পিক ভিলেজ, শেখ হাসিনা তাঁত পল্লী তৈরি হচ্ছে, ভাঙ্গায় বঙ্গবন্ধু মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে। এ জেলার প্রতিটি  এ জেলার প্রতিটি জায়গায় অর্থনৈতিক উন্নয়নের ছোঁয়া লাগছে।  

এমএসএম / জামান

হামের উপসর্গ নিয়ে রাজশাহী মেডিকেলে মারা যাওয়া শিশুর সংখ্যা বেড়ে ৫০

শেরপুর-৩ আসনে তিন গুণ বেশি ভোটে বিএনপির রুবেল জয়ী

ধুনটে সড়ক নির্মাণকাজ ঘুরে দেখলেন  এমপি পুত্র আসিফ সিরাজ রব্বানী

বগুড়া-৬ আসনে বিপুল ভোটে বিএনপির বাদশা জয়ী

মাদারীপুর পৌরসভায় প্রকল্প বাস্তবায়নে আরইউটিডিপি কর্মশালা সম্পন্ন

বড় খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, নিয়মিত করদাতাদের জন্য সহজ সুবিধা

গোদাগাড়ীতে ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

ভূরুঙ্গামারীতে ৪৭ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ২০২৬ এর সমাপনী অনুষ্ঠান

বিলাইছড়িতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা

চাঁদপুরে মাদকসহ সরঞ্জামাদি জব্দ, একজনের কারাদণ্ড

গোদাগাড়ীতে আদিবাসী নারী ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ১

বকশীগঞ্জে নবাগত ইউএনও’র সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময়,

তেঁতুলিয়ায় পুলিশের মাথা ফাটিয়ে পলাল গরু চোর