গ্রামে ঘরে ঘরে চলছে পিঠা তৈরীর ধুম
শীত মানেই বাহারি স্বাদের পিঠা-পুলি। বাঙালির খাদ্য সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য স্মৃতির স্মারক শীতের পিঠা-পুলি। শীত এলেই যেন বেড়ে যায় হরেক রকের সুস্বাদু পিঠার বাহারী আয়োজনের ব্যস্ততা। গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে ধুম পড়ে যায় পিঠা বানানোর।
কুয়াশা মোড়ানো শীতের ভোর বা সন্ধ্যায় হিমেল হাওয়ায় ধোয়া উঠা ‘ভাপা’ পিঠার স্বাদ না নিলে যেন বাঙালির অতৃপ্তি কাটেই না। নিজেদের আদি ঐতিহ্য অব্যাহত রাখতে রায়গঞ্জ উপজেলাসহ সিরাজগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামের ঘরে ঘরে চলছে পিঠা তৈরীর ধুম।
মেয়ে- জামাইসহ অন্যান্য দূরবর্তী আত্মীয়দের দাওয়াত করে পিঠা খাওয়ানোর রেওয়াজ সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের মানুষের বহু প্রাচীন। শুধু গ্রামের বাড়িতে নয়,গ্রামের আনাচে কানাচে গড়ে ওঠা দোকানগুলোতেও কিন্তু পিঠা তৈরির ধুম পড়ে গেছে।
ক্রেতাদের চাহিদার কারণেই বিভিন্ন জনবহুল স্থানে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা ভাপা পিঠার পাশাপাশি চিতই পিঠা, তেল পিঠার দোকান নিয়ে বসেছেন। শীতের সকাল কিংবা সন্ধ্যায় হাওয়ায় ভাসছে এসব পিঠার ঘ্রাণ।
একসময় প্রায় অর্ধশত রকমের পিঠার প্রচলন ছিল রায়গঞ্জে কিন্তু আধুনিকতার যাতাকলে আর রুচি পরিবর্তনের ফলে হারিয়ে গেছে অনেক পিঠার নাম।তবে একেক অঞ্চলে রয়েছে একেক রকম পিঠা। রয়েছে আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য। আবার একই পিঠা একেক এলাকায় একেক নামে পরিচিত। ভাপা পিঠা, নকশি পিঠা, চিতই পিঠা, দুধ পুলি, রস পিঠা,দোলে পিঠা, পাটিসাপটা পিঠা, তেল পিঠা, পানতোয়া, মালাই, ক্ষীরকুলি,ঝালপোয়া, ঝুরি,ঝিনুক, সূর্যমুখী, নারকেলি, ভাজা পুলি, দুধরাজ ইত্যাদি পিঠা।
নয়া খেঁজুর গুড়, আর নতুন চালের গুঁড়া দিয়ে তৈরি হয় এসব পিঠা। গরম পানির ভাপে এ পিঠা তৈরি হয় বলে এর নাম হয়েছে ভাপা পিঠা। পিঠাকে মুখরোচক করতে গুড় আর নারিকেলের সাথে সামান্য পরিমাণ লবন মেশানো হয়। এতেই স্বাদ বাড়ে বলে জানিয়েছেন দোকানীরা।
শীতের এই সময় গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে মেয়ে-জামাতা, বিয়াই-বিয়াইনসহ বিভিন্ন আত্মীয় স্বজন এবং দূর-দুরান্তের অবস্থান করা পরিবারের সদস্যদের মাঝে এক অঘোষিত পিঠার নিমন্ত্রণের রব পড়ে যায়।উপজেলার পশ্চিম লক্ষিকোলা এলাকার জাকিয়া বেগম বলেন, “শীতের পিঠা খাওয়াতে মেয়ে ও জামাতাদের দাওয়াত করে এনেছি। ছেলে চাকুরী ও পড়াশোনা সূত্রে ঢাকায় থাকে। তাকেও ফোন করে বাড়িতে এনেছি। সবাই মিলে একসাথে পিঠা না খেতে পারলে মনটা কেমন করে”।
চালের গুড়ার আটা গুলিয়ে তাওয়ায় বসিয়ে দিয়ে তৈরি করা হয় মজাদার চিতই পিঠা। চাটনি, ধনে, কাঁচা মরিচ, সরিষা বাটা ও গুঁড় দিয়ে দোকানীরা পরিবেশন করেন বলে জানালেন রায়গঞ্জ পৌর বাসস্ট্যান্ডের পিঠা বিক্রেতা সবুজ মিয়া।
আকার এবং প্রকারন্তে প্রতিটি পিঠা বিক্রি হয় ৫ ও ১০ টাকায়। তেল পিঠা তৈরিতে নতুন চালের গুঁড়া পানিতে গুলিয়ে তেলে ভেজে নিয়ে তৈরি করা হয় তেল পিঠা। কম পুঁজিতে যে কোন স্থানে সহজে বাজারজাত করা যায় বলে অনেক ক্ষুদ্র ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা এসব পিঠার দোকান করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
শীত আসে যেন মেলা বসে পিঠার, শীত যায় প্রতিক্ষায় থাকে আগামী শীতের। যতদিন প্রকৃতিতে শীত থাকবে ততদিন বাঙালির রসনা তৃপ্তিতে থাকবে এসব মজাদার পিঠার আয়োজন। এককথায় সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের ঘরে ঘরে এখন চলছে পিঠা তৈরীর ধুম।
এমএসএম / এমএসএম
হাটহাজারীতে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে দুস্থদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে ছিনিমিনি খেলার ষড়যন্ত্র এদেশের মানুষ হতে দেবে না
মুকসুদপুর রাতের আঁধারে বসতবাড়ির দেয়াল ভাঙচুর ও গাছ কাটার অভিযোগ
কুমিল্লা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মাদক ও মোবাইল ফোন জব্দ
তাড়াশে ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন এমপি ভিপি আয়নুল হক
বড়লেখায় ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ, স্মারকলিপি প্রদান
দেশে খাল খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি এবি পার্টির
নওগাঁয় বাসের ধাক্কায় যাত্রী নিহতের ঘটনায় সড়ক অবরোধ
ঈদের আনন্দে মুখর ধামরাইয়ের আলাদীনস পার্ক, দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়
বাগেরহাট খান জাহান (রঃ) মাজার দীঘির কুমিরে নেয়া শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার
জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হলেন মোহাম্মদ মহসীন
গোদাগাড়ীতে ৪০০ দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে ৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ বিতরণ